সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

বিলবোর্ড উচ্ছেদ নিয়ে অসহায় সিএমপি কমিশনার

0

Untitled-2চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
—————
নগরীতে অবৈধভাবে বিলবোর্ড স্থাপনকারীদের ‘বিলবোর্ড সন্ত্রাসী’ উল্লেখ করে তা উচ্ছেদে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন নগর পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল জলিল মন্ডল। গত কাল বাকলিয়া থানার ওপেন হাউজ ডে কর্মসূচীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ্যে জানান।
নগর পুলিশ কমিশনার বলেন, আমরা বিলবোর্ড সন্ত্রাসীদের সেভাবে সরাতে পারছিনা। প্রতিদিন বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযানের জন্য খরচ হয় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এত টাকা আমি কোথায় পাব? এজন্য আমরা পারছিনা। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনও আমাকে বলেছে একেকটি বিলবোর্ড উচ্ছেদে কি পরিমাণ খরচ হয়। আমার পক্ষে যদি বিলবোর্ডগুলো ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়া সম্ভব হত আমি তা-ই করতাম। সুতরাং যার কাজ তাকেই করতে হবে। চট্টগ্রাম নগরীতে বিলবোর্ড স্থাপন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা আছে। বড় বড় বিলবোর্ড স্তাপন করে পাহাড়ঘেরা বন্দরনগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঢেকে ফেলার অভিযোগ আছে। মাসখানেক আগে চট্টগ্রাম সফরে এসে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যত্রতত্র বিলবোর্ড নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী এজন্য সিটি কর্পোরেশনকেও দায়ী করেন।
নগর যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং যুবদলের অনেক নেতা বিলবোর্ড ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মূলত তাদের রাজনৈতিক দাপটের কাছে অসহায় সিটি কর্পোরেশন অতীতে বারবার উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়েও পরে পিছিয়ে গেছে। এ অবস্থায় কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর বিলবোর্ড উচ্ছেদে এগিয়ে আসেন আব্দুল জলিল মন্ডল। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ৪২২টি অবৈধ বিলবোর্ডের একটি তালিকা নগর পুলিশকে দেয়া হয়। ওই তালিকা ধরে গত ১৬ নভেম্বর থেকে বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযানে নামে নগর পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন। শুরুতেই নগর যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতার বিলবোর্ড সরাতে গিয়ে বাধার মুখেও উপড়ে ফেলে নগর পুলিশ যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, আবার এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের এক নেতার বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে না পেরে সমালোচনাও কুড়িয়েছে।
তবে টানা অভিযানে প্রায় শ’ খানেক বিলবোর্ড উচ্ছেদের পর ধীরে ধীরে অভিযান কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ছে। আর অভিযান নিয়ে অসহায়ত্বের কথাও শোনা গেল পুলিশ কমিশনারের মুখে। ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে সিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা পারি আর না-ই পারি, যারা অবৈধভাবে বিলবোর্ড স্থাপন করছেন, যারা চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঢেকে দিচ্ছেন তাদের কথা কিন্তু জনগণ জেনে গেছে। তিনি বলেন, বিলবোর্ড উচ্ছেদে হয়ত টাকা লাগছে। কিন্তু ঝাড়– দিতে তো আমার টাকা লাগছেনা। আমি ঝাড়– হাতে নিয়েই রাস্তায় থাকব। নগর পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) কামরুল আমিনের সভাপতিত্বে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক) একেএম শহীদুর রহমান, বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক শোয়াইব রিয়াদ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইয়াছিন চৌধুরী আছু ও মোহাম্মদ তৈয়ব, সাবেক কাউন্সিলর শহীদুল আলম।

Leave A Reply