সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

পালিত হলো ঈদুল আজহা – বর্জ্য নিষ্কাশনে পূর্বের থেকেও অধিক তৎপর হতে হবে

পবিত্রতা ও ত্যাগের সাথে পলিত হলো ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহার পশু কোরবানির পর যে বিষয়টি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় তা হচ্ছে বর্জ্য নিষ্কাশন। বিশেষ করে ঢাকাসহ শহর অঞ্চলগুলোতে এ ব্যপারে অধিক তৎপরতার প্রয়োজন পড়ে। বিগত দিনগুলোতে আমরা রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানের বর্জ্য নিষ্কাশনে বেশ প্রশংসনীয় পদক্ষেপ দেখেছি কিন্তু এবারের সাথে প্রতিবারকে মিলিয়ে ফেললে চলবে না। এখনও অভ্যন্তরে ছড়িয়ে আছে করোনা নামক মহামারি আর এ মহামারির সময়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা হতে হবে অন্য সব বারের চেয়েও দ্বিগুণ।
গতকাল শনিবার ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য নিষ্কাশন করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন। সিটি করপোরেশনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকারীরা দুপুর দুটোর পর থেকেই বর্জ্য নিষ্কাশন শুরু করবেন বলেও তিনি আশ্বাস দেন। কিন্তু তবুও বেশ কিছু জায়গায় দেখা যাচ্ছে অনিয়ম।
দৈনিক দেশেরপত্রের নিজ প্রতিনিধিদের মধ্যে অনেকেই জানায়, দুপুর দুটো থেকে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দুটোর আগেই ময়লা উঠানোর নির্দিষ্ট গাড়ি নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাগুলোতে গিয়েছে । কিন্তু আগে এসে থাকলেও নির্ধারিত ‘দায়সারা’ কিছু কাজ করে প্রায় দুপুর তিনটার মধ্যেই তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ স্থানে ফিরে গিয়েছে। যদি বিষয়টি এমন হতো যে দুই ঘণ্টার মধ্যেই তারা তাদের কাজকে পরিপূর্ণতা দিতে সক্ষম হয়েছে তাহলে আর কিছুই বলার থাকত না। কিন্তু বেশিরভাগ স্থানেই দেখা যাচ্ছে বৃষ্টির কারণে কোরবানির পশু কাটা শেষই হয়নি তিনটার মধ্যে। তাহলে সেসব স্থানের পরবর্তী পরিষ্কারকর্মসূচীর বিষয়টি খেয়াল রাখার দায়িত্ব কার?
আবার দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে যারা স্বপ্রণোদিত হয়ে পরিষ্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে তাদেরটা পরিষ্কার হচ্ছে আর যারা নিচ্ছেনা তাদেরটা সেভাবেই পরে রয়েছে। কাগজে কলমে ছুটি না দিয়ে তাহলে লাভটা কী হলো? বরং তাদের কাগজে কলমে ছুটি দিয়ে জনগণকে জানিয়ে দিলেও স্থানীয় জনগণ কোনো একটা ব্যবস্থা করতে পারত। এছাড়াও ‘দায়সারা’ এ ধরনের কাজ অন্যান্যবারের জন্য সহনীয় হলেও করোনার বর্তমান সময়ে তা মোটেও সহনীয় নয়। বরং এবার বিষয়টি সত্যিকার অর্থেই শক্ত হাতে নির্বাহ করার প্রয়োজনীয়তা ছিল সব থেকে বেশি।
অতএব সিটি করপোরেশনের উচিত হবে বিষয়টিকে কোনোভাবেই অবহেলায় না নেয়া। বরং অন্যবারগুলোর থেকে এবার পরিকল্পিত একটি ব্যবস্থাগ্রহণ প্রয়োজন ছিল। যদিও এখনও ঈদের এক দিন অতিবাহিত হয়েছে তাই আমরা আশা করব সিটি করপোরেশন সত্যিকার অর্থেই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে সম্পাদন করবে। করোনাকালীন সময়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যে কতটুকু জরুরী তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.