চাষী জীবন
মো. আসাদুল ইফতেখার

আগের দিনে পান্তা খেত
আমানিতে থাকত দুটাে ভাত।
সাথে থাকত কাঁচা মরিচ
আরো থাকত পেয়াজ ।

বাচ্চারা সব খাবার নিয়ে
যেত দুরের মাঠে,
পানায়, খড়ম ছিল না পায়ে
যেত মাঠে স্কুল শুরুর আগে।

বড় বড় ঢেলার মাঝে
হাঁটত শত কষ্ট ভুলে।
দুরের মাঠে বাবার কাছে
চলত আইল ধরে।

হঠাৎ করে হুচোট খেয়ে
পড়ত ঢেলার পরে,
সবই খাবার পড়ত ক্ষেতে
তখন কিযে করে!
বাবার কাছে চাপা কষ্টে বলত গিয়ে
ডুকরে ডুকরে ভরা চক্ষু জলে।

এই ঘটনা ঘটত,প্রায়ই চাষীর কপালে,
বাবা তখন দিত শান্তনা সবকিছু ভুলে।
বলত বাবা যাগ্যে ওসব পড়ে,লাগেনি তো?
দু`এক বেলা না খেলেও চলে।

তবুও তার কোমল হৃদয়
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে মরে।
কখন বা অনাহারে করত মাঠে চাষ,
খেতো না ভাত, যেদিন যেত পড়ে।

যারে বাবা স্কুলেতে,
পানির কেড়েটা কাছে দিয়ে চলে।
অনাহারে থাকত বাবা,
খেতো "ছোলা হড়া" করে।

ধর্য্য ধরে থাকতো বাবা
তখন কি যে করে?
কৃষকেরা সব মাঠেই খেতো,
ভাতের গামলা ধরে।

দুরের মাঠে রাখাল ভাইয়ে
বলত দিয়ে ডাক,খাবিনা?
বলব কি আর,
ভাত গেছে সব পড়ে ।

আস, তামাক খাবিনে?
আগুন আছে? আসিস নিয়ে।
আসার সময় পানির কেড়েটা
আনবি সাথে করে।

দুরের মাঠে রাখাল ভাইয়ে
আসত গরু-লাঙ্গল ফেলে,
দু'সেলুন তামাক খেতে
যেত বহুদুরে!
নেশা বেজায়, মিটত আড্ডা হলে
উলাগুড়ের তামাক মাখা পেলে।

ফিরত চাষী লাঙ্গল নিয়ে
বেলা এক'টা হলে
লাঙ্গল-জোয়াল কাঁধে নিয়ে
দিত চাষী, গরু বাওড়-খালের জলে।

চাষীরা সব গা ধোয়ায়ে দিত গরু ছেড়ে,
বাড়ির পথে ছোট্ট পায়ে,হাঁটত ক্ষুধা ভুলে।
হাতে থাকত কাঁচা ছোলার গাছ
ছিড়ত ছোলা, খেত টুকটাক, ফিরত মনো ভুলে।

কৃষকেরা সব ধর্য্য ধরে
করত জমি চাষ,
মহাজনকে দিত বুঝে
দ্দর কিম্বা এক চাষ।

এভাবে তাদের কাটত জীবন,
লাঙ্গল-জোয়াল, পেচুনি-গরু হালে
ফিরে এসে কাটত বিচালি,
কাঁচা জাওনা পেলে।

মেয়েরা সব ঘরের কোণে
পলগাদায় রাখত গাভী বেঁধে।
ফিরে এসে বাঁধত চাষী
হালের গরু, পল গাদার পলে।