সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

ট্রাম্প ক্যাম্পে প্রথমবারের মত পরাজয়ের সুর

0

এর আগে শুক্রবার এক বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘পরাজিত হতে পারেন’ বলে এক বিরল স্বীকারোক্তি দেন, জানিয়েছে বিবিসি। এদিন ট্রাম্প প্রথমবারের মত বলেন, হার-জিত কিংবা ড্র, সব ব্যাপারেই তিনি নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবেন।

নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগের সব জনমত জরিপে হিলারির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয়ভাবে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি ‘ব্যাটেল গ্রাউন্ড’ হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যগুলোতেও ট্রাম্প ডেমোক্রেট প্রার্থীর তুলনায় পিছিয়ে আছেন বলে জরিপগুলোতে বলা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসোসের শুক্রবার প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, হিলারি তার প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় চার পয়েন্ট এগিয়ে আছেন। ইলেকটোরাল কলেজের ভোট জয়ের ক্ষেত্রেও হিলারির সম্ভাবনা ৯৫ শতাংশ বলে দেখা গেছে।  রিপাবলিকান দলের শক্তঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ইউটাহ ও অ্যারিজোনাও এবার কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ডেমোক্রেট প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলেক্টোরাল কলেজের মানচিত্রের এই পরিবর্তনের আভাসে হিলারি শিবিরকে তাদের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন আনার পক্ষে ইন্ধন যোগাচ্ছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা ডেমোক্রেটিক প্রার্থীর পক্ষে অর্থ ব্যয় শুরু করেছে। এক বক্তৃতায় হিলারি বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের কথার উত্তর দেয়ার চেয়ে ডেমোক্রেট প্রার্থীদের বিজয়ী করার ক্ষেত্রেই বেশি মনোযোগী হবেন।

হিলারির প্রচার শিবির আশা করছে, এবারের নির্বাচন হবে মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচন।ডেমোক্রেট প্রচার শিবিরের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার রবি মুক রোববার ফক্স নিউজকে বলেন, “এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি লোক ভোট দিতে যাবেন।”

অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রচার শিবির বলছে, হিলারির প্রচার শিবির অর্থনৈতিকভাবে এতটা সুবিধা ভোগ করছে যে, তারা ট্রাম্পের নামে অপ-প্রচারও চালাতে পারছে।“হিলারির সঙ্গে আছে তার সাবেক প্রেসিডেন্ট স্বামী, যিনি তার হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। আছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্টলেডি, আছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। যারা হিলারির চেয়েও বেশি জনপ্রিয়, এবং তারা তাকে আশা দিচ্ছেন,”  বলেন ক্যালিয়ানি কনওয়ে। নির্বাচনে জয়ী হলে প্রথম ১০০দিনে কি করা হবে রিপাবলিকান নির্বাচনী অফিস থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে তদবিরকারী গোষ্ঠীগুলোর দৌরাত্ম কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।

রোববার অন্য একটি নির্বাচনী বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা প্রত্যেক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করবেন। পাশাপাশি নির্বাচনে কারচুপি হতে পারে এই অভিযোগও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একইদিন ট্রাম্পের ছেলে এরিক ট্রাম্প বলেছেন, তারা বাবা হার মেনে নেবেন, যদি নির্বাচন ‘স্বচ্ছ’ হয়। এদিকে নির্বাচনী সমাবেশে হিলারি বলেছেন, ট্রাম্প হচ্ছেন সেসব পরাজিতদের একজন, যারা নিজেদের হারের জন্য অন্যদের দায়ী করতে চায়। মুখোমুখি শেষ টেলিভিশন বিতর্কে নির্বাচনে পরাজিত হলে ফল মেনে নেবেন কী না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানানোর প্রতিক্রিয়ায় হিলারি এ মন্তব্য করেন।

ট্রাম্পের আচরণকে ‘অগণতান্ত্রিক দেশের স্বৈরাচারদের মত’ উল্লেখ করেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি। “শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের কারণেই আমেরিকা আজকের আমেরিকা হতে পেরেছ। দেখুন, কিছু লোক থাকবেই, যারা নিজেদের পরাজয়ের দায় অন্যদের দেবে; আমরা ঠিকই এগিয়ে যাবো,”বলেন তিনি। যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে এরইমধ্যে পল রায়ানসহ অনেক রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

Leave A Reply