সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

ভোলায় সাংবাদিক রাসেলের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন-স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভোলায় সাংবাদিক ও ভোলা সদর রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হক রাসেল খানের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় ভোলা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি, দৈনিক ভোলা টাইমস পরিবার, ভোলা জেলা অনলাইন প্রেসক্লাব ও দৈনিক আলোচিত বাংলাদেশ, সমকণ্ঠ, অন্যদিগন্ত পত্রিকার ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভোলা জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ আল আমিন শাহরিয়ার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শহিদ তালুকদার ও সাংবাদিক মাহমুদুল হক রাসেল খানের ছোট ভাই সাংবাদিক মামুন রায়হান প্রমুখ। ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে জেলার ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময়ে ভোলা জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ আল-আমিন শাহরিয়ার বলেন, সাংবাদিক রাসেল খান সুনামের সহিত দেশের গণমানুষের কথা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। এই বিষয়টি একটি কুচক্রী মহল ভালোভাবে নেয়নি। তার কাজের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তারা তার বিরুদ্ধে একেরপর এক ষড়যন্ত্র করে চলছে।

তিনি আরো বলেন, গত মাসের ১৭ তারিখে ভোলার চরে মাহমুদুল হক রাসেল খানের ডেইরি ফার্ম ও অন্যান্য বসতবাড়িতে লক্ষীপুরের একদল ডাকাত হামলা চালিয়ে লুটতরাজ করে এসময় ডাকাতরা মাছের আড়ত ও মুদি মালের দোকানে ডাকাতি করে ৩,৮০০০০ নগদ অর্থ সহ রাসেল খানের সরকার রেজিস্ট্রার কৃত গরুর খামারের মুল্যবান ১৫ টি গরু নিয়ে যায় এবং অনেক গ্রামবাসীকে গুরুতর আহত করে, যাদের অনেকেই ভোলা সদর মেডিকেল এবং বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল এ ভর্তি করা হয়েছিল। এই সংবাদটি পেয়ে মাহমুদুল হক রাসেল খান গ্রামবাসীকে সহযোগিতা করার জন্য থানা পুলিশের আশ্রয় নিয়ে গ্রামবাসীকে উদ্ধারের জন্য রওয়ানা দেয় কিন্তু প্রথিমধ্যে এক অজানা ফোনে মাহমুদুল হক রাসেল খান কে উল্টো পুলিশ আটক করে ৫৪ ধারায় জেলহাজতে প্রেরণ করে।

“পরে গত ১৮ তারিখে লক্ষীপুরের তার বিরুদ্ধে একেরপর এক ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে থাকে এবং তারও ৪-৫ দিন পর তার বিরুদ্ধে ভোলায় একটি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্র মামলা করে তাকে সুনারেস্ট দেখিয়ে আটক করে রাখা হয়।”

তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সাংবাদিক মাহমুদুল হক রাসেল খানের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়। এসময় সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ তালুকদার বলেন, সাংবাদিক মাহমুদুল হক রাসেল খান আমাদের সহকর্মী। তিনি বলেন তার বিরুদ্ধে যে ধরনের মিথ্যা ভিত্তিহীন এবং ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে অবিলম্বে এ সকল মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানান এবং সাংবাদিক মাহমুদুল হক রাসেল খানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন, একটি কুচক্রী মহল গণমাধ্যমের কণ্ঠকে স্তব্ধ করার জন্য সাংবাদিক মাহমুদুল হক রাসেল খানকে আটক রাখার ন্যক্কারজনক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। সাংবাদিক মাহমুদুল হক রাসেল খান ভোলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের জলদস্যু, ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একাধিক ক্রাইম রিপোর্ট প্রতিবেদন করায় তার বিরুদ্ধে একেরপর এক সাজানো ও মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিক মাহমুদুল হক রাসেল খান বিগত ১২ বছর যাবত রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং বাংলাদেশের প্রথম ধারার গণমাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত আছে। মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল ভোলা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বারবার স্মারকলিপি প্রদান করে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.