প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকারের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। তার মন্তব্যকে সংবেদনহীন আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইসিডব্লিউএ)। সংগঠনটির দাবি, শোকের সময়ে এমন শব্দচয়ন অনুচিত। একই সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে নানা পাটেকারের মৃত্যুর প্রসঙ্গে ‘ইভিল ডেড’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন তনুশ্রী। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে চলচ্চিত্রকর্মীদের সংগঠনটি তার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করে।
এআইসিডব্লিউএর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্ত বিবৃতিতে বলেন, নানা পাটেকারের মতো একজন প্রবীণ ও গুণী অভিনেতার মৃত্যুর পর এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনটির মতে, মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল ঘটনায় মন্তব্য করার সময় মানুষের মৌলিক মানবিকতা ও শোকের পরিবেশের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা উচিত।
নানা পাটেকারের মৃত্যু ঘিরে রহস্য, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা!

বিবৃতিতে নানা পাটেকারের অভিনয়জীবনের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজের কথাও স্মরণ করা হয়। কৃষকদের সহায়তায় ‘নাম ফাউন্ডেশন’-এর কার্যক্রম, পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হওয়া এবং কার্গিল যুদ্ধের সময় দেশের জন্য তার অবদানের বিষয়গুলো তুলে ধরে সংগঠনটি।
তনুশ্রীর ভিডিওতে নিজের পেশাগত কর্মসূচির প্রসঙ্গও ছিল। সেখানে তিনি জানান, নানা পাটেকারের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। তবে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত, তা ভেবে পরে বক্তব্য দেবেন। একই সঙ্গে তিনি নানা পাটেকারের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। ভিডিওতে লক্ষ্ণৌয়ের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
এআইসিডব্লিউএ অবশ্য তার মন্তব্যের সময় ও ধরন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, একজন প্রবীণ অভিনেতার মৃত্যুর পর শোকের পরিবেশে এমন শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। কখন কথা বলতে হবে এবং কখন নীরব থাকা প্রয়োজন, সে বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শও দিয়েছে তারা।
নানা পাটেকার ও তনুশ্রী দত্তের বিরোধ নতুন নয়। ২০১৮ সালে তনুশ্রী অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির শুটিংয়ের সময় নানা পাটেকার তাকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। তার অভিযোগ ভারতের ‘মি টু’ আন্দোলনের সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং চলচ্চিত্রশিল্পে যৌন হয়রানির বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।
তনুশ্রীর দাবি ছিল, ২০০৮ সালেই তিনি নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশনে অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে অভিনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত হয়। নানা পাটেকার অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেন।
২০১৯ সালে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালে মুম্বাইয়ের আন্ধেরির একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইন নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার কারণে নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম খারিজ করেন।
নানা পাটেকারের মৃত্যু নিয়ে তনুশ্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পুরোনো বিরোধটি আবারও আলোচনায় এসেছে। এআইসিডব্লিউএ তার বক্তব্যের সমালোচনা করলেও এ বিষয়ে তনুশ্রীর পরবর্তী কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।
















