সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ভাইরাল সিদ্দিক’ নামে পরিচিত আবু বকর সিদ্দিকের অন্ধকার জগতের নানা তথ্য সামনে এসেছে। ধর্মের লেবাস এবং মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে তিনি গত কয়েক বছরে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ননি গোপাল পোদ্দার থেকে আবু বকর সিদ্দিক হওয়া এই ব্যক্তির প্রতারণার ধরণ দেখে হতবাক সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯ শতক ৮৬ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ননি গোপাল পোদ্দার হিসেবে তার জন্ম হয়েছিল। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম রাখেন আবু বকর সিদ্দিক। এরপর জীবিকার তাগিদে ঢাকায় এসে শুরুতে ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে তিনি ‘নিউ মুসলিম ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন।
এই সংগঠনের আড়ালে তিনি এক অভিনব প্রতারণা চক্র গড়ে তুলেছেন। গত বছর রাজধানীর ভাটারা এলাকায় আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ধরা পড়েন, যিনি জন্মগতভাবে মুসলিম হলেও ‘দিলীপ নাথ চক্রবর্তী’ সেজে মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তুলছিলেন। আমিনুল জানান, তিনি আগে রিকশা চালাতেন এবং সিদ্দিকই তাকে এই কাজে নামিয়েছেন। প্রতিদিনের সংগৃহীত টাকার একটি বড় অংশ সিদ্দিকের পকেটে যেত। আমিনুলের প্রতিদিনের আয় ছিল প্রায় ১০ হাজার টাকা।
ভ্যাপসা গরমে নাকাল জনজীবন: বৃষ্টির জন্য আরও কয়েক দিনের অপেক্ষা

সিদ্দিকের এই সংগঠনের নথিপত্রে দেখা গেছে, কেবল এক বছরেই তারা প্রায় অর্ধকোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। তবে সরকারি খাতায় মাত্র ১৪ লক্ষ টাকার হিসাব দেখানো হয়েছে। বাকি টাকার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সিদ্দিক ক্যামেরার সামনে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন এবং সংগৃহীত টাকা থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দাবি অনুযায়ী, এই কমিশন নেওয়া কোনো অন্যায় নয়।
সিদ্দিক তার ভণ্ডামির দেয়াল শক্ত করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে বিভিন্ন রূপে উপস্থাপন করতেন। কখনো ট্রাফিক পুলিশ সেজে রাস্তা পরিষ্কার করা, কখনো রাজনৈতিক মঞ্চে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়া, আবার কখনো বড় বড় নেতার নামে মোনাজাত করে কান্নাকাটির নাটক করা ছিল তার নিয়মিত কাজ। তিনি নিজেকে ‘৩২ ভাঙ্গার সর্বাধিনায়ক’ হিসেবে দাবি করতেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তার এই বহুরূপী আচরণের মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিজের ব্যবসার প্রসার ঘটানো।
এই বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, জনবল সংকটের কারণে তারা সব নিবন্ধিত সংস্থার ওপর সবসময় নজর রাখতে পারেন না। সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলো সম্পর্কে তারা আগে অবগত ছিলেন না। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বেলাল হোসেন জানান, ধর্মের নাম ব্যবহার করে এমন প্রতারণা বন্ধ করতে হলে রাষ্ট্রীয় সচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। তিনি সাধারণ মানুষকে এমন ভণ্ডদের থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমানে ভাইরাল সিদ্দিকের এই প্রতারণা নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং সবাই তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।
সূত্র: এনটিভি

















