Date: May 20, 2024

দৈনিক বজ্রশক্তি

Header
collapse
...
Home / জাতীয় / হেযবুত তওহীদের নারীকর্মীদের ওপর হামলা-নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, প্রকম্পিত রাজধানীর রাজপথ

হেযবুত তওহীদের নারীকর্মীদের ওপর হামলা-নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, প্রকম্পিত রাজধানীর রাজপথ

May 13, 2024 07:55:40 AM   অনলাইন রিপোর্টার
হেযবুত তওহীদের নারীকর্মীদের ওপর হামলা-নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, প্রকম্পিত রাজধানীর রাজপথ

শাহাদৎ হোসেন:
দেশের বিভিন্ন এলাকায় হেযবুত তওহীদের নারী সদস্যদের ওপর হামলা, হেনস্তা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১২ মে ২০২৪) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় নারী বিভাগ। এদিন হেযবুত তওহীদের হাজারো বিক্ষুব্ধ নারী সদস্যদের স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণ। এর আগে এদিন সকাল থেকে প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন হেযবুত তওহীদের নারী নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

হেযবুত তওহীদের ঢাকা বিভাগীয় নারী বিষয়ক সম্পাদক তাসলিমা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নারী বিষয়ক সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী। তিনি বলেন, হেযবুত তওহীদ গত ২৯ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা প্রচারের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহর দেওয়া সত্যদ্বীন প্রতিষ্ঠা হলে পৃথিবীতে যে অশান্তিময় অবস্থা বিরাজ করছে তার অবসান ঘটবে। আমরা সংগঠনের প্রকাশনা বিক্রি, পত্রিকা বিক্রি, সভা-সেমিনার, র‌্যালি, জনসভা, আলোচনা সভা ইত্যাদির মাধ্যমে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতাসহ সকল রকম অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ মানবজাতির সামনে তুলে ধরছি। হেযবুত তওহীদের এই কাজে সমানভাবে কাজ করে যাচ্ছে হেযবুত তওহীদের নারীরাও। কিন্তু যখন নারীরা নিজেদের জীবন সম্পদ উৎসর্গ করে মানবজাতির মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে তখন তারা এক শ্রেণির ধর্মান্ধদের দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে, ইসলামকে যারা নিজেদের রুটি-রুজির মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছে, ধর্ম নিয়ে অপরাজনীতি করে, স্বার্থ হাছিল করেন, নিজেদেরকে ইসলামের কর্তৃপক্ষ মনে করে। তারা মাঠে ময়দানে ইসলামের কাজ করার সময় হেযবুত তওহীদের নারীদের পত্রিকা ছিনিয়ে নিচ্ছে, বই ছিনিয়ে নিচ্ছে, দালিলিক জবাব দিতে না পেরে গায়ে হাত তুলছে, নানাভাবে হেনস্তা করছে, লাঞ্ছিত করছে, নির্যাতন করছে। তারা হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ফতোয়া দিয়ে তাদের অনুসারীদেরকে বিভ্রান্ত করছে। এটা একটা অশনি সংকেত, যে সমাজে এরকম উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী মাথা উচু করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে সেই সমাজে নিজের জীবন উৎসর্গ করে কাজ করবে এমন মানুষ আপনারা পাবেন না।”

রুফায়দাহ পন্নী বলেন, “এই উগ্রবাদী শ্রেণিটি হেযবুত তওহীদের বক্তব্যের কোনো দলিলভিত্তিক ও যৌক্তিক মোকাবেলা করতে না পেরে আন্দোলনের প্রচারকর্মীদের উপর শারীরিকভাবে হামলা চালায়। কখনও কখনও তারা মসজিদের মাইকে মিথ্যা গুজব রটিয়ে দিয়ে স্থানীয় ধর্মবিশ্বাসী মুসুল্লিদেকে উত্তেজিত করে তোলে। এতে করে ধর্মীয় উন্মাদনা ও সন্ত্রাসের শিকার হয়ে হতাহত হন আন্দোলনের বহু সদস্য-সদস্যা।”

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে দমন না করা হলে তারা দেশের সমস্ত অর্জন এবং উন্নয়নকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে। তারা বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে একটি উগ্রবাদী, সন্ত্রাসবাদের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করতে চায়। এই উগ্রবাদীদের কারণে ৩০ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে। উগ্রবাদ একটি জাতির ক্যান্সারের মতো। এই রোগ কোনো জাতিকে সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে পথ চলতে দেয় না। একে সমূলে উচ্ছেদ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট এই উগ্র ধর্মব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানান তিনি।

হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় আন্তঃধর্মীয় যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক শারমিন সুলতানা চৈতির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিভাগীয় আমীর ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ, কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা, ঢাকা বিভাগীয় নারী বিষয়ক যুগ্ম সম্পাদক আয়শা সিদ্দীকা প্রমুখ।

হেযবুত তওহীদের ঢাকা বিভাগীয় আমীর ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ তার বক্তব্যে বলেন, “হেযবুত তওহীদ গত ২৯ বছর ধরে সারা বাংলাদেশে গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায়, শহর-বন্দরে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ধর্মব্যবসাসহ সমস্তরকম অন্যায়ের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার ২৯ বছর আমরা একটি আইন ভঙ্গ করি নাই, একটি অন্যায় করি নাই। আমরা সারা বাংলাদেশে ইসলামের প্রকৃত আদর্শ তুলে প্রচারের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু গত কিছুদিন যাবত ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের নারী সদস্যদের উপর হামলা, হেনস্তা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। এত হামলার পরও আমরা আইন হাতে তুলে নিচ্ছি না। আমরা সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নিকট জানাচ্ছি এবং আইনের আশ্রয় গ্রহণ করছি। কিন্তু প্রশাসনের নিকট যথাযথ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ জানানোর পরও আইন প্রয়োগ হচ্ছে না। আমরা অন্যায়ভাবে আক্রান্ত হচ্ছি কিন্তু বিচার পাচ্ছি না। এটি একটি সমাজের জন্য ভালো বার্তা নয়।”

হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা তার বক্তব্যে বলেন, “হেযবুত তওহীদের সদস্যরা যখন ইসলামের প্রকৃত আদর্শ প্রচারের লক্ষ্যে বই-পত্রিকা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছে। ঠিক সেই সময়ে একটি উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ছে। বই-পত্রিকা ছিনিয়ে নিচ্ছে, ছিঁড়ে ফেলছে। তাদের উপর চড়াও হচ্ছে।” উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে হেযবুত তওহীদের হাজার হাজার সদস্য-সদস্যা ইসলামের প্রকৃত আদর্শ প্রচারের লক্ষ্যে কাজ করছে। হে ধর্মান্ধরা তোমরা ইসলামের প্রকৃত আদর্শ প্রচার বন্ধ করতে পারবে না। হেযবুত তওহীদের নারীরা তোমাদের সকল অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করে তওহীদের বাণী প্রচার করে যাবে। তোমরা তাদের দাবায়া রাখতে পারবে না। হেযবুত তওহীদের অগ্রযাত্রা তোমরা রুখতে পারবে না।” এ সময় তিনি সারাদেশে হেযবুত তওহীদের নারী সদস্যদের উপর হামলা, হেনস্তা ও নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।’

মানবন্ধন ও সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শফিকুল আলম উখবাহ, মিরপুর শাখার সভাপতি আব্দুল হক বাবুল, রংপুর বিভাগীয় নারী নেত্রী উম্মে হানী ইসলাম, ময়মনসিংহ বিভাগীয় নারী নেত্রী রোজিনা আক্তার, খুলনা-১ বিভাগীয় নারী নেত্রী পাপিয়া সুলতানা নিরু, খুলনা-২ বিভাগীয় নারী নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মিম, সিলেট বিভাগীয় নারী নেত্রী মাহমুদা আক্তার দিপা, চট্টগ্রাম বিভাগীয় নারী নেত্রী জোবেদা আক্তার বেবি, রাজশাহী বিভাগীয় নারী নেত্রী নাঈমা খাতুনসহ সারাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা নেত্রীসহ হাজারো নারী কর্মী।

মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ-মিছিল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে পল্টন মোড় হয়ে পুনঃরায় প্রেসক্লাবের সামনে মিলিত হয়। এ সময় রাজধানীর রাজপথ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। “নারীর উপর হামলা কেন, প্রধানমন্ত্রী জবাব চাই”, “হেযবুত তওহীদের অঙ্গীকার, নারী সমান অংশীদার”, “হেযবুত তওহীদের অঙ্গীকার, আনব নারীর অধিকার”, “ফতোয়াবাজির বিরুদ্ধে লড়তে হবে এক সাথে”, “নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়তে হবে এক সাথে”, “নারীর উপর হামলাকারী, নিপাত যাক নিপাত যাক”, “নারীর উপর হামলা-মানি না মানব না”  ইত্যাদি স্লোগানে প্রকম্পিত হয় রাজধানীর রাজপথ, উত্তাল হয়ে ওঠে প্রেসক্লাব চত্বর।