সামাজিক জীব হিসেবে একজন ব্যক্তির প্রতিটি কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য জরুরী। কিন্তু এখানে বাস্তাবতার নিরিখে একটি বিষয় রয়েছে। ব্যক্তিটিকে বাস্তবিক অর্থেই সামাজিক হতে হবে। বাস্তবিক অর্থেই সামাজিক বলতে কী বুঝায়?

ধরুন আমাদের সমাজেই এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছে যারা দিন আনে দিন খায়। ব্যক্তিটি কী করে তার উপর কিন্তু এই ‘দিন আনে দিন খায়’ ব্যাপারটি নির্ণয় করা হচ্ছে না। নির্ণয়ের প্রধান উপায়ই হচ্ছে সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার প্রভাব কতটুকু। সমাজের জন্য তিনি কী করছেন? চারপাশে তাকালেই দেখা যায় যিনি কয়েকটি ডিগ্রি নিয়ে ডাক্তার হয়েছেন তার সাথে পাড়ার চায়ের দোকানে বসে থাকা চা-ওয়ালা ভাইয়ের পার্থক্য নেই। উভয়ই দিন আনে দিন খায়। সমাজে কী হচ্ছে, রাষ্ট্রে কী হচ্ছে আমার তাতে কিছুই যায় আসে না। অবশ্য সব ডাক্তার একরকম আমি বলছি না, ডাক্তার এখানে উদাহারণের জন্য দেয়া হল। এরা অনেকটাই পশুর মত। পশু যেমন খায়, ঘুমায়, পরিণত বয়সে বংশবৃদ্ধি করে। এরাও ঠিক তেমন। কাজ করে কারণ খেতে হবে, বিয়ে করে বংশবৃদ্ধি করে। গুণগ্রাহী রেখে মারা যায়। এরা সমাজের কোনো উপকারেরই আসে না কিন্তু তেতো হলেও সত্য সমাজে এরাই বেশি। তাই এই বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ‘সামাজিক’ হওয়াটা অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয় যদি সমাজের আমূল পরিবর্তন আনতে হয়।

আর যারা সামাজিক ব্যক্তি, সমাজ নিয়ে চিন্তা করেন, রাষ্ট্রের ঠিক-ভুল নিয়ে আলোচনা করেন তারাও শুধু এই আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছেন। আপনার আলোচনা ও সমালোচনা যদি সমাজের মানুষদের মধ্যে প্রভাব না ফেলে, রাষ্ট্রকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য না করতে পারে তাহলে লাভ কী? তবে হ্যাঁ আলোচনা সমালোচনা প্রয়োজন আছে কিন্তু এমন কিছুও চিন্তা করু যাতে সত্যিকার অর্থেই সমাজে একটি প্রভাব সৃষ্টি হয়। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনাদের বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন, বুদ্ধিজীবিকা ধারণ করে তা কখনোই সম্ভব নয়। বুদ্ধিজীবি না হয়ে বুদ্ধিমান হওয়াটা সমাজের চাহিদা বলা যায়। সমাজ ও রাষ্ট্র কোন দিকে চলছে তা একটু বিবেক থাকলেই বুঝা যায়। তাই একজন বিবেকবান, সামাজিক মানুষ হলে আপনার প্রথম কর্তব্য হচ্ছে একটি উপায় বের করা যার মাধ্যমে সত্যিই কোনো পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।

তাই সত্যিকার অর্থেই যারা সমাজ ও দেশকে নিয়ে চিন্তা করছেন তাদের উচিত হবে নিজেদের বিবেক ও বুদ্ধিকে সঠিক উপায়ে প্রয়োগ ঘটান। আপনি-আমি আমাদের নিয়েই সমাজ তাই আপনার ও আমার চুপ থাকাটাই সমাজের ক্ষতির বিরাট কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই এখন সময় এসেছে বুদ্ধিজীবি থেকে বুদ্ধিমানে পরিণত হওয়া এবং সত্যিকার অর্থেই সমাজ ও রাষ্ট্রের হীতে নিজেদের অবদান সুনিশ্চিত করা।