সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

 বিশ্বের জনপ্রিয় দশ খেলা

0

স্পোর্টস ডেস্ক:
এ ধরিত্রীতে কত ধরনের খেলা আছে তা বলে শেষ করা যাবে না। গণনা করাও সম্ভব নয়। শত রকমের খেলাধুলা থেকে জনপ্রিয় এবং সেরা দশটি খেলা নির্বাচন করা সত্যিই দুরূহ ব্যাপার বটে।

এমন অনেক খেলা আছে যেগুলো দেশ কাল প্রাত্র ভেদে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দর্শকপ্রিয়তার মাপকাঠিতে যে কোনো খেলা সেরা হয়ে উঠার পেছনে ভূমিকা পালন করে। সেরা ও জনপ্রিয় খেলা হয়ে উঠার জন্য আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচিত হয়।

যে খেলা বেশি হয়ে থাকে, দর্শকও প্রচুর হয় এবং অধিক আয় হয়- সেটাই জনপ্রিয় খেলা। বহু চিন্তাভাবনা এবং গবেষণা করে জনপ্রিয় ও সেরা দশটি খেলা নির্বাচন করা হয়েছে। অনেক বিজ্ঞ ক্রীড়াবীদ এ মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন।

সেরা দশটি খেলা পাঠকদের জন্য বর্ণনা করা হল:

১. ফুটবল: এ পৃথিবীতে ফুটবল খেলা হয় না এমন দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না। ফুটবলের জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়া সর্বত্র ফুটবলের
একচ্ছত্র আধিপত্য।

ফুটবলের জনপ্রিয়তা এতটাই যে সামান্য পরিসরে তা বর্ণনা করা অসম্ভব। সাত মহাদেশ জুড়ে ৪০০ কোটি দর্শক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। প্রকৃতপক্ষে সংখ্যাটা আরো বেশি হলে অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না। ফুটবলের দর্শক ৫০০ কোটিরও বেশি হবে। আসলে ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে অশীতিপর বৃদ্ধ সবাই ফুটবলের দর্শক।

পরিসংখ্যানগত দিক থেকে ২০০’র বেশি দেশে ২৫ কোটি ফুটবলার রয়েছে। আর কোনো খেলায় এত বেশি পরিমাণ খেলোয়াড় রয়েছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ, প্রতি মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে পারে ফুটবল। এ কারণেই ফুটবল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।

বিশেষ করে বিশ্বসেরা তারকার খেলা দেখতে সবাই আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকে। মাঠেই হোক অথবা টেলিভিশনেই হোক খ্যাতিমান তারকার খেলা দেখতে দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

পেলে, ম্যারাডোনা, ক্রিশ্চিয়ান রোনালদো, লিয়নেল মেসি, নেইমারের খেলা দেখতে সবাই এক মনে তপস্যা করে। সৃষ্টির শুরু থেকে আজ অবধি ফুটবল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় খেলা এবং শেষ দিন পর্যন্ত সেটাই সেরা হয়ে থাকবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।

২. ক্রিকেট: জনপ্রিয়তার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ক্রিকেট। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজসহ সারা পৃথিবীজুড়ে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি দর্শক রয়েছে ক্রিকেটের।

বিভিন্ন ফরম্যাটে ক্রিকেট খেলা হয়ে থাকে। টেস্ট ম্যাচ দিয়েই আভিজাত্যময় এ খেলার শুরু। তারপর এল সীমিত ওভারের ম্যাচ। টেস্ট এবং ওয়ানডে ছাড়িয়ে ক্রিকেট আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠল টি-২০ ম্যাচের মধ্যে দিয়ে। দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়ল শর্টার ভার্সনের এ ম্যাচ দেখার জন্য।

৩. বাস্কেটবল: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চায়না এবং ফিলিপাইনে জনপ্রিয় খেলা বাস্কেটবল। সারা পৃথিবীতে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি দর্শক বাস্কেটবল খেলা দেখে।

বিশ্ব বাস্কেটবল অঙ্গনে অনন্য নাম মাইকেল জর্ডান। যুক্তরাষ্ট্রের এ তারকা সারা পৃথিবীতে খ্যাতি ছড়িয়ে দিয়েছেন।

বাস্কেটবলকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে জর্ডানের ভূমিকা অনন্য। তার প্রচেষ্টার কারণেই বাস্কেটবল জনপ্রিয়তার দিক থেকে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে।

৪. হকি: আজ থেকে ৪ হাজার বছর আগে মিশরে হকি খেলা শুরু হয়েছিল। মিশরের সাধারণ মানুষ মাঠে গিয়ে লাঠি হাতে ছোট্ট বল নিয়ে খেলত। তখন এর নাম হকি ছিল কিনা তা অবশ্য বলা সম্ভব নয়।

কাগজে কলমে হকি খেলার প্রচলন হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ১২৭২ সালে। প্রথম হকি খেলা হয়েছিল আয়ারল্যান্ডে। কিন্তু এর কোন সঠিক তথ্য প্রমাণ মেলেনি।

খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ শতাব্দীতে গ্রীসে হকি খেলা হয়। মূলত: সেখান থেকেই হকির জনপ্রিয়তা শুরু। প্রায় ৩ হাজার বছর পেরিয়ে হকি আজ চতুর্থ জনপ্রিয় খেলায় পরিণত হয়েছে।

৫. টেনিস: ইতিহাসবিদদের মতে ১২ শতাব্দীতে উত্তর ফান্সে প্রথম টেনিস খেলা শুরু হয়েছিল। সেই শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বহু ধাপ পেরিয়ে এসেছে টেনিস। সারা পৃথিবীতে টেনিসের দর্শক ১০০ কোটি।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রথম টেনিস খেলা হয়েছিল ১৮৫৯ সালে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে। এ হিসাব মতে জনপ্রিয় এ খেলাটি ১৫৬ বছর পেরিয়ে এসেছে।

চারটি গ্র্যান্ডস্ল্যাম অস্ট্রেলিয় ওপেন, ফ্রেঞ্চ ওপেন, ইউএস ওপেন এবং উইম্বলডন টেনিস জগতকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

৬. ভলিবল: এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় ভলিবল খুবই জনপ্রিয় খেলা। সারা পৃথিবীতে ভলিবলের সমর্থক ৯০ কোটির মতো। ১৮৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুটসে প্রথম ভলিবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ১৯৬৪ সালে ভলিবল খেলা অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমান বিশ্বে ভলিবল ৬ষ্ঠ জনপ্রিয় খেলা।

৭. টেবিল টেনিস: এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং আমেরিকায় টেবিল টেনিস খুবই জনপ্রিয় খেলা। ৯০ কোটিরও বেশি দর্শক টেবিল টেনিসের সমর্থক। চায়নাতে টেবিল টেনিস খেলা হলেই ইনডোর স্টেডিয়াম কানায় কানায় ভরে উঠে।

টেবিল টেনিসের অপর নাম পিং পং বল গেম। পিং পং বল দিয়ে খেলা হয় বলেই এ নামকরণ হয়েছে। ধারণা করা হয় চায়নাতে কোটির মতো টেবিল টেনিস খেলোয়াড় রয়েছে।

চায়নাতে জনপ্রিয় খেলা হলেও টেবিল টেনিস ম্যাচ প্রথম হয়েছিল ১৮৮০ সালে ইংল্যান্ডে। এ হিসাবে টেবিল টেনিস খেলা ১৩৫ বছর পার হয়ে গেছে।

১৯৮৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত অলিম্পিকে প্রথম বারের মতো টেবিল টেনিস অন্তর্ভুক্ত হয়।

৮. বেসবল: যুক্তরাষ্ট্রে অত্যাধিক জনপ্রিয় খেলা বেসবল। জাপান, কিউবা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে বেসবলের জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশ্বে যত খেলা রয়েছে তার মধ্যে অষ্টম স্থানে রয়েছে বেসবল। সারা পৃথিবীর ৫০ কোটি দর্শক এই খেলার সমর্থক। বেসবলের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। ১৮৩৮ সালের ৪ জুন কানাডার অন্টারিওর বিচভিলে প্রথম বারের মতো বেসবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

৯. রাগবি: উনিশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইউরোপে রাগবি খেলা শুরু হয়। বর্তমানে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় রাগবি খেলা হয়ে থাকে। সারা বিশ্বে ৪০ কোটি দর্শক রাগবি খেলা দেখে থাকে। জনপ্রিয়তার দিক থেকে রাগবির অবস্থান নবম।

১০. গলফ: ষোড়স শতাব্দীতে স্কটল্যান্ডে গলফ খেলা শুরু হয়েছিল। তবে ১৩৬৮ সালে চায়নার মিং সাম্রাজ্যের শাসক গোষ্ঠী গলফ খেলত বলে লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে। বিংশ শতাব্দীতে গলফের কথা উঠলেই টাইগার উডসের কথা উঠে আসে। গলফের সম্রাট বলা যায় তাকে।
জনপ্রিয়তার দিক থেকে গলফের অবস্থান দশমে। সারা পৃথিবীর প্রায় ৪০ কোটি দর্শক গলফ খেলা দেখে। গলফের সমর্থক রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপে।

Leave A Reply