সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

গোপনে অসহায়দের ত্রাণ দিতে এগিয়ে আসলেন ইউএনও চিত্রা শিকারী

তারাকান্দা প্রতিনিধি:
সারাদেশব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার ঠেকাতে সরকারের দেয়া নির্দেশের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে তারাকান্দা উপজেলার অসংখ্য দিনমজুর থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।ইতিমধ্যে সরকারী সহায়তার অংশ হিসেবে কর্মহীন নিম্নআয়ের মানুষদের দেয়া হয়েছে খাদ্য সহায়তা। যা সরকারী, বেসরকারি, ব্যাক্তি উদ্যোগ বা মাননীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া।

দুঃস্থ-অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মতোই অভাব অনটনের মধ্যেদিয়ে দিনাতিপাত করছেন উপজেলার অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন। যাদের অনেকেই খাদ্য, অর্থকষ্টে ভোগলেও সামাজিক মান মর্যাদা ও লোকলজ্জার কারণে তাদের অভাবের বিষয়ে কারও কাছে হাতপাতা বা অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে পারছেন না।

মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকদের এমন পরিস্থিতি বুঝতে পেরেই তারাকান্দায়‘মধ্যবিত্ত শ্রেণিদের মানবিক সহায়তা’র অংশ হিসেবে গোপনে নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) চিত্রা শিকারী।

নিজের ব্যাক্তিগত ও উপজেলা প্রশাসন তারাকান্দার অফিসিয়াল ফেইসবুক পেজে এমন ঘোষণা দিয়ে ইতিমধ্যে সচেতন মহলের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। গুগল এ্যাপসের মাধ্যমে কনটেন্ট বানিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি সবার কাছে তালিকা চেয়েছেন এবং গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে বলে জানান।

তিনি তার ব্যাক্তিগত ও অফিসিয়াল পেইজে লিখেছেন ‘বর্তমান করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ পরিস্থিতিতে আপনি যদি কর্মহীন হয়ে পড়েন, আপনার বাসায় খাবার সংকট থাকলে এবং সবার সামনে আপনি খাদ্য সহায়তা নিতে বিব্রতবোধ করলে অনুগ্রহ করে আমাকে প্রদত্ত ফরমটি পূরণ করে দিন বা এসএমএস করুন অথবা ফোন দিন। পরিচয় গোপন রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা আপনার বাসায় পৌছে দেয়ার চেষ্টা করব।’ইতিমধ্যে তার প্রমাণ দেখা গেছে যে গাঁলাগাও সহ বেশ ক’টা ইউনিয়নে।

এ বিষয়ে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার চিত্রা শিকারী বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি পর্যায়ে দরিদ্রদের খাদ্য সহায়তা দেয়া অব্যাহত রাখছে। কিন্তু সামাজিক মান-মর্যাদা ও লোকলজ্জার কারণে মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন খাদ্য সঙ্কটে ভুগলেও তারা প্রকাশ্যে সাহায্য গ্রহণে কুন্ঠিত বা লজ্জিত হচ্ছে। সে চিন্তা থেকেই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজনের সামাজিক মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।খাদ্য সহয়তা বাড়িতে নিজে অথবা ওনার ফর্মুলায় তৈরী করা “তারাকান্দা কোভিড ফাইটার্স টিম” নামক স্বেচ্ছা-সেবকদের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে। বৈশ্বিক এ মহামারী আজ সকল কে এককাতারে নামিয়ে এনেছেন তার মাঝে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে যেখানেই সমস্যা, যেখানেই অনিয়ম সেখানেই ত্বরিৎগতিতে দিনরাত ছোটে চলেছেন এই কর্তব্যনিষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আর প্রতিনিয়ত প্রশংসায় ভাসছেন তারাকান্দা উপজেলার আপামর জনসাধারণের। তার দেশের ও দায়িত্বশীল কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন মনে রাখবে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাজারে মূল্যনিয়ন্ত্রণ বা বাজার ব্যবস্থাপনা, হোম কোয়ারেন্টাইন, লকডাউন, জরুরী চিকিৎসা, ত্রাণ বিতরণ, গণ সচেতনতার ক্ষেত্রে তার জিরো টলারেন্স নীতি এক কথায় প্রশংসণীয়।

তার কাজ নিয়ে স্ব-মূল্যয়ন করতে বললে তিনি বলেন, “প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি হিসেবে দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করা আমার নৈতিক দায়িত্ব।করোনা নিয়ে আসলে আমরা এখনো সফল নই। মানুষকে ঘরে ঢোকাতে পারিনি চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি নিজেকে কোভিড ফাইটার মনে করিনা। আরও কি কি করা যায় আমাকে সবাই সাজেস্ট করবেন, আসলে আমি এত প্রশংসার দাবিদার নই। আপনাদের ভালোবাসা আর যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারলেই আমি খুশি। সেটাই আমার শক্তি ও কাজের প্রতি বেশি মনোনিবেশ করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে।অতিদ্রুত সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সারাবিশ্ব করোনা মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক হবে এ আশাবাদ করি।”

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.