রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে অটো ও সিএনজির চালকদের মধ্যে দু’গ্রুপে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, বিক্ষোভ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের। এতে উভয় পক্ষে আহত হয়েছেন ২৫ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে-৪ জনকে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার বটতলা নামক স্থানে।

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অটো চালকদের কাছে সিএনজির চালকদের পক্ষে দীর্ঘদিন থেকে চাঁদা আদায় করে আসছিল। গত বুধবার এ নিয়ে সিএনজির চালক ইউনুস আলী অটো চালক শহিদকে বেধরক মারপিট করে। পরে উভয় পক্ষ রাজিবপুর থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনার ৩ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অটো চালকরা প্রায় দেড়শতাধীক অটো নিয়ে বিক্ষোভ ও রাজিবপুর থানা ঘেরাও করে। এসময় পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলে তাদেরকে আশ্বাস দেন। থানা চত্বর থেকে ফিরে এসে অটো চালকরা বটতলা মোড়ে চাঁদাবাজদের চাঁদা দিবেন না বলে প্রতিবাদ জানায়।

এনিয়ে উভয়ে পক্ষে বাকবিতন্ডার এক পর্যায় অটো ও সিএনজির চালকদের মধ্যে দু’গ্রুপে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়, ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেন, এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এতে উভয় পক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক রনজু (২৫), আব্দুল বাতেন (৩৫), আকিদুল (৫৫), নজরুল ইসলাম (৬০) শহিদ (৩২) ও রাশেদুল ইসলাম (৩৫) জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা করেছেন। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সময় সাব্বের আলীসহ উভয় পক্ষে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।

অটো চালক শহিদ জানান, চাঁদা না দেওয়া আমাদেরকে মারধর করে। পরে পুলিশকে জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা থানার সামনে বিক্ষোভ করি।

সিএনজি চালক আব্দুল বাতেন বলেন, তারা সুপরিকল্পিত ভাবে আমাদের উপর হামলা চালায়।

এ ব্যাপারে রাজিবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মজাহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাব্বের আলীসহ উভয় পক্ষে ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।