নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা:
চলমান লকডাউন এর মধ্যে নবীনগর উপজেলার পূর্বাঞ্চলীয় প্রায় ১ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চালকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন উৎকণ্ঠা চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর পৌর এলাকার সিএনজি চালকদের সাথে মনোমালিণ্য সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে নবীনগর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের সিএনজি অটোরিকশা চালক মালিক সমিতির তাদের অস্থায়ী আসন গাড়ে উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের রছুলপুর নামক স্থানে।

জানা যায়, শুরুতে সকল চালকরা ঐক্যবন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে তাদের মধ্যে শুরু হয় অন্তর্দ্বন্দ্ব। পূর্ব ছয় ইউনিয়নের কিছু সিএনজি চালক এরমধ্যে গোপন আঁতাত শুরু করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পৌর এলাকার সিএনজি চালকদের সাথে। তারা রছুলপুর সিএনজি স্ট্যান্ডকে অরক্ষিত রেখে নিজেদের মতো চলাচল শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপা ক্ষোভ। যেকোন সময় সংঘাতের উপক্রম শুরু হয়েছে।

রছুলপুর সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঐক্য বিনষ্ট করে কেউ নাটঘর ইউনিয়নের উপর দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে যেতে দেওয়া হবে না। তাদের দাবি, হয় শহরের সিএনজি চালকদের সাথে সুন্দর সমঝোতা করতে হবে,নয়তো রছুলপুর সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডকে সমর্থন দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

এরমধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় সিএনজি চালকদের মধ্যে শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব। যেকোন সময় এই বিষয়ে বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে। এরই মধ্যে উপজেলার রছুলপুর গ্রামে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড বাস্তবায়নে জোরালো দাবীতে সাংবাদিক সম্মেলন করেন পূর্বাঞ্চলীয় সিএনজি মালিক সমিতি।

বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় রছুলপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মিলিত হন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সহ মালিক সমিতির নেতারা। তারা অতি দ্রুত রছুলপুর গ্রামে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড বাস্তবায়নে সবাইকে এক হওয়ার দাবী জানান। অন্যথায় আগামী ৩১ জুলাই থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মালিক সমিতির পক্ষে সংগঠনের উপদেষ্টা ও নাটঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম।
তিনি জানান, আমাদের এলাকার সিএনজি ও অটুট রিকশা চালকদের সাথে অন্যায় করা হচ্ছে।তাদের সিএনজি ও অটু রিকশাতে যাত্রী উঠতে দিচ্ছে না ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কিছু সন্ত্রাসী।তাদের সিএনজি অটো রিকশা জোর করে আটকে রাখেন।এমন চলতে থাকলে ভুক্তভোগী চালকদের পরিবার না খেয়ে মারা যাবে। এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- পূর্বাঞ্চলীয় সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল হক সরকার,সাধারণ সম্পাদক মোঃ জয়নাল আবেদিন,সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সোহেল মিয়া দপ্তর সম্পাদক শাহ আলম সহ আরো বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এসময় তারা বলেন, আমরা সিএনজি ও অটো রিকশা চালকরা চাই আমাদের রছুলপুর গ্রামে স্টেশন রাখতে চাই। আমাদের অনেক গুলি গাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলার শিবপুরের কিছু সন্ত্রাসী আটকে রেখেছে। আমাদের যাত্রী নিয়ে ভাড়া মারতে দেয় না।আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরবো। আমরা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনা সঠিক বিচার চাই।

পরে উপস্থিত সকল চালকরা দাবীর সাথে একমত পোষণ করে বিক্ষোভ-মিছিল করেন।