নির্ধারিত স্থান বাদ দিয়ে রাস্তা-অলিগলিতে পশু কোরবানি

স্টাফ রিপোর্টার:

দূষণ এড়াতে পশু কোরবানির জন্য স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিল সিটি করপোরেশনগুলো। কিন্তু ঈদুল আজহার দিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বেশির ভাগ পশু কোরবানি করা হয়েছে রাস্তায়, অলিগলিতে কিংবা আশপাশের খোলা জায়গায় বা মাঠে। সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্থান যাদের বাড়ির সামনে পড়েছে কেবল তারা সেখানে পশু কোরবানি করছেন।

সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও এবং শাহজাহানপুরসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকাগুলোতে। এদিকে কয়েক বাড়িতে দেখা গেছে ভিন্নচিত্র। তারা তাদের বাড়ির পার্কিংয়ে গরু কোরবানি দিয়েছেন। গরু কাটা শেষে সেখানে তারা পানি দিয়ে পরিষ্কারও করেছেন।

ঈদের আগে সচিবালয়ে এক সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬০২টি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৪৩টি, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ২১০টি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩১৪টি এবং খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় পশু কোরবানির জন্য ১৬৩টি, বরিশাল সিটি করপোরেশনে ১৩৫টি, সিলেট সিটি করপোরেশনে ৩৬টি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ১৮৩টি, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ১৯০টি, রংপুর সিটি করপোরেশনে ১১৭টি এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ৪৪৩টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে রাজধানীর অলিগলিতে যত্রতত্র পশু জবাই করায় রক্ত ও পশুবর্জ্য ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

বনশ্রীর বাসিন্দা সালেহ হোসেন বলেন, নির্দিষ্ট স্থান অনেক দূরে। সেখানে জবাই করে বাসায় নিবো কি করে? নিজেদের বাসার সামনে জবাই করে আমরা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে দিচ্ছি। বাকি বর্জ্য মিউনিসিপালের লোক নিয়ে যাবে। খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আকরাম খান বলেন, বাড়ির সামনে জবাই করলে পুরো পরিবার উপভোগ করে। কিন্তু নির্ধারিত স্থানে করলে তো সেটা হয়না। আর বাড়ির সামনে কোরবানি দেওয়া একটা রেওয়াজও বটে।

এদিকে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণে কাজ করছে নগর কর্তৃপক্ষ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কারপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। যত্রতত্র কোরবানির পশু জবাইয়ের কারণে পরিবেশ দূষণ এড়াতে এবার ১১টি সিটি করপোরেশন এলাকায় দুই হাজার ৯৫৪টি স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬২৫টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৪৯টি স্থান। তবে বরাবরের মতই নগরজুড়ে রাস্তা ও অলিগলিতে পশু জবাইয়ের দৃশ্য দেখা গেছে দুপুর পর্যন্ত।

সিটি করপোরেশনের হিসাবে এবার ঢাকায় প্রায় পাঁচ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে। এসব পশুর বর্জ্য সরিয়ে নিতে মাঠে রয়েছেন দুই সিটি করপোরেশনের প্রায় ৩০ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী। বর্জ্য অপসারণের সুবিধার জন্য ঢাকার দুই করপোরেশন মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ পলিব্যাগ দিয়ে রেখেছে নাগরিকদের। পাশাপাশি জরুরি যোগাযোগের জন্য চালু করা হয়েছে হটলাইন।