সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত জয়ে ফাইনালের পথে ম্যানসিটি

ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক:

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) মাঠে আতিথ্য নিয়ে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত জয়ে ফাইনালের পথে এক পা এগিয়ে রাখল ম্যানচেস্টাস সিটি। মার্কুইনেসের গোলে লিড নেওয়া পিএসজির জালে দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ইস্তানবুলের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল পেপ গার্দিওলার দল।

বুধবার (২৮ এপ্রিল) রাতে পার্ক দেস প্রিন্সেসে ২-১ গোলে জিতেছে সিটি। সিটিজেনদের পক্ষে গোল দুটি করেন কেভিন ডি ব্রুইনে ও রিয়াদ মাহরেজ। এদিন ঘরের মাঠেই যেন বোতল বন্দি ছিলেন শেষ ষোলোয় বার্সেলোনা ও কোয়ার্টার-ফাইনালে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখকে হারানোর নায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। পিএসজির সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার দারুণ দুটি সুযোগ তৈরি করলেও পাননি সাফল্যের দেখা। আর এই দুই তারকার নিষ্প্রাণ দিনে খেই হারিয়েছে পিএসজি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল নিজেদের দখলে রেখে খেলা গুছিয়ে নিতে শুরু করে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে আক্রমণে তেমন সুবিধা করে উঠতে পারছিল না সিটিজেনরা। মাঝমাঠের ছোট্ট ভুলে দ্বিতীয় মিনিটেই বিপদে পড়তে পারতো সিটি। তবে সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে ছুটে ডি বক্সে ঢুকে দুর্বল শট নিয়ে বসেন নেইমার।

এরপর বেশ খানিকটা সময় ধরে টানা আক্রমণ করতে থাকে সিটি, বলের দখল পেতে লড়ছিল পিএসজি। চাপ সামলে ১৩তম মিনিটে আবারও ভীতি ছড়ায় পিএসজি। তবে ডি বক্সে একজনকে কাটিয়ে নেইমারের নেওয়া শট কর্নারের বিনিময়ে ফেরান এডারসন। তবে গোলের জন্য আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি নেইমারদের। খেলার ১৫তম মিনিটেই অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার ক্রস থেকে হেড করে পিএসজিকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক মার্কুইনেস।


ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় সিটিজেনরা। গোল হজমের মিনিট ছয় পরে বার্নার্দো সিলভার দুর্দান্ত এক প্রচেষ্টা পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি পিএসজি গোলরক্ষককে। এর কিছুক্ষণ পর ডি মারিয়ার দারুণ এক পাসে ডি বক্সের ভেতর বল পান নেইমার কিন্তু নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে তা আর গোলে পরিণত হয়নি। তবে ম্যাচের ৪২ মিনিটের মাথায় গোলের পরিস্কার সুযোগ তৈরি করে সিটি। তবে ফিল ফোডেনের নেওয়া শট শক্ত হাতে ফেরান কেইলর নাভাস। আর তাতেই ১-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় পিএসজি।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা কমে আসে। আর খেলার ৬৪তম মিনিটে ছোট কর্নারে বল ধরে বাঁ দিক থেকে দারুণ এক ক্রস বাড়ান ডি ব্রুইনে। তবে মুহূর্ত পরেই গোটা দলই অবাক হয়ে দেখে বল জালে জড়িয়ে যাচ্ছে, কেননা ডি ব্রুইনের ক্রস থেকে বল সবার ওপর দিয়ে গিয়ে এক ড্রপে খানিকটা বাঁক নিয়ে দূরের পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়। বলে তেমন গতি ছিল না, তারপরও জায়গা থেকে নড়ার সুযোগ পাননি নাভাস। যেন বলের গতি-প্রকৃতি বুঝতেই পারেননি তিনি।

৭১তম মিনিটে এসে ২-১ গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে শেষ ষোলতে বার্সা আর কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্নকে টপকে আসা পিএসজি। রিয়াদ মাহারেজের নেওয়া ফ্রি কিকে বল লাফিয়ে ওঠা রক্ষণ প্রাচীরে কিম্পেম্বে ও পারেদেসের মাঝ দিয়ে ঠিকানা খুঁজে পায়। আর পিছিয়ে পড়ার কিছুক্ষণ বাদেই ১০ জনের দলে পরিণত হয় পিএসজি। ইলকাই গুন্দোগানকে পেছন থেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন সেনেগালের মিডফিল্ডার ইদ্রিসা গায়া।

আর ১০ জনের দল নিয়ে শেষ পর্যন্ত সিটিকে আর তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি পিএসজি। আর তাতেই প্যারিস থেকে ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফাইনালের পথে এক পা এগিয়ে রাখল ম্যানচেস্টার সিটি। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ম্যানচেস্টারের ইতিহাদ স্টেডিয়ামে দুই দল মুখোমুখি হবে আগামী ৫ মে।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.