সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

ভোলায় দুর্ধর্ষ ডাকাত নুরে আলম গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক: ভোলার চরাঞ্চলবাসী ও নদীর জেলেদের আতঙ্ক দুর্ধর্ষ ডাকাত মাহে আলম ওরফে নুরে আলমকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। ভোলা জেলার গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র উপ- পরিদর্শক জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি চৌকশ দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬ নভেম্বর চরফ্যাশনের উত্তর মাদ্রাজ থেকে ডাকাত নুরে আলমকে গ্রেপ্তার করেন।

ডিবি সূত্র জানায়, দুর্ধর্ষ ডাকাত নুরে আলমের বিরুদ্ধে ভোলার চর নামক এলাকায় ডাকাতি ও কৃষককে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনায় মামলা রয়েছে। আদালত ওই মামলার তদন্তভার ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলে গোয়েন্দা দল ডাকাত মাহে আলম ওরফে নুরে আলমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন জানান, ডাকাত নুরে আলম ছদ্মনাম রেখে বিভিন্ন জায়গায় মাহে আলম নামে অপরাধ কর্ম চালাত। এ মামলার বাদী শাহিন খান আসামী নুরে আলমকে সনাক্ত করার পরই আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।

মামলার সূত্রে জানা যায়, বিগত ১৭ জুলাই লক্ষীপুরের দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার হারেছ সর্দারের নেতৃত্বে ডাকাত ওহাব আলী আলতু মাতব্বর ওরফে আলতু ডাকাইত ও মাহে আলম ওরফে নুরে আলমসহ ১৫/১৬ জনের অস্ত্রধারী দস্যু বাহিনী জেলাসদরের ভোলার চর নামক এলাকায় হামলা করে সেখানকার বাসিন্দা শাহিন খানের মাছ ঘাট, মুদি দোকান ও অপর বাসিন্দা রাসেল খানের গরুর খামার ভাংচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায়। এসমস্ত ডাকাতরা চরের নিরীহ মানুষকে ধাড়ালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম ও রক্তাক্ত করে। ঘটনার সময় ডাকাত নুরে আলম চরের বাসিন্দা করিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করে। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে বরিশাল সেবাচিমে নিয়ে ভর্তি করা হয়। অপর ডাকাত হারেছ সর্দার ও ওহাব আলী ডেইরী ফার্মের তত্ত্বাবধায়ক মিন্টু খানকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। মাছ ঘাট, মুদির দোকান লুণ্ঠন ও ডেইরী ফার্মের ১৫টি গরু লুট শেষে ডাকাত দল চরের জনপদে গুলি ফুটিয়ে উল্লাস করেছে বলে চরবাসী জানিয়েছেন।

ভোলার এ সমস্ত কুখ্যাত ডাকাত অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা চাঁদপুরের ভৈরব লক্ষীপুর সদর, রামগতি, আলেকজান্ডার, রায়পুরে, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলা ভোলা সদর, মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করে।এক স্থানে ডাকাতি ও দস্যূতা করে ঐ মালামাল অন্যস্থানে নিয়ে রাখে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, লক্ষীপুরের ডাকাত সর্দার হারিছ, ভোলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা ডাকাতির নেতৃত্ব দেয় কুখ্যাত ডাকাত সর্দার আলতু ডাকাইত। ভোলা সদরের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির নেতৃত্ব দেন এর অঞ্চলের ডাকাত সর্দার ওহাব আলী এবং চরফ্যাশন মনপুরা আলেকজান্ডার ও রামগতিতে নেতৃত্ব দেয় কুখ্যাত ডাকাত সর্দার নুরে আলম ওরফে মাহে আলম। এদের ডাকাতি ও দস্যূতার কাছে সাধারণ কৃষক জেলে থেকে শুরু করে প্রশাসন পযন্ত অসহায় হয়ে পড়ে।জানা গেছে, ভোলার এ সব ডাকাদের আশ্রয় দেয় ভোলার এক বিতর্কিত জনপ্রতিনিধি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে ও কৃষক জানান,ডাকাতির বড় একটি অংশ যায় ঐ বিতর্কিত চেয়ারম্যান এর পকেটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডাকাত মাহে আলম ওরফে নুরে আলম ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে ভোলা, বরিশাল, লক্ষীপুর, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় চুরি, ডাকাতি, লুণ্ঠনসহ নানান অপরাধে ডজন খানেক মামলা রয়েছে। এদিকে ডাকাত নুরে আলমকে গ্রেপ্তারের খবরে ভোলার চরের কৃষক ও নিরীহ বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মানুষ মিষ্টি বিতরণ করে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন।

ওদিকে নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ভয়ংকর ডাকাত নুরে আলম গ্রেপ্তারের পর তাকে জামিনে মুক্ত করতে ডাকাতদের সেল্টারদাতা রাঘববোয়াল চক্র দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে।তারা বিভিন্ন কৌশলে ডাকাত নুরে আলমকে মুক্ত করতে যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে।

চরের ভুক্তভোগী মানুষ বলেন, কুখ্যাত ডাকাত মাহে আলম ওরফে নুরে আলম জামিনে ছাড়া পেলে ভোলার চরে ফের তাণ্ডবলীলা চালাবে। কৃষকের রক্তে রঞ্জিত হবে চরের পলিমাটি। চরবাসী সেখানকার কুখ্যাত ডাকাত হারেছ সর্দার ও ওহাব আলী, আলতু ডাকাইতসহ সকল দস্যু বাহিনীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.