শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের উত্তর শার্শার সীমান্ত এলাকার মাদক-চোরাচালান সিন্ডিকেড আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির পূর্ববর্তী সময়ে মাদকের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জিরো-টলারেন্স নীতি ঘোষণা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কিছু কারবারি আটক হলেও অনেকেই গ্রেফতার এড়াতে গাঁ ঢাকা দেয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাদক-চোরাচালান সিন্ডিকেডের বড় বড় রাঘব বোয়াল খোলস পরিবর্তন করে চলতে থাকে।

এসময়ে অভিযানে সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান ব্যবসা সীমিত হয়ে আসে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সীমান্তে মাদকের বিরুদ্ধে তেমন কোন অভিযান না থাকায় আবারও বেড়েছে মাদক চোরাচালান। এ সুযোগে মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেড চক্রটি বর্তমান নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে উত্তর শার্শার সীমান্ত অঞ্চল। মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেডের সদস্যরা রাতের আঁধারে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারতীয় কাঁটা তারের ফাঁক গলিয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মাদক এনে জড়ো করে সীমান্ত গ্রামগুলোতে। সময় সুযোগ অনুযায়ী মাদকের ছোট-বড় চালান বিভিন্ন বাহনে করে যশোর-ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উত্তর শার্শার সীমান্ত গ্রাম কাশিপুর, বটতলা, বাউন্ডারী, টেংরালী, পাকশিয়া, শিব্বাস, শালকোনা, ফুলসর, নারিকেলবাড়িয়া, শিকারপুর, মুক্তদাহ খামারপাড়া, ছাত্রাপাড়া, দূর্গাপুর, বাহাদুরপুর, ধান্যখোলা, ঘিবা, সাদিপুর, রঘুনাথপুর। ওই সকল গ্রামগুলো ভারতীয় সীমানা কাঁটা তারের বেড়া পার্শবর্তী হওয়ায় মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেডের সদস্যরা খুব সহজে ভারত থেকে মাদক আনা-নেওয়া করতে পারে। সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ক্যাম্প গুলো নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান থাকায় চক্রটি বিজিবি সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে সিমান্ত কাঁটা তারের বেড়ার ফাঁক গলিয়ে ভারত থেকে ফেন্সিডিল, মদ, গাঁজা ও ইয়াবা দেশে নিয়ে আসছে।

সীমান্ত সূত্র মতে, বিভিন্ন মাদকের চালান পাচারে চক্রটি সীমান্ত এলাকার সাদিপুর-রঘুনাথপুর-বাহাদুরপুর-মান্দারতলা-শ্রীকোনা-নাভারণ,ঘিবা-ধান্যখোলা-বাহাদুরপুর-নিজামপুর-বাসাবাড়ি-ঝিকরগাছা, দূর্গাপুর-ছাত্রাপাড়া-লক্ষণপুর-গোড়পাড়া-হাজরাতলা-শিমুলিয়া-বেনেয়ালী,শিকারপুর-নারিকেলবাড়িয়া-শাড়াতলা-ছুটিপুর,শালকোনা-পাকশিয়া -রঘুনাথপুর-বেলে-ছুটিপুর, বটতলা-কাশিপুর-বিষহরি-ছুটিপুর রুট ব্যবহার করে। সূত্র আরও জানায়, কৌশল হিসেবে মাদক সিন্ডিকেড চক্রের কিছু সদস্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সাথে সক্ষতা রেখে তাদের সোর্স হিসেবে নিজেদের ব্যবহার করে। সোর্স ছোট ছোট মাদকের চালান ধরিয়ে দেয় আর অন্য দিক দিয়ে মাদকের বড় বড় চালান পাচার করে। বেনাপোল ও এর আশেপাশে, হাইওয়ে রোডে প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের মাদকের বিরুদ্ধে নজরদারি সহ বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা লক্ষ করা যায়। কিন্তু উত্তর শার্শার সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন মাঝে মাঝে কিছু অভিযান পরিচালনা করলেও উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনের তেমন কোন নজরদারী বা অভিযান না থাকায় অনেকটা নির্বিঘ্নে সিন্ডিকেড চক্রটি চালিয়ে যাচ্ছে তাদের মাদক কারবার।

শার্শা থানার গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সামনুর মোল্যা সোহান বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে মাদকের অপতৎপরতা থাকা সত্ত্বেও আমরা তা দমন করার চেষ্টা করছি। আমরা সার্বক্ষণিক নন-ষ্টপ পাহারা ও বিভিন্ন জায়গায় পাহারা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের নজরে বা জানামতে কোন চোরাচালান হচ্ছে সংবাদ পেলে সাথে সাথে এ্যাকশন নিই। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠিন সতর্কবার্তা সোর্সের সাথে কোন প্রকার সম্পৃক্ততা যেন না থাকে।