সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

চিঠিপত্র

অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপর হওয়া হামলাটি সম্পর্কে আমার মতামত হচ্ছে, প্রথমত এটি স¤পূর্ণ বে-আইনী একটি কাজ। আমাদের দেশের প্রচলিত আইনে এ ধরনের কাজ করলে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। সেই শাস্তি তাকে দিতে হবে এবং এর ইন্ধনতাদাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, হামলাকারী ফয়জুর রহমান অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালকে ইসলামের শত্রু আখ্যা দিয়ে হত্যার প্রয়াস করেছে সেটা ইসলাম সমর্থন করে না।
পূর্বেও এমন অনেকগুলো ঘটনা এদেশে ঘটেছে। ধর্মের ভ্রান্তব্যাখ্যা দ্বারা প্রভাবিত, পথভ্রষ্ট একটি গোষ্ঠী তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য যে কাউকে নাস্তিক, মুরতাদ ইত্যাদি ফতোয়া দিয়ে ধর্মবিশ্বাসী তরুণদের ধর্মীয় চেতনার অপব্যবহার করে এসব ন্যাক্কারজনক কর্মকা- ঘটায়। সাম্প্রদায়িক হুজুগ সৃষ্টি করে দাঙ্গা আর চাপাতি দিয়ে ভিন্নধর্মের মানুষ হত্যার এই ধারাবিকতা আমাদের সমাজকে ক্রমেই বিপর্যয়ের দিকে দিকে ধাবিত করছে। এসকল অন্ধত্বের শেষ পরিণতিই হচ্ছে ইরাক সিরিয়া আফগানিস্তানের মতো দেশগুলো।
যদি কেউ ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তি করেও থাকে তবে ইসলামে এর প্রতিবিধানও রয়েছে। একটি ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কখনওই বিচ্ছিন্নভাবে কাউকে হত্যা করে ইসলামের বিধান কার্যকর করতে পারে না। যে কোনো রাষ্ট্রীয় বিধান বা অপরাধের দ- কার্যকর করতে পারে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ সরকার। রসুল রাষ্ট্রনায়ক না হয়ে কোনো যুদ্ধও করেন নি, কোনো বিচারকার্যও করেন নি। তাহলে জঙ্গিবাদীরা কী করে আল্লাহ-রসুলের নাম করে এমন কাজ করতে পারে? একটাই কারণ, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা সম্পর্কে জাতীয় অজ্ঞতা। এর সুযোগ নিয়েই চলছে অপব্যাখ্যা আর বিভ্রান্তির প্রসার। এ থেকে মুক্তির একটাই পথ, ইসলামের সঠিক শিক্ষার ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটানো।
-ইউনুস প্রধান, চাঁদপুর

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.