Date: November 26, 2022

দৈনিক বজ্রশক্তি

Header
collapse
...
Home / সংগঠন সংবাদ / সোনাগাজীতে সাংবাদিকদের সাথে হেযবুত তওহীদের আলোচনা সভা

সোনাগাজীতে সাংবাদিকদের সাথে হেযবুত তওহীদের আলোচনা সভা

November 15, 2022 01:39:00 PM  
সোনাগাজীতে সাংবাদিকদের সাথে হেযবুত তওহীদের আলোচনা সভা

ফেনী জেলার সোনাগাজীতে গণমাধ্যম ব্যক্তিদের সঙ্গে হেযবুত তওহীদের ‘আলোচনা সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘অপপ্রচার, হুজুগ-গুজব সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে হত্যাকান্ড, জ্বালাও-পোড়াও ও লুটপাটের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে অবহিতকরণ’ প্রসঙ্গে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।  মঙ্গলবার দুপুরে হারবি কাবাব রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সোনাগাজীর গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় মুখ্য আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় উপকমিটির শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী রাকীব আল হাসান। তিনি হেযবুত তওহীদের সদস্য সমর্থকদের উপর দীর্ঘদিন ধরে চলমান মিথ্যাচার, অন্যায়, অবিচার, অপপ্রচার ও নির্যাতনের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আমাদের এই বাংলাদেশ, সাম্য ও সম্প্রীতির দেশ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলন তার অবিস্মরণীয় উদাহরণ। অথচ বিভিন্ন ইস্যুতে ধর্মীয় উগ্রবাদী চক্র আর স্বার্থান্বেষী অপরাজনীতিক গোষ্ঠী হুজুগ-গুজব সৃষ্টি করে, ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে হত্যাকান্ড, জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাট, ভাংচুর ইত্যদি মানবতা বিধ্বংসী নাশকতামূলক কর্মকান্ড সংঘটন করে। তাদের এই হুজুগ-গুজবের শিকার আমরাও হয়েছি বার বার।

তিনি আরও বলেন, আমরা হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের সদস্যগণ গত ২৭ বছর যাবৎ রাষ্ট্রীয় আইন মান্য করে যাবতীয় অন্যায়, অবিচার, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, নারী নির্যাতন, ধর্মের অপব্যবহার, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে কোরআন ও হাদীসের আলোকে ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরে গণসচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের এই কার্যক্রমের ফলে ধর্মীয় উগ্রবাদী, ধর্মের অপব্যবহারকারী চক্রের মুখোশ গণমানুষের কাছে প্রকাশিত হয়ে পড়ছে। এ কারণে তারা এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই মিথ্যাচার, অপপ্রচার, হুজগ-গুজব ছড়িয়ে ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় উম্মাদনায় উত্তেজিত করে আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দিচ্ছে। তারা আদর্শিকভাবে পরাজিত হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে, ইউটিউবে মিথ্যাচার, অপপ্রচার করছে, বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল ছবি পোষ্ট করে হেযবুত তওহীদের এমামের ব্যক্তিত্ব হরণ করছে, হেযবুত তওহীদের এমামকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে, হত্যা করার জন্য পুরুষ্কার ঘোষণা করেছ। হেযবুত তওহীদের মাননয়ী এমাম ও সদস্যদের অশ্লীল-অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা প্রভাবিত একটা শ্রেণি গত ২৩ আগষ্ট মঙ্গলবার রাতে হেযবুত তওহীদের পাবনা জেলা কার্যালয়ে আকস্মিক সশস্ত্র হামলা করে মো. সুজন মন্ডল নামের হেযবুত তওহীদের একজন সদস্যকে হত্যা এবং ১০জন সদস্যকে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করেছে। এপর্যন্ত হেযবুত তওহীদের পাঁচজন সদস্য-সদস্যাকে পৈশাচিক কায়দায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। চার শতাধিকবার হেযবুত তওহীদ সদস্য-সদস্যাদের উপর সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে শতাধিক সদস্য-সদস্যাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে, লাঠি-সোটা দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম করেছে, পঙ্গু করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের পৈশাচিক আক্রমণের জবাবে আক্রমণ না করে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেছি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো- আমরা একবারের জন্যও ন্যায় বিচার পাই নাই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিচারের নামে কালবিলম্ব করায় সশস্ত্র আক্রমণকারী ঘাতকরা বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর নিরবচ্ছিন্নভাবে হেযবুত তওহীদের এমামকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে, অশ্লীল-অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হেযবুত তওহীদ- শত্রুতার বদলে ভ্রাতৃত্বের, হিংসার বদলে সম্প্রীতির, ধ্বংসের বদলে নির্মাণের, অজ্ঞতার বদলে শিক্ষার আলো জ্বালাচ্ছি। গত ২৭ বছরে রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোন কাজ হেযবুত তওহীদ করেনি। কতগুলো সুস্পষ্ট নীতিমালার উপরে হেযবুত তওহীদ দাঁড়িয়ে আছে, যা হেযবুত তওহীদের সদস্যরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করে। সেগুলো হলো- হেযবুত তওহীদ কখনো কোনো রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করবে না, কোনো অবৈধ অস্ত্রের সংস্পর্শে যাবে না, ইসলামের কোনো কাজ করে বিনিময় গ্রহণ বা স্বার্থোদ্ধার করবে না, যারা হেযবুত তওহীদের সদস্য নয় তাদের কাছ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করা হবে না, সক্ষম কোনো মানুষ বেকার থাকবে না, কোনো ধরনের মাদক সেবন ও মাদক-ব্যবসার সংস্পর্শেও যাবে না, রাষ্ট্রীয় আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো কাজ করবে না। কাজেই মানবতার কল্যাণকামী এরূপ একটি সত্যনিষ্ঠ আন্দোলনের নামে মিথ্যাচার, অপপ্রচার, হুজগ-গুজব সৃষ্টি করে জনগণের মধ্যে ঘোলাটে পরিবেশ সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই।

আলোচনা সভা সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি মো. নুরুল আবসার সোহাগ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মান্ধতা ও ধর্মীয় উগ্রপন্থার উত্থান ঘটছে। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে দেশে দেশে অপরাজনীতি করা হচ্ছে, সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। সাধারণত সরকারগুলো শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই সঙ্কট মোকাবেলা করার প্রচেষ্টা করে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু শক্তিপ্রয়োগ করেই ধর্মান্ধতা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। শক্তি প্রয়োগের পাশাপাশি সঠিক আদর্শও লাগবে। ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করতে হবে। উগ্রবাদ মোকাবেলায় ইসলামের সেই প্রকৃত ব্যাখ্যা বা সঠিক আদর্শ (কাউন্টার ন্যারেটিভ) তুলে ধরছে হেযবুত তওহীদ।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় এবং হেযবুত তওহীদের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে অবহিত করা হয়।

হেযবুত তওহীদের দাবী-

১) সর্বশেষ পাবনায় হেযবুত তওহীদ সদস্য মো. সুজন মন্ডলের হত্যাকারীসহ অন্যান্য সদস্যদের যারা হত্যা করেছে, সে সকল হত্যাকারী খুনিদের গ্রেপ্তার করে সব্বোর্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২) যে সকল অপপ্রচারকারী ও ষড়যন্ত্রকারী সোস্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে এবং হত্যার হুমকি দিচ্ছে সে সকল হুমকিদাতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

৩)জুম্মার নামাজে খুৎবায় এবং ওয়াজ মাহফিলের মত ধর্মীয় সভাকে ব্যবহার করে যে সকল উগ্রবাদী বক্তা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও উস্কানীমূলক ওয়াজ করে, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

৪)সোস্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরণের অশ্লীল ছবি পোষ্ট করে হেযবুত তওহীদের এমাম ও সদস্যদের ব্যক্তিত্ব হরণ, হত্যার হুমকী, হত্যা করার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করার বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিলীয় সকল অভিযোগ আমলে নিয়ে অপরাধীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৫) হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বসতবাড়ি-ঘরের, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের, হেযবুত তওহীদের অফিস ও মসজিদসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের মামুন, মানবাধিকার বার্তার কাজী মিজানুর রহমান মিস্টার, আজকের পত্রিকার আলমগীর হোসেন, যায়যায়দিন পত্রিকার মাহমুদ, প্রথম আলো পত্রিকার মোঃ আমজাদ হোসাইন, দৈনিক আমার ফেনী পত্রিকার মোতাহার হোসেন ইমরান, দৈনিক প্রভাত আলোর মোহাম্মদ হাবিবুল ইসলাম, দৈনিক কালের কন্ঠের শেখ আবদুল হান্নান, দৈনিক আমাদের নতুন সময় পত্রিকার বাহার উল্লাহ বাহার সহ অন্যান্যরা।