Date: February 26, 2024

দৈনিক বজ্রশক্তি

Header
collapse
...
Home / সারাদেশ / ঢাকা / শ্রীপুরে গাছজুড়ে শোভা পাচ্ছে কাঁঠালের মুচি

শ্রীপুরে গাছজুড়ে শোভা পাচ্ছে কাঁঠালের মুচি

February 11, 2024 04:38:55 AM   উপজেলা প্রতিনিধি
শ্রীপুরে গাছজুড়ে শোভা পাচ্ছে কাঁঠালের মুচি

আবদুল্লাহ তারেক রানা:
কাঁঠাল বাংলাদেশের সব এলাকায় কম-বেশি ফলে। তবে সবচেয়ে বেশি হয় উঁচু লাল মাটিতে। এ জন্য গাজীপুরকে বলা হয়ে থাকে কাঁঠালের রাজধানী। মাঘের শেষ এরমধ্যেই গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রতিটি গ্রামেই গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে কাঁঠালের মুচি।

উপজেলার পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের মতো এ বছরও প্রতিটি গাছে প্রচুর কাঠালের মুচি ধরেছে। বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে ফসলি জমির দু’ধারসহ বিভিন্ন জমিতে কাঁঠালের ফলন চোখে পড়ার মতো। গাছের গোড়া থেকে শুরু করে মগডাল পর্যন্ত থোকা থোকা ঝুলে থাকা মুচিগুলোই বলে দেয় ফলনে উপযোগী এই এলাকার মাটি।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কথা হয় তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের কাঠাল চাষি জহির মিয়া ও কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া গ্রামের ফরহাদের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবছর গাছে প্রচুর কাঁঠালের মুচি এসেছে। বড় গাছে ১০০-২০০টি এবং ছোট গাছে ৭০-১০০টি করে মুচি রয়েছে। যদি আবহাওয়া ঠিক থাকে তাহলে এ বছর প্রতিটি গাছে প্রায় শতাধিক কাঠাল থাকবে বলে আশা করেন চাষিরা। তবে কাঠাল পরিপক্ষ হতে আরো ৪০-৫০ দিনের মতো সময় লাগতে পারে।

তারা জানান, আকৃতিভেদে প্রতিটি কাঁঠাল খুচরা ও পাইকারি মূল্য আনুমানিক ৫০ থেকে ১৫০ টাকা হয়ে থাকে। কাঁঠাল সংরক্ষণ এবং সুষ্ঠু বাজারজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকলে চাষিরা কাঁঠালের ভালো দাম পাবেন বলে জানান। সংশ্লিষ্টদের কাছে এমন প্রত্যাশা করা হয়।

উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাঁশবাড়ী গ্রামের রতন মিয়া বলেন, আমাদের বাড়ির চারপাশে ৩০টি কাঁঠাল গাছ আছে। প্রতি বছর আমরা পরিবারের সবাই খেয়ে বাজারে বিক্রি করে থাকি। আমাদের গাজীপুরের কাঁঠাল দেশের সবাই  পছন্দ করে। প্রতিবছর কাঁঠাল ব্যবসায়ীরা বাড়িতে এসে কিনে নিয়ে যান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, উপজেলায় ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এবার ২৯৭৩ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষাবাদ হয়েছে। এবারে আমাদের লক্ষ্য মাত্রা রয়েছে ৬২ হাজার ৭০ মেট্রিকটন। এ উপজেলা বিভিন্ন এলাকাজুড়ে প্রতিটি কাঁঠাল গাছেই ব্যাপকহারে মুচি ধরেছে। গত বছরের তুলনায় এবছর আশানুরুপ ফলন আশা করছি।এছাড়া দেশের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত উৎপাদন করে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব। তাই আমরা কৃষকদেরকে কাঁঠাল চাষে আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।