বগুড়া প্রতিনিধি:

বগুড়ার পরিবহন মালিকদের সংগঠন বগুড়া মটর মালিক গ্রুপের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি ছাড়া বগুড়া জেলা মোটর মালিক গ্রুপের কার্যনিবাহী কমিটির নাম ব্যবহার করে অন্যদের যে কোনো ধরণের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে উচ্চ আদালত। একই সাথে বিদ্যমান আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচন করাসহ সকল ধরণের কার্যক্রম পরিচালনারও নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার বগুড়া মটর মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে। বিদ্যমান কমিটির আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মোহন সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য উপস্থাপন করে বক্তব্য রাখেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন গত ১৬ আগস্ট সমিতির সাধারণ সভায় গঠিত নির্বাচন বোর্ডের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময় আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরাসহ পরিবহন মালিকগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বগুড়া মটর মালিক গ্রুপ নিয়ে দু’টি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি স্বার্থন্বেষী মহল, শ্রমিক এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টহীন ব্যক্তিদের দিয়ে পেশীশক্তি প্রদর্শন করে পরিবহন সেক্টরকে নিজেদের করায়ত্ব করার চেষ্টা করছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে সাধারণ মালিকদের ভয়ভীতি ও গাড়ির চেইন আউট করার হুমকি দেয়ার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়।

শহরের রাজাবাজারে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ১৬ আগস্ট জেলা মোটর মালিক গ্রুপের বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বানের পর একটি পক্ষ সমিতিকে কুক্ষিগত করতে তৎপর হয়ে ওঠে। তারা সাধারণ সভার নোটিশ দেখে তড়িঘড়ি করে তলবী সভা ডাকে। সেখানে প্ররোচিত কিছু মালিক উপস্থিত থাকলেও শ্রমিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন ধরনের লোক সমাগম করে। সেখানে মনগড়া একটি কার্য নির্বাহী কমিটি তারা ঘোষণা করেন। দুই কমিটির বিষয়টি নজরে এলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ সমিতি এক বৈঠক করে রাজশাহী জেলা মোটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মনজুর রহমান পিটারকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি নির্বাচন মনিটরিং কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির প্রধান আহ্বায়ক হিসাবে একটি জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান করেন। সেখানেও পৃথক একটি কমিটি ঘোষণা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। এ কারণে বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মঞ্জুরুল আলম মোহন উচ্চ আদালতে যান। আদালত গত ১৮ সেপ্টেম্বর ওই আদেশ প্রদান করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া মটর মালিক গ্রুপের বর্তমান আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোহন জানান, তথাকথিত তলবী সভা বা জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান করা সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক ও অবৈধ। এমন অবৈধ কর্মকা-ের মাধ্যমে পরিবহণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণœ করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। পরিবহণ মালিকদের স্বার্থরক্ষায় অ্যাডহক কমিটি সাধারণ মালিকদের সঙ্গে নিয়ে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে। তিনি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রশাসন ও মালিক-শ্রমিকদের সহযোগিতা কামনা করেন। পরে নির্বাচন বোর্ডের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। এই তফসিল অনুযায়ী আগামী ৮ ডিসেম্বর সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।