ক্রীড়াঙ্গন ডেস্ক:
জাপানের কোভিড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে টোকিও অলিম্পিক কমিটি। অবস্থা বেগতিক হলে, যে কোনো মুহূর্তে আসর বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন কমিটির প্রধান নির্বাহী তশিরো মুতো। তবে এখনই কোনো আগাম কথা না বলে, সবাইকে বায়োবাবল মেনে ভিলেজে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে শঙ্কা সত্ত্বেও সফট বল ইভেন্টের মধ্য দিয়ে ফুকুশিমাতে শুরু হয়ে গেছে আসরের আনুষ্ঠানিকতা।
সময় যত গড়াচ্ছে, ততই যেন শঙ্কার মেঘে ছেয়ে যাচ্ছে টোকিওর আকাশ। যেখান থেকে মুক্ত থাকতে পারছে না অ্যাথলিটদের ভিলেজ। একের পর এক কোভিড আক্রান্তের খবরে ভীত হয়ে পড়ছেন অ্যাথলিটরা। এ অবস্থায় স্বাভাবিক খেলা চালানো নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে কর্মকর্তাদের মাঝে।
অলিম্পিক ভিলেজে প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছেন নতুন কোনো অ্যাথলিট কিংবা কর্মকর্তারা। টোকিও শহরেও ছড়িয়ে আছে করোনা আতঙ্ক। সাধারণ মানুষরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ নিয়ে। আসরের জৈব সুরক্ষা বলয় নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা ছিল নানা মহলে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে একেবারেই ভ্রুক্ষেপ করেনি আয়োজকরা। উল্টো ভিলেজ কিংবা দলগুলোর থাকার জায়গায় স্থানীয়দের অবাধ আনাগোনা সংক্রমণ বাড়িয়েছে কয়েকগুণ।
তবে সামগ্রিক জাপানের কোভিড পরিস্থিতি অন্যান্য দেশের তুলনায় ভালো বলে এখনও আসর নিয়ে নেতিবাচক কিছু ভাবতে চাইছে না কেউ। কিন্তু গত এক সপ্তাহে টানা ছয় দিন এক হাজার রোগী শনাক্ত হওয়ায় কিছুটা ধাক্কা লেগেছে তাদের আত্মবিশ্বাসে।
এ অবস্থায় এখন কতটা সফলভাবে আসর আয়োজন সম্ভব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে খোদ অলিম্পিক আয়োজক কমিটিতেই। নিজেদের মধ্যে বৈঠকে আসর বাতিলের প্রস্তাবও এসেছে অনেক সদস্যের কাছ থেকে। তবে এতো দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে রাজি হচ্ছেন না সেইকো হাসিমুতোর নেতৃত্বাধীন আয়োজন কমিটি। বরং আরও কিছুটা সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন তারা।
অলিম্পিক আয়োজক কমিটির প্রধান নির্বাহী তোশিরো মুতো জানান, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত প্রতিদিনই বাড়ছে। তবে অবস্থা এখনও এতোটা খারাপ হয়নি যে আসর বাতিল করে দিতে হবে। তবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে আমরা অবশ্যই নতুন করে ভাববো। স্পন্সররাও কিছুটা শঙ্কিত। আমরা সবাইকে নিয়ে শিগগিরই একটা মিটিংয়ে বসব। দেখা যাক সবাই কি ভাবছে। আমরা কারো ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেব না। এটা একটা বৈশ্বিক আসর, জাপান কিংবা টোকিওর একার কিছু নয়। তাই সবাইকে একটু আস্থা রাখতে অনুরোধ করব। আমরা সব কিছু পর্যবেক্ষণে রেখেছি। জীবনের আগে কোনো কিছু নিয়েই আমরা ঝুঁকি নেব না।
এদিকে আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে যতই শঙ্কার কথা বলা হোক না কেন ফুকুশিমাতে কিক অফ হয়ে গেছে এবারের আসরের। ক্লোজড ডোর স্টেডিয়ামে সফট বল ইভেন্ট দিয়ে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিকতা। যেখানে প্রথম দিনই মাঠে নামে স্বাগতিক জাপান। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়াকে ৮-১ পয়েন্টে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে তারা। দর্শকবিহীন গ্রাউন্ডে ছিল দুই দেশের খেলোয়াড় স্টাফ এবং নিরাপত্তা কর্মীরা।
২৩ জুলাই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে অলিম্পিকের এবারের আসর। যেখানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন সাঁতারু আরিফুল ইসলাম।