রংপুর সংবাদদাতা:
খরোস্রতা তিস্তা নদী এখন পানিশূণ্য কংকালসার মরা গাং। রংপরের কাউনিয়ার তিস্তা নদীর জেগে ওঠা চরের ধু-ধু বালুকাময় জমিতে চাষাবাদের চিন্তা খুব একটা ফলপ্রসু হবার নয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পতিত ছিল উপজেলার তিস্তা নদী অববাহিকার চরগুলো। অনাবাদি হওয়ায় এ চরগুলোর কোনো হদিসও রাখেননি জমির মালিকরা।

তবে তারা এখন চরের জমিতে নিরাপদ সবজী উৎপাদন করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন। তাদের প্রচেষ্টায় কাউনিয়ার ৮টি চরে ১০টি গ্রুপে উপজেলা কৃষি বিভাগের তত্বাবধানে ব্যাপক ভাবে মিষ্টি কুমড়া, স্কোয়াস, বাদাম, পেয়াজ, মরিচসহ নানা ফসলের চাষ করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, পরিবেশ প্রযুক্তি কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ কুমড়া জাতীয় ফসল উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালে প্রথমবার কাউনিয়ার তিস্তা নদীর জেগে ওঠা চরের ৫০ একর জমিতে এ চাষাবাদ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ে সল্প খরচে ফলনও ভালো হওয়ায় বালুচরে নিরাপদ সবজী চাষে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বালাপাড়া ইউনিয়নের তালুক সাহাবাজ গ্রামের প্রফুল্ল চন্দ্র জানান, ‘তিস্তার ভয়াবহ ভাঙ্গনে আমার প্রায় ১০ একক জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে নিঃস্ব হলেও কখনো ভাবিনি জেগে ওঠা চরে সবজী চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখাবে।’

সবজী চাষী মনোয়ারা বেগম জানান, ‘তিনবারের মত কুমড়া আবাদ করছি। ফলন ভালো হলেও শুরুতে শিখতে, পরেরবার করোনার জন্য বেশী লাভ পাইনি। এবার গড়ে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৩ হাজার কুমড়ার গাছ লাগিয়েছি, ফলনও বেশ হয়েছে।’

কৃষক আব্দুল খালেক জানান, ‘চরে ফসল উৎপাদন বাম্পার হলেও সবজী সংরক্ষণাগারের অভাবে ন্যায় মূল্য বঞ্চিত হচ্ছেন চাষীরা। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে উৎপাদিত সবজীগুলো পচনশীল হওয়ায় কমদামে বিক্রি করতে হয় চাষীদের।’

একই অভিব্যক্তি তিস্তা নদীর ধু-ধু বালুচরের সবজী চাষী স্থানীয় অনেকেই। কাউনিয়ায় দ্রুত সবজী সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবী তাদের সবার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আলম জানান, এবারে উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত জেগে ওঠা অনাবাদি ২’শ একক বালুচরের জমিতে ২’শ জন উপকারভোগী ও অন্যান্য ৩’শ জন কৃষক মিলে নিরাপদ সবজী চাষ করছেন। কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ছাড়াও এ সব প্রান্তিক সবজী চাষীকে প্রণোদনার মাধ্যমে রসায়নিক সার, জৈব বালাইনাশক, ফাঁদসহ সেচ বাবদ টাকা দেয়া হয়েছে।