Date: March 08, 2026

দৈনিক বজ্রশক্তি

Header
collapse
...
Home / সারাদেশ / ঢাকা / মাদারীপুরে নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া শ্যালক-দুলাভাইয়ের ৭ বছরের কারাদণ্ড

মাদারীপুরে নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া শ্যালক-দুলাভাইয়ের ৭ বছরের কারাদণ্ড

February 27, 2026 03:13:17 PM   বজ্রশক্তি ডেস্ক
মাদারীপুরে নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া শ্যালক-দুলাভাইয়ের ৭ বছরের কারাদণ্ড

মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরে জমি জালিয়াতির একটি মামলায় নিম্ন আদালতে বেকসুর খালাস পাওয়া দুই আসামিকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলার উচ্চ আদালত। আপিল করার মাত্র চার মাসের মধ্যে রায় ঘোষণা করে আদালত দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তবে রায় ঘোষণার আগেই সময় প্রার্থনার অজুহাতে আদালত চত্বর ত্যাগ করায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (১ম আদালত)-এর বিচারক নাহিদুর রহমান নাহিদ জাল দলিল ও জালিয়াতির অপরাধে আসামি আবুল কালাম আজাদ এবং তাঁর শ্যালক গৌতম ভট্টাচার্য খুদুকে এই সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেন। দ্রুততম সময়ে ন্যায়বিচার পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি)। অন্যদিকে, এ রায় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে মাদারীপুরের রাজৈর পৌরসভার তেঁতুলতলা এলাকার স্বরমঙ্গল মৌজায় (দাগ নম্বর ১০৭১) সেলিম শেখের কাছ থেকে ৮ শতাংশ জমি কেনেন সানোয়ার হোসেন ও সৌদিপ্রবাসী সেলিম শরীফ। জমি কেনার পর তাঁরা সেখানে গাছপালা রোপণ করেন। কিন্তু কিছুদিন পরই ওই জমির মূল বিক্রেতা গৌতম ভট্টাচার্য খুদু জমিটি পুনরায় দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। তিনি তাঁর ভগ্নিপতি (দুলাভাই) আবুল কালাম আজাদের নামে একটি জাল দলিল তৈরি করে জোরপূর্বক জমিটি দখল করে নেন এবং জমিতে রোপণ করা গাছপালা কেটে ফেলেন।

বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার ও জালিয়াতির প্রতিকার চেয়ে 'ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩'-এর আওতায় ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল মাদারীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন সানোয়ার হোসেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের (২০২৫ সালের) ৩১ আগস্ট বিচারক মোহাম্মদ এলিয়াম হোসেন সব আসামিকে নির্দোষ ঘোষণা করে বেকসুর খালাস দেন।

নিম্ন আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে একই বছরের ৫ অক্টোবর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম রেজা। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত মাত্র চার মাসের মধ্যে পুনরায় বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন।

দীর্ঘ হয়রানির অবসান ঘটিয়ে দ্রুততম সময়ে এমন রায় পাওয়ায় এখন সরকারিভাবে জমিটি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মালিকরা। পাশাপাশি, জমিজমা সংক্রান্ত অন্যান্য হয়রানিমূলক মামলাগুলোও যেন আদালতের মাধ্যমে একইভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয় -এমনটাই প্রত্যাশা বিচারপ্রার্থীদের।