Untitled-57পর্ব: ০৭

রিয়াদুল হাসান: 

শক্তিপ্রয়োগের বিকল্প পথ খুঁজছে পশ্চিমা বিশ্ব:
যুক্তরাষ্ট্র এ যুদ্ধে কি কল্পনাতীত পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে চলেছে তার পরিসংখ্যান একটু আগেই দিলাম। তাদের মত মহাশক্তির পক্ষেও আর সম্ভব হচ্ছে না এ যুদ্ধ বেশি দিন চালিয়ে যাওয়া কারণ যুদ্ধের সীমাহীন ব্যয় মেটাতে গিয়ে তাদের আভ্যন্তরীণ অবস্থাও দিন দিন আরো সংকটজনক হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রবাহিনী শক্তি প্রয়োগের (Violence) বিকল্প পথ খুঁজছে। ২০০৭ এর গোড়ার দিকেই মার্কিন নেভাল পোস্টগ্রাজুয়েট স্কুলের সমর বিশেষজ্ঞ মি. আরকুইলা ক্রমবর্দ্ধমান সন্ত্রাসী হামলার পরিসংখ্যান সম্পর্কে বলেছিলেন যে, “These statistics suggest that our war on global terrorism is not going very well. It suggests we need to try a new approach.”
অর্থাৎ– এ পরিসংখ্যান আমাদেরকে বলে দেয় যে, বিশ্বব্যাপী যে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ আমরা শুরু করেছি তার অবস্থা খুব ভালো নয়। এ পরিসংখ্যান আরো বলে যে এখনই আমাদের বিকল্প কোন পথে চেষ্টা চালানো দরকার। ১১ অতি সম্প্রতি ব্রিটিশ সেনা সর্বাধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার মার্ক কার্লটন স্মিথ ব্রিটিশ নাগরিকদেরকে যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করতে গিয়ে বলেন যে, “The war against the Taliban cannot be won. British public should not expect a ‘decisive military victory’ but should be prepared for a possible deal with the Taliban. অর্থাৎ- তালেবানদের সাথে যুদ্ধ করে জেতা যাবে না। তাই ব্রিটিশ নাগরিকদের এ যুদ্ধে চূড়ান্ত জয় আশা করা ঠিক হবে না, বরং তালেবানদের সাথে সম্ভাব্য কোন আপোষ-মীমাংসায় আসা হতে পারে এমনটি দেখার জন্যই তাদের প্রস্তুত থাকা উচিত হবে। ১২ অর্থাৎ তিনিও যুদ্ধ ছাড়াও বিকল্প পথের কথা ভাবছেন। এমন কি ২৮ মার্চ, ০৯ তারিখে স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তার নতুন রণকৌশল (New Strategy) প্রসঙ্গে বলেন, A campaign against extremism will not succeed with bullets or bombs alone. অর্থাৎ চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে শুধু বুলেট ও বোমা দিয়ে সফল হওয়া যাবে না।১৩
যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মত মহা পরাশক্তি সন্ত্রাস দমন করতে পারছে না এবং শক্তি প্রয়োগের বিকল্প পথ চিন্তা করছে সেখানে আমাদের মত দরিদ্র দেশের সাফল্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার কোন অবকাশ নেই। আর যুক্তরাষ্ট্র এ অভিযানে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে আমাদের পক্ষে তার লক্ষ ভাগের এক ভাগ অর্থও ব্যয় করা সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতিতে আমরা কি এখনও শক্তি প্রয়োগের পথে সন্ত্রাসীদেরকে দমনের চেষ্টা চালিয়ে যাব, নাকি আমাদেরও উচিত বিকল্প পথের অনুসন্ধান করা? 
বিকল্প পথ আছে কি?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পৃথিবীতে মুসলিম বলে পরিচিত ১৫০ কোটির যে জনসংখ্যাটি আছে তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আন্তরিকভাবে চায় যে তাদের জীবনে আল্লাহর দেওয়া জীবন-বিধান প্রতিষ্ঠিত হোক। ইসলামী জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য তারা এমনভাবে অনুপ্রাণিত (Motivated) ও সংকল্পবদ্ধ (Determined) যে তারা আল্লাহর রাস্তায় নিজেদেরকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করে দিয়েছেন। তারা কোন পার্থিব স্বার্থে এ পথ বেছে নেন নি। তারা আল্লাহকে, আল্লাহর রসুলকে ভালোবাসেন ও পরকালে বিশ্বাস করেন। তারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করতে পারলেই তারা চূড়ান্ত সফল, এর বিনিময়ে তারা আখেরাতে জান্নাতে যেতে পারবেন। এজন্য তারা শরীরে বাঁধা বোমা ফাটিয়ে নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন করে প্রাণ বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠিত হচ্ছেন না, এবং এমন লোকের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলছে। প্রকৃত ইসলাম সম্পর্কে তাদের ধারণা (আকিদা) ভুল ও বিকৃত হওয়ার কারণে তারা বুঝতে পারছেন না যে, তারা যে সন্ত্রাসের পথ গ্রহণ করেছেন সেই পথে চললে তারা দুনিয়াও পাবেন না, আখেরাতও পাবেন না অর্থাৎ দুই কূলই হারাবেন। যতদিন তারা তাদের এই ভুল না বুঝতে পারবেন ততদিন শক্তি প্রয়োগ করে বড়জোর তাদের কার্যক্রমকে কিছু সময়ের জন্য স্তিমীত করা যেতে পারে, বন্ধ করা যাবে না। তার প্রমাণ হচ্ছে ২০০২ সালে আমেরিকা যখন আফগানিস্তান আক্রমণ করল মাত্র কিছুদিনের মধ্যে তালেবানরা ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে পালিয়ে গেল। আমেরিকা সেখানে তার অনুগত সরকার নিয়োগ দিল এবং দাবি করল, আফগান যুদ্ধে তালেবানরা চূর্ণ-বিচূর্ণ (Crushed) হয়ে গেছে, তারা আর দাঁড়াতে পারবে না। তাদের এ কথা বাকী বিশ্ব মেনে নিল। অথচ তার সাত বছর পর এসে আমেরিকা ও ব্রিটেনের সেনাপ্রধান থেকে শুরু করে প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত সবাই এখন বলছেন, আফগানিস্তানে তালেবানদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব নয়, তাই তারা সেখান থেকে চলে আসার পথ খুঁজছেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে উল্লেখিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাত বছর আপ্রাণ যুদ্ধ চালিয়ে আজ মহা পরাশক্তিগুলি কার্যতঃ তাদের হার স্বীকার করে নিচ্ছে এবং সেখান থেকে চলে আসার পথ খুঁজছে। ২০০৩ সালে ইরাক জয় করার কিছুদিন পরই যুক্তরাষ্ট্রের বিগত প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সদম্ভে ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরাক যুদ্ধ শেষ। আজ ছয় বছর পরও সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় নি, প্রতিদিনই সেখানে গোলাগুলী, বোমাবাজি ও আত্মঘাতী বোমা হামলা চলছেই। এই ১২ এপ্রিলও সন্ত্রাসীদের হামলায় সেখানে পাঁচজন আমেরিকার সৈন্য নিহত হয়েছে।
তাহলে বোঝা গেল সন্ত্রাসদমনের একটি মাত্র উপায় আছে, তা হলো- সন্ত্রাসীদেরকে যদি কোর’আন হাদিস থেকে যুক্তি ও প্রমাণ দিয়ে বুঝিয়ে দেওয়া যায় যে তাদের পথটি ইসলাম প্রতিষ্ঠার পথ নয় এবং এ পথে জীবন দিয়েও জান্নাতে যাওয়া যাবে না একমাত্র তাহলেই তারা সন্ত্রাসের এই পথ ত্যাগ করবেন। এর আর কোন বিকল্প নেই। তারা যে ভুল পথে আছেন তা তাদেরকে বোঝানোর জন্য কোর’আন ও হাদিসভিত্তিক যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য, প্রমাণ ও যুক্তি আমাদের হাতে আছে। এগুলি তাদেরকে বোঝাতে পারলে আশা করা যায় তারা সন্ত্রাসী পথ ত্যাগ করবেন।

অতএব আমাদের প্রস্তাবনা হচ্ছে…
আপনারা আপনাদের পছন্দনীয় কোন স্থানে আপনাদের হাতে গ্রেফতারকৃত ইসলামী সন্ত্রাসবাদী দলগুলোর মধ্য থেকে আপনাদের পছন্দমত বাছাই করা ব্যক্তিগণকে একত্রিত করবেন। তারা কারা হবেন এবং সংখ্যায় কতজন হবেন তা আপনারাই স্থির করবেন। আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব আমাদের কাছে থাকা সকল যুক্তি, তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে তাদেরকে বোঝানোর জন্য যে বোমা মেরে, গুলি করে মানুষ হত্যা করে দেশ ও সমাজের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করে ইসলাম বা শান্তি আনা যাবে না। আমাদের হাতে থাকা কোর’আন ও হাদিসভিত্তিক যুক্তিগুলি তাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারলে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে সম্পূর্ণ না হলেও তাদের অধিকাংশই সন্ত্রাসের পথ ত্যাগ করে শান্তিপূর্ণভাবে মানুষকে যুক্তি-প্রমাণ দিয়ে বুঝিয়ে শান্তির ধর্ম ইসলামের পথে আনার চেষ্টা করবে। আমরা যখন তাদেরকে বোঝাবো তখন প্রয়োজন হলে আপনার প্রতিনিধিরা সেখানে থাকবেন, তারা শুনবেন আমরা সন্ত্রাসীদেরকে কি বলি, কি বুঝাই। সেখানে আপনাদের যতসংখ্যক ইচ্ছা নিরাপত্তাকর্মী রাখবেন। ইচ্ছা হলে আমাদের বক্তব্য রেকর্ড করবেন।
এই উদ্যোগে যদি কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসে তবে যারা এখনও গ্রেফতার হয় নি কিন্তু সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং অন্যান্য যারা সন্ত্রাসী পথ অবলম্বন করার চেষ্টা করছে, আমাদের কাছে থাকা তথ্য, যুক্তি ও প্রমাণ প্রকাশ্যে প্রচার করলে তারাও অবশ্যই তাদের ভুল পথ পরিত্যাগ করে শান্তির পথে আসবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার এ প্রস্তাবনা কোন রাজনৈতিক বা অন্য কোন উদ্দেশ্য-প্রণোদিত নয়। জাতির একটি অংশ আজ বিপথগামী হয়ে নিরীহ মানুষজনকে হত্যা করছে এবং নিজেদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। এটা আমায় ব্যথিত করে দিয়েছে বলেই আপনার কাছে আমার এই অকপট ও আন্তরিক নিবেদন। আমি আশা করছি, নিরীহ মানুষের প্রাণ ও সম্পদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমার এ প্রস্তাবনাটি আপনি বিবেচনা করে দেখবেন। আপনার উত্তরের অপেক্ষায়।
ধন্যবাদান্তে,
(মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী)
প্রতিষ্ঠাতা ও এমাম: হেযবুত তওহীদ

মাননীয় এমামুয্‌যামান এই প্রস্তাবনা পেশ করেছিলেন ৪ বছর আগে। সর্বোচ্চ বল প্রয়োগেও বা অর্থব্যয় করে যে জঙ্গিবাদ দমন সম্ভব নয় সেটা এখন আর বিতর্কের বিষয় নেই, সেটা এখন স্বীকৃত বাস্তবতা। প্রাচীন চীনা সমরবিদ ও সেনানায়ক সান যু (Sun Tzu) বলেছিলেন, “To fight and conquer in all your battles is not supreme excellence; supreme excellence consists in breaking the enemy’s resistance without fighting. অর্থাৎ “যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয় লাভ করাই চূড়ান্ত শ্রেষ্ঠত্ব নয়, শত্রুর প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বিনা যুদ্ধে তছনছ করে দেওয়ার মধ্যেই নিহিত থাকে প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব। আদর্শিক লড়াই (The Battle of Ideas) হচ্ছে শত্রুর প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বিনা যুদ্ধে তছনছ করে দেওয়ার একটি কার্যকরী পদ্ধতি।
আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কেবলমাত্র মানবতার কল্যাণে আমাদের দেশকে (এবং মানবজাতিকে) জঙ্গিবাদের হুমকি থেকে মুক্ত করার দায়িত্ব গ্রহণ করতে চাই। আমরা সুস্পষ্টভাষায় বলে দিচ্ছি, যে আদর্শে দিক্ষিত হয়ে মানুষ বুকে বোমা বেঁধে আত্মঘাতী হয় সেই পদ্ধতিকে ভুল প্রমাণ করতে যে শক্তিশালী যুক্তি (Anti-Logic), তথ্য ও প্রমাণ প্রয়োজন তা আছে কেবল এবং কেবলমাত্র হেযবুত তওহীদের কাছে। তাই জঙ্গিবাদ দমন হেযবুত তওহীদ ছাড়া সম্ভব না।
জঙ্গিদমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলি নির্ভর করছে আলেম শ্রেণিটির উপর। আমাদের দেশের সরকার এ ব্যাপারে নির্ভর করছেন মাদ্রাসা শিক্ষিত মসজিদের এমাম আর বিভিন্ন সরকারি ধর্মীয় গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানের উপর। (চলবে)

তথ্যসূত্রসমূহ:

১১। 01/05/2007, New York Times, Internet

১২। ১৪ মার্চ, ২০০৯, ইন্টারনেট, www.paktribune.com

১৩। বিবিসি, The STAR, 3 April, 2009

352 thoughts on “জঙ্গিবাদ: স্রষ্টা পশ্চিমা বিশ্ব, শিকার মুসলিম বিশ্ব

  1. online levitra 20m

    7cf0 online with prescription uk

    7cf0 effet du online generique 5 mg

    7cf0 how to try online for free

    7cf0

Leave a Reply

Your email address will not be published.