রুফায়দাহ পন্নী ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে ও ধর্মবিশ্বাসী মুসলিমদের ঈমানকে ভুল খাতে প্রবাহিত করে জন্ম দেয়া হচ্ছে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের। আর সেগুলোকে পুঁজি করে সারা পৃথিবীতে সাম্রাজ্যবাদীদের চালানো তাণ্ডবে একটার পর একটা মুসলিমপ্রধান দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আফগানিস্তান ধ্বংস হলো। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে প্রতিনিয়ত চলছে ধ্বংসের উন্মাদনা।

সিরিয়ায় গত কয়েক বছরে লক্ষ লক্ষ মুসলমান প্রাণ হারিয়েছে। লিবিয়া আজকে লণ্ডভণ্ড, ইয়েমেনে চলছে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। আফ্রিকাতেও কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ লাগিয়ে রেখেছে সাম্রাজ্যবাদীরা। মিশর, তুরস্ক, পাকিস্তান ইত্যাদি মুসলিমপ্রধান দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা এখন ভয়াবহ হুমকির মুখে। এক কথায় যেখানেই মুসলিমরা আছে সেখানেই চলছে যুদ্ধ ও ধ্বংসের উন্মাদনা। আর তাতে জ্বালানি যোগাচ্ছে ইসলামের নামে গড়ে ওঠা ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো।

এই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও আজ আক্রান্ত, এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমতাবস্থায় কীভাবে এই জঙ্গিবাদী তাণ্ডব ও সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তিগুলোর ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করা সম্ভব তা গুরুতর চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেকেই অনেক ধরনের মতামত প্রদান করলেও প্রধানমন্ত্রী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা একটি কথা এখন জোর দিয়ে বলার চেষ্টা করছেন যে, মানুষকে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা দিতে হবে। তার মানে একথা মোটামুটি স্বীকার করেই নেওয়া হচ্ছে যে, ‘বর্তমানে ইসলামের বিকৃত শিক্ষাও চালু আছে।’ অথচ এই কথাটি বলার কারণে বিগত ২৪ বছর ধরে হেযবুত তওহীদের সদস্যদেরকে কতই না হয়রানি-নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়েছে।

যাহোক, আজকে আমরা জানার চেষ্টা করব আল্লাহ-রসুলের সেই প্রকৃত ইসলামের সাথে বর্তমানে প্রচলিত ইসলামের পার্থক্যগুলো কোথায়।

আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম

বর্তমানে প্রচলিত ইসলাম

আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম এতটাই সহজ সরল ছিল যে পশ্চাৎপদ, নিরক্ষর, বাকি দুনিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ আরবদেরও বুঝতে কোন অসুবিধা হত না। পাঁচ লাখ সংখ্যার ওই জাতির মধ্যে লেখাপড়া জানত মাত্র প্রায় চল্লিশ জন, কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে সবার ধারণা ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার, স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ। ইসলামের আকীদাসংক্রান্ত কোনো একটি প্রশ্ন করা হলে সবার কাছে একই উত্তর পাওয়া যেত।

বর্তমানের ইসলাম এতই জটিল একটি বিষয় যা বুঝতে হলে জীবনের বড় একটি অংশ মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতে হয়, যার সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান হাসিল করা এবং মেনে চলা কোন মানুষের এক জীবনে সম্ভব হয় না। এ কারণে ইসলামের জ্ঞানার্জন করা ও মানুষের চাহিদা মোতাবেক ফতোয়া প্রদান করার জন্য এই ইসলামে আলাদা একটি পুরোহিত শ্রেণির জন্ম হয়েছে, ইসলামই যাদের রুটি-রুজির একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু যেহেতু ইসলামের প্রকৃত আকীদা তাদের জানা নেই, তাই কোনো একটি বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে ভিন্ন ভিন্ন জনের কাছে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাওয়া যায়।

আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম পারস্পরিক দাঙ্গা-হাঙ্গামায় লিপ্ত ঐক্যহীন আরব জাতিকে ইস্পাতকঠিন ঐক্যবদ্ধ করেছিল।

এই ইসলাম শিয়া-সুন্নি, হানাফি-হাম্বলি, সালাফি-ওহাবী ইত্যাদি বহু মাযহাবে ও ফেরকায়, আধ্যাত্মিকভাবে শত শত তরিকায় এবং হাজার হাজার রাজনৈতিক দলে-উপদলে ছিন্নবিচ্ছিন্ন।

প্রকৃত ইসলাম শত্রুকে ভাই বানিয়ে দিয়েছিল। পিতার হত্যাকারীকে ভাই হিসেবে বুকে টেনে নেওয়ার অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পৈত্রিক সম্পদের অর্ধাংশ ওই দ্বীনী ভাইকে দান করা হয়।

প্রচলিত বিকৃত ইসলাম ভাইকে বানিয়েছে শত্রু। আজ তারা একজনের রক্ত নিয়ে আরেকজন হোলি খেলছে।

ওই ইসলাম আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর ও দাঙ্গাবাজ মানুষগুলোকে মানবতার কল্যাণে সর্বস্ব উৎসর্গকৃত মানুষে পরিণত করেছিল।

এই ইসলাম মানুষকে এমন আত্মকেন্দ্রিক-স্বার্থপর বানিয়েছে যে, নিজের চোখের সামনে সমাজ ধ্বংস হলেও, দেশ বিনাশ হলেও তারা নিজেদের দায়-দায়িত্বের কথা ভেবে দেখে না। নিজের সামান্য স্বার্থের জন্য এরা খাদ্যে ভেজাল দিতে বা ওষুধে বিষ দিতেও দ্বিধা করে না।

ওই ইসলাম এমন শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল যে, একা একজন যুবতী নারী স্বর্ণালঙ্কার পরিহিত অবস্থায় রাতের অন্ধকারে শত শত মাইল পথ অতিক্রম করত, তার মনে কোনো ভয়-আতঙ্ক থাকত না।

এই ইসলামের মুসল্লিদের সমাজে এমন ভয়-আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যে, মানুষ দিনের বেলাতেও নির্বিঘ্নে পথ চলতে পারে না। ভয়-আতঙ্ক থেকে নিরাপদ নয় তাদের বেডরুমও।

ওই ইসলাম নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষকে এমন অধিকার দিয়েছিল যে, দাস যায়েদ ইবনে হারিসা (রা.) হয়েছিলেন মুসলিম বাহিনীর সেনাপতি আর দাস বেলাল (রা.) কে উঠানো হয়েছিল পবিত্র ক্বাবার ছাদে।

বর্তমানের বিকৃত ইসলাম শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রদান তো পরের কথা, ইসলামের ধ্বজাধারী মধপ্রাচ্যের রাজতান্ত্রিক দেশগুলোতে কার্যত এখনও দাসপ্রথাকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ককে বিবেচনা করা হয় দাস-মুনিব হিসেবে।

ওই ইসলাম ভীরু-কাপুরুষ আরবদেরকে যাবতীয় অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন, দুঃসাহসী, দুর্বিনীত, প্রতিবাদী ও সংগ্রামী জাতিতে পরিণত করেছিল।

বর্তমানের বিকৃত শিক্ষা এমন কিছু গো-বেচারা ধার্মিক তৈরি করে যারা সমাজ, দেশ, মানবজাতি ধ্বংস হয়ে গেলেও এতটুকু প্রতিবাদ করার সাহস রাখে না।

ওই ইসলামের উদ্দেশ্য কী ছিল সেটা একটি ঘটনা থেকে পরিষ্কার হয়। একদিন মদীনায় একটি আওয়াজ হলো। আওয়াজ শুনে সবাই ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসলো। সবার চোখে-মুখে আতঙ্ক। যেইমাত্র তারা আওয়াজটার উৎস খুঁজতে যাবে দেখা গেল- আল্লাহ রসুল (সা.) সেদিক থেকে ঘোড়া ছুটিয়ে মদীনায় প্রত্যাবর্তন করছেন। অর্থাৎ আওয়াজ শোনার সাথে সাথে সবার আগে আল্লাহর রসুল একাই ছুটে গিয়েছিলেন কোনো শত্রুবাহিনী হামলা করেছে কিনা, কোথাও কেউ বিপদে পড়েছে কিনা তা দেখার জন্য। বস্তুত ওই ইসলামের উদ্দেশ্যই ছিল নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত রাখা।

বর্তমানে তো এই আকিদাই নাই। বরং সমাজে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এখন মুখ্য বিষয় নয়, মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবাদত-উপাসনা, জিকির-আজকার, তাজবিহ-তাহলিল ইত্যাদি। উপরন্তু ইসলামের নাম ব্যবহার করে নৃশংসভাবে নিরীহ জনগণকে জবাই করে ও বোমা মেরে হত্যা করা হচ্ছে, ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে, অর্থাৎ প্রকৃত ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র।

ওই ইসলাম মুসলিম, ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক, মুনাফেক, মুশরিক সবাইকে সাথে নিয়ে এমন রাষ্ট্র গঠন করেছিল যেখানে সবাই সমান অধিকার ভোগ করত, সবাই সবার নিরাপত্তা রক্ষায় জিম্মাদার থাকত। মদিনা সনদের মাধ্যমে সবাই একই চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল। সেখানে সবাইকে এক উম্মাহ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

বর্তমানের ইসলামের নাম করে নিরীহ মানুষ হত্যার ফতোয়া দেওয়া হয় কেবল ব্যক্তিজীবনে ভিন্নধর্মাবলম্বী হবার কারণে। ভিন্নধর্মাবলম্বী লোকদেরকে মন্দিরে, গির্জায় এমনকি রাস্তাঘাটে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এমন একটি ধারণা পোষণ করা হয় যেন পৃথিবীতে একমাত্র মুসলমানরাই বেঁচে থাকতে পারবে, ভিন্নধর্মীদের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। অন্যায় অন্যরা করতে পারে, কারণ তারা হেদায়াতে নেই। কিন্তু অনুরূপ অন্যায় তো আখেরি নবীর উম্মত করতে পারে না।

আল্লাহর রসুলের ইসলাম নারীদেরকে বাক্সবন্দী অবস্থা থেকে বের করে এনে সামাজিক-জাতীয় সকল অঙ্গনে স্বীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছিল। রসুলের সময় পুরুষদের পাশাপাশি নারীরা সামরিক বাহিনীতে, হাসপাতালে ও বাজার ব্যবস্থাপনায় অতুলনীয় অবদান রেখেছে।

বর্তমানে ইসলামের নাম ব্যবহার করে ফতোয়ার শিকল পরিয়ে নারীদেরকে ঘরের চৌহদ্দিতে আটকে রাখতে চায়। সামাজিক ও জাতীয় জীবনে নারীর অংশগ্রহণের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিয়ে জাতির অর্ধেক জনসংখ্যাকে স্থবির, অসার ও অনুৎপাদনশীল করে রাখতে চায়।

ওই ইসলাম জনগণের মধ্যে এমন জাতীয় চেতনা সৃষ্টি করেছিল যে, জাতির বিপদের আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় জাতির সমস্ত লোক তাদের পাকা ফসল ফেলে রেখে, গরমের প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে শত্রুবাহিনীর সম্ভাব্য হামলা মোকাবেলার জন্য বেরিয়ে পড়েছিল।

আজকের ইসলামে মুসলমানদের একক জাতীয় চেতনা নেই বললেই চলে। লক্ষ লক্ষ মানুষ একত্র হয়ে নামাজ পড়ে, আর তারই পাশে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খুন করে পালিয়ে যায়, কেউ এগিয়ে যাওয়ার সাহস করে না।

আল্লাহ-রসুলের ইসলাম মানুষের আত্মার এমন পরিবর্তন করেছিল, আদালতে মাসের পর মাস অপরাধ সংক্রান্ত কোনো মামলা আসত না। কালেভদ্রে কেউ কোনো অপরাধ করে ফেললে অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে নিজেই গিয়ে আদালতের কাছে শাস্তি প্রার্থনা করত। ধরে আনার জন্য কোনো গোয়েন্দা বা পুলিশের প্রয়োজন ছিল না।

এই ইসলাম মানুষের আত্মিক উন্নতি সাধনে কতখানি ব্যর্থ হয়েছে তা বোঝা যায় আদালতে লক্ষ লক্ষ মামলার দীর্ঘজট দেখে। দিনকে দিন কঠোর থেকে কঠোরতর আইন করা হচ্ছে, পাঁচ বছর শাস্তি ছিল যে অপরাধের সেটা দশ বছর করা হচ্ছে, যাবজ্জীবনকে মৃত্যুদণ্ড করা হচ্ছে, নতুন নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্র-শস্ত্র ব্যবহার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তিশালী করা হচ্ছে কিন্তু পরিসংখ্যান খুলে দেখুন- অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অন্যায়-অপরাধ বেড়েছে বৈ কমেনি। অথচ আমরা দাবি করি আমরা ইসলামের অনুসারী, আমরা মুসলিম।

ওই ইসলামে কোনো পুলিশবাহিনীর দরকার ছিল না। সমাজের প্রত্যেকে ছিল দায়িত্বশীল, সমাজের ভালোমন্দ দেখভালের ব্যাপারে নিজেদের ঈমান থেকে দায়বদ্ধ। একজন বিপদে পড়লে দশজন এগিয়ে আসত। কোনো বিরোধ হলে সমাজস্থ লোকেরাই ন্যায়সঙ্গতভাবে মীমাংসা করে দিত।

প্রচলিত বিকৃত ইসলামে স্বার্থপর, আত্মকেন্দ্রিক মানুষ তৈরি হচ্ছে যারা দেশের যা হয় হোক, সমাজের যা হয় হোক, এতটুকু ভেবে দেখারও প্রয়োজনবোধ করে না। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা-নিরাপত্তা রক্ষার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রতিপালন করা হচ্ছে তবু সেই শান্তি-শৃঙ্খলা-নিরাপত্তার লেশমাত্র নাই।

প্রকৃত ইসলামের আমলে কেউ গুজবে কান দিত না বা হুজুগের স্রোতে গা ভাসাত না। মুসলমানরা যা করত তার কার্যকারণ উপলব্ধি করে, লক্ষ্য ঠিক রেখে, ন্যায়-অন্যায় জেনে-বুঝে করত। রসুল (সা.) এর একমাত্র পুত্র ইবরাহীমের ইন্তেকালের দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকে বলাবলি করতে লাগল- মোহাম্মদ (সা.) যদি সত্যিই আল্লাহর নবী না হতেন তাহলে তাঁর পুত্রের মৃত্যুতে সূর্যগ্রহণ হবে কেন? এই চিন্তা থেকে অনেকে রসুল (সা.) এর প্রতি ঈমান আনতে চাইল। আল্লাহর রসুল সেদিন যদি চুপ করেও থাকতেন তাহলে অনেকেই তাঁর প্রতি ঈমান আনত, এতে চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তে তাঁর বহুগুণ শক্তিবৃদ্ধি হত। কিন্তু না, আল্লাহর রসুল সাফ সাফ জানিয়ে দিলেন- আমার পুত্রের মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ হয় নি, সূর্যগ্রহণ একটি প্রাকৃতিক ঘটনা (সুতরাং মিথ্যা বিশ্বাসের ভিত্তিতে আমার প্রতি ঈমান আনার দরকার নাই)।

বর্তমানের এই বিকৃত ইসলামে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে অহরহ গুজব রটানো হয়। ধর্মের ধ্বজাধারী শ্রেণিটি গুজব রটিয়ে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করতে এতটাই পারদর্শী যে, যে কেউ তাদেরকে সমীহ করে চলতে বাধ্য হয়। আল্লাহর ঘর মসজিদের মাইক পর্যন্ত ব্যবহার করা হয় মিথ্যা গুজব ছড়ানোর কাজে। চলতি বছর নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে মসজিদের মাইকে হেযবুত তওহীদের সদস্যদেরকে খ্রিষ্টান বলে গুজব রটিয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। হামলা চালিয়ে হেযবুত তওহীদের দুইজন সদস্যকে প্রকাশ্য দিবালোকে জবাই করে ও হাত পায়ের রগ কেটে হত্যা এবং লাশে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ধর্মের নামে গুজব রটিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো, এমনকি নিরীহ মানুষ হত্যার মত এমন ঘটনা এখন প্রায়ই ঘটছে।

আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম আইয়্যামে জাহেলিয়াতের খারাপ মানুষগুলোকেই অল্পদিনের মধ্যে এমন পরিবর্তন করে ফেলেছিল যারা নীতি-নৈতিকতা, সততা, সত্যবাদিতা, আমনতদারী, ওয়াদা রক্ষা এবং বিশ্বস্ততায় তৎকালীন পৃথিবীতে অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। আজও আমরা তাদের নাম উচ্চারণ করলে বলি- রাদি’আল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু।

এই ইসলাম মানুষের নীতি-নৈতিকতাবোধ তৈরি ও চারিত্রিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ- এ কথা সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিমাত্রই স্বীকার করতে বাধ্য হবেন। উপরন্তু ধর্মের লেবাস ধারণ করেই খুব সহজে অনৈতিক ও অসৎ কর্মকাণ্ড করার ঘটনা ঘটছে আজকাল। বস্তুত মানবতার মুক্তির জন্য আসা ধর্মকেই যখন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থোদ্ধারের হাতিয়ার বানানো হয় তখন এর চেয়ে ভালো পরিণতি আশা করাটাও বোকামী।

ওই ইসলাম সকল ধর্মের মানুষের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিল। মানুষ এতখানি ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করত যে, মুসলিম জাহানের খফিলা ওমর (রা.) এর ঘরেই খ্রিষ্টান কর্মচারী কাজ করত। আমর ইবনুল আস (রা.) এর একটি ঘটনা এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। তখন মিশর ছিল মুসলিম শাসনাধীন দেশ। একদিন খ্রিষ্টান পাদ্রীদের একটি দল আমর ইবনুল আস (রা.) -এর কাছে অভিযোগ করলেন, মুসলমানদের মিসর জয়ের পর কে বা কারা তাদের নবী ঈসা (আ.)-এর একটি মূর্তির নাক ভেঙে দিয়েছে। এ কথা শুনে আমর ইবনুল আস (রা.) ব্যাপক তদন্ত শুরু করলেন। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করেও অপরাধীকে ধরতে পারলেন না। অবশেষে তিনি ওই খ্রিষ্টান পাদ্রীদেরকে ডেকে প্রস্তাব করলেন যে, যেহেতু আমার শাসনামলে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে, এর দায়ভার পরোক্ষভাবে আমার উপরই বর্তায়। এর প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে আপনারা আমার নিজের নাক কেটে নিন। এ কথা শোনার পর যে মুসলিম ব্যক্তিটি মূর্তির নাক কেটেছিল সে ছুটে এসে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয়। এ ঘটনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম ভিন্নধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করতে কতটা দায়বদ্ধ ছিল।

বর্তমানের বিকৃত ইসলাম ভিন্নধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে কেবল খর্ব করা নয়, বিধর্মীদেরকে কতল করার বৈধতা পর্যন্ত প্রদান করে। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ইসলামের নামে গজানো উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো ভিন্নধর্মের মানুষকে নিছক তাদের ধর্মবিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে হত্যা করছে এবং সেসব হত্যার বৈধতা তারা দাবি করছে বর্তমানের এই বিকৃত ইসলামের ফতোয়ার বইগুলো থেকে।

ওই ইসলাম পৃথিবীর সবচেয়ে অবজ্ঞাত, অবহেলিত, শিক্ষা-দীক্ষাবঞ্চিত, দরিদ্র ও দুর্বল আরবদেরকে জ্ঞানে-বিজ্ঞানে, সামরিক শক্তিতে, শিক্ষায়-দীক্ষায়, নীতি-নৈতিকতায় উন্নতি-প্রগতির এমন আসনে অধিষ্ঠিত করেছিল যাদের দেখে বাকি পৃথিবীর অন্যান্য জাতিগুলো শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রমের চোখে চেয়ে থাকত।

এই ইসলাম মুসলিম নামক জাতিটিকে জ্ঞান-বিজ্ঞানবিমুখ, শিক্ষা-দীক্ষায় অনাগ্রহী, অন্ধত্ব গোড়ামী ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন পশ্চাদপদ একটি জনসংখ্যায় পরিণত করেছে, যারা কিনা ইউরোপ-আমেরিকার বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও নতুন নতুন প্রযুক্তির দিকে মাছের মত ‘হা’ করে তাকিয়ে থাকে।

প্রকৃত ইসলামের সালাহ জাতিকে শিক্ষা দিয়েছিল ইস্পাতের মত ঐক্য, পিঁপড়ার মত শৃঙ্খলা, মালায়েকের মত আনুগত্য, কঠিন সময়ানুবর্তীতা, আল্লাহ যা কিছু নিষেধ করেছেন তার থেকে এবং শেরক ও কুফর থেকে হেজরত করার মত চরিত্র।

পক্ষান্তরে বর্তমানের মসজিদগুলিতে মুসল্লিরা সেজদার স্থানে নোংরা জুতা রেখে সালাহ করেন যেন অপর কোন মুসল্লি সেগুলি চুরি না করতে পারে। সমাজের বহু দুর্নীতিবাজ ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি রয়েছেন যাদের কপালে সেজদা করতে করতে কড়া পড়ে গেছে। বর্তমান ইসলামের সালাহ তাদেরকে অন্যায় করা থেকে বিরত রাখতে পারছে না।

প্রকৃত ইসলামে যাকাত ছিল একটি জাতীয় খাত। জাতীয়ভাবে ধনীদের থেকে যাকাত আদায় করা হত এবং প্রাপ্যদের মধ্যে বিতরণ করা হত। ইসলামের অর্থনীতি বাস্তবায়নের ফলে একটা সময় পরে এসে সমাজে এমন স্বচ্ছলতা এসেছিল যে সদকা এবং যাকাতের অর্থ নেওয়ার মত লোক খুঁজে পাওয়া যেত না।

বর্তমানের ইসলামে যাকাত একটি ব্যক্তিগত দানের বিষয়। ধনী লোকেরা লোক দেখানোর জন্য যাকাতের কাপড় ইত্যাদি বিতরণ করে এবং সেই যাকাত নিতে এসে পায়ের তলে পিষ্ট হয়ে মারা যায় বহু হতদরিদ্র মানুষ।

আল্লাহ ও রসুল (সা.) এর প্রকৃত ইসলামে হজ্ব হচ্ছে এমন একটি বিধান যার মাধ্যমে আল্লাহ ব্যবস্থা করে দিয়েছেন পৃথিবীময় ছড়িয়ে থাকা মুসলিম জাতির প্রতিনিধিরা বছরে একবার মক্কায় এবং আরাফাতের ময়দানে একত্র হয়ে তাদের জাতীয় সমস্যা পর্যালোচনা করবে, পরামর্শ করবে, সিদ্ধান্ত নেবে, উম্মতে মোহাম্মদীর উপর আল্লাহ ও তাঁর রসুলের (সা.) যে মহা দায়িত্ব অর্পিত আছে তা কতদূর অগ্রসর হলো, এখন কি কি বাধা আসছে এবং কেমন করে সে সব অতিক্রম করতে হবে সে সম্বন্ধে পরামর্শ করে ভবিষ্যত কর্মপন্থা স্থির করবে। অর্থাৎ হজ্ব হচ্ছে একদিকে বিশ্ব-মুসলিমের বার্ষিক মহা সম্মেলন অপরদিকে আল্লাহর সামনে হাশরের ময়দানে জীবনের সমস্ত আমল তুলে ধরার আধ্যাত্মিক মহড়া।

বর্তমানের ইসলামের মহা আবেদরা আত্মার উন্নতির জন্য হজ্ব করতে যান। চুপচাপ যান, চুপচাপ ফিরে আসেন। অন্যের সমস্যা, অন্যের বিপদে তাদের কী আসে যায়? বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য জাতি দ্বারা মুসলিমরা লাঞ্ছিত হচ্ছে হোক, মরছে মরুক, বাড়ি ঘর ছাড়া হচ্ছে হোক, না খেয়ে মরছে মরুক, হাজার হাজার মুসলিম মেয়ে ধর্ষিতা হয়ে গর্ভবতী হচ্ছে, হোক, তাতে হাজীদের কী আসে যায়? তাদের আত্মার ধোয়ামোছা হলেই হলো। অথচ বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন- এই জাতিটি একটি শরীরের মত, এর কোথাও ব্যথা হলে তা সমস্ত শরীরকে অসুস্থ করে [বোখারী, মুসলিম, মেশকাত]। অর্থাৎ পৃথিবীময় ছড়িয়ে থাকা এই উম্মাহর যে কোন স্থানে আঘাত লাগলে তা সমস্ত শরীরে অনুভূত হয়। তিনি এই জাতির যে সংজ্ঞা দিলেন সেই সংজ্ঞা অনুযায়ী আজকের হাজীরা কি তাঁর উম্মতের হাজী? এদের অনেকের হজ্বের উদ্দেশ্য যেন কেবল নামের আগে ‘আলহাজ্ব’ উপাধি সংযোজন করা।

প্রকৃত ইসলামে মসজিদ ছিল উম্মাহর প্রাণকেন্দ্র। সালাহ কায়েম করা ছাড়াও মসজিদ থেকেই প্রেরিত হত সেনাবাহিনী, মসজিদেই খলিফার সাথে সাক্ষাৎ করতেন বিভিন্ন রাষ্ট্রের দূতগণ, জুমার দিনে মসজিদেই বসত আদালত, সাজা দেওয়া হত অপরাধীদের। প্রতি ওয়াক্তে নারী ও পুরুষ সকলেই সালাতে অংশ নিত। মসজিদ ছিল প্রাণবন্ত, জীবন্ত।

বর্তমানের ইসলামে মসজিদে নামাজ পড়া ছাড়া আর কোন কাজ করা নিষেধ, এমন কি অনেক মসজিদে লেখা থাকে ‘মসজিদে দুনিয়াবি কথা বলা হারাম’। বর্তমানে মসজিদে মেয়েদের বলতে গেলে কোন প্রবেশাধিকারই নেই। বর্তমানের মসজিদগুলি নি®প্রাণ, অধিকাংশ সময়েই গেটে তালা ঝুলানো থাকে।

প্রকৃত ইসলামে জাতির মধ্যে শিক্ষিত অশিক্ষিত কোন বিভাজন ছিল না। অর্থের বিনিময়ে ধর্মীয় কাজকর্ম করার জন্য আলাদা একটি পুরোহিত শ্রেণী অর্থাৎ ধর্মব্যবসায়ী আলেম মোল্লা শ্রেণীর কোন অস্তিত্বই ছিল না। ইসলামের প্রতিটি কাজ কেবল মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই করা হত।

বর্তমানের এই জনসংখ্যাটি প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত। এক) দীন সম্পর্কে অজ্ঞ বৃহত্তর জনগোষ্ঠী, দুই) বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা যেমন- নামাজ পড়ানো, মুর্দা দাফন করা, কবর জেয়ারত করা, মিলাদ পড়া, দোয়া করা, ওয়াজ নসীহত করা, পীর মুরিদি করা ইত্যাদির জন্য ব্রিটিশদের তৈরি মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে আসা আলেম মোল্লা নামক আলাদা একটি শ্রেণী, ৩) সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত ইসলাম বিমুখ একটি শ্রেণী যারা নিজেদের মুসলিম পরিচয় ও ধর্ম সম্পর্কে গভীর হীনম্মন্যতায় আচ্ছন্ন এবং পাশ্চাত্যের মানসিক দাস। পাশ্চাত্যের তৈরি সমাজব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা, রাজনীতি, অর্থনীতি প্রভৃতিকে নিজেদের দেশে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য নিবেদিতপ্রাণ। জাতির বৃহত্তর অশিক্ষিত জনগোষ্ঠী তাদের আখেরাতের মুক্তির জন্য যায় ঐ ধর্মব্যবসায়ী আলেম পুরোহিত শ্রেণীর নিকট, আর জাগতিক সকল প্রয়োজনে যেমন কোর্ট কাচারি, বিচার, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক বিষয়াদি, ব্যবসা বাণিজ্য ইত্যাদির জন্য যায় সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত শ্রেণীটির নিকট।

প্রকৃত ইসলাম আলী, সাদ, খালেদ, দেরার, মুসান্না, আবু ওবায়দার (রা.) মত ইতিহাস সৃষ্টিকারী মহাযোদ্ধা তৈরি করেছিল, যারা সম্মিলিত যুদ্ধে তো বটেই, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বযুদ্ধেও তৎকালীন পৃথিবীর সুপার পাওয়ার রোমান ও পারস্যের বড় বড় সেনাপতিদেরকে ধরাশায়ী করতেন। ফলে ওই জাতির দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পৃথিবীর কারো ছিল না।

গত কয়েক শতাব্দী ধরে চলা এই ইসলাম লক্ষ লক্ষ মুফতি, মুহাদ্দিস, মুফাসসির, শায়েখ, পীর, দরবেশ সৃষ্টি করলেও একজন আলী, একজন সাদ, একজন খালেদ, একজন দেরার, একজন মুসান্না বা একজন আবু ওবায়দা সৃষ্টি করতে পারে নাই। ফলে সর্বত্র জাতি আজ অপমানিত ও পরাজিত।

প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা পেয়ে আরব সমাজ থেকে মাদকদ্রব্য এমনভাবে নির্মূল হয়েছিল যে, মাদক হারাম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই বাড়িতে রক্ষিত মদ রাস্তায় ঢেলে ফেলে দিয়েছিল। একজন ব্যক্তিকেও মদ্যপানের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি, কেবল কয়েকজনকে রসুলাল্লাহ বেত্রাঘাত করেছেন। বাকিদেরকে হালকা তিরস্কার দিয়েই ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী সমাজ থেকে মাদক নির্মূল হয়ে গেছে।

পক্ষান্তরে আজ মাদকের বিরুদ্ধে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও সরকারকে রীতিমত যুদ্ধ করতে হচ্ছে, কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে তবুও মাদকাসক্তি যেন ধাঁই ধাঁই করে বেড়ে চলেছে। এক ফিলিপাইনে প্রায় তিন হাজারের অধিক ব্যক্তি মাদক নির্মূল অভিযানে নিহত হয়েছে।

এরকম পার্থক্যের কথা অনেক বলা যাবে, এর কোনো শেষ নেই। কিন্তু সুস্থচিন্তার যুক্তিশীল মানুষের বোঝার জন্য এটুকুই যথেষ্ট হবে যে, আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম ঐক্যহীন কলহ-বিবাদে ও দাঙ্গা-হাঙ্গামায় লিপ্ত আরব জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল, শত্রুকে ভাই বানিয়ে দিয়েছিল, অবজ্ঞাত, উপেক্ষিত জাতিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি বানিয়েছিল, ভীরুকে প্রচণ্ড সাহসী বীর যোদ্ধায় রূপান্তরিত করেছিল এবং ওই ন্যায়যোদ্ধাদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার হিম্মত বাকি পৃথিবীর কারো ছিল না। তারা ছিলেন পৃথিবীর যাবতীয় অত্যাচারী শক্তির ত্রাসের কারণ।

আর আজকে প্রকৃত ইসলামের বিপরীত শিক্ষাসংবলিত ধর্মব্যবসায়ীদের চালু করে রাখা বিকৃত ইসলাম মৃত্যুভয়ে ভীত কাপুরুষ তৈরি করে, যাদের মধ্যে কোনো ঐক্য নেই, শৃঙ্খলা নেই, যারা সারা পৃথিবীর অবজ্ঞা ও ঘৃণার পাত্র। যাদের দেশগুলো ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে, লক্ষ লক্ষ নারীর সম্ভ্রমহানি হচ্ছে, কিন্তু একটা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানোর হিম্মত তাদের নেই। কথায় আছে, বৃক্ষ তোমার নাম কী? ফলে পরিচয়। একই বৃক্ষে দুই রকম ফল ধরতে পারে না। আল্লাহ-রসুলের ইসলামের ফলের সাথে বর্তমানের ইসলামের ফল আকাশ-পাতাল তফাৎ এবং এতেই প্রমাণিত হয়, আল্লাহর রসুল যেই ইসলাম নিয়ে সংগ্রাম করেছেন আর বর্তমানে আমরা যে ইসলাম পালন করছি তা এক নয়, একটি প্রকৃত ইসলাম, অপরটি বিকৃত ও বিপরীতমুখী ইসলাম।

[লেখক: সম্পাদক, দৈনিক দেশেরপত্র; যোগাযোগ: ০১৬৭০১৭৪৬৪৩, ০১৭১১০০৫০২৫, ০১৯৩৩-৭৬৭৭২৫, ০১৭৮২-১৮৮২৩৭]