যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে ইরান তাৎপর্যপূর্ণ কৌশলগত জয় অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) রাজনৈতিক উপকমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি। তার দাবি, ইরানকে ধসিয়ে দেওয়া ও দেশটিকে খণ্ড-বিখণ্ড করার যে লক্ষ্য নিয়ে শত্রুপক্ষ যুদ্ধে নেমেছিল, তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে এখন ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ ও বিভিন্ন ধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ইরানের বন্দর আব্বাসে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন ইয়াদুল্লাহ জাভানি। বার্তা সংস্থা মেহেরের বরাতে তার বক্তব্যের খবর প্রকাশ করা হয়েছে।
ভাষণে আইআরজিসির এই কর্মকর্তা বলেন, শত্রুপক্ষ ইরানকে ধ্বংস ও খণ্ড-বিখণ্ড করার উদ্দেশ্য নিয়ে যুদ্ধে নেমেছিল। যুদ্ধের শুরুতেই দ্রুতগতিতে আক্রমণ চালিয়ে ইরানের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কাঠামো অচল করে দেওয়া এবং দেশটির পতন ঘটানোই ছিল তাদের পরিকল্পনা।
যন্তর মন্তরের পথে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে আটক করল পুলিশ!

তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন জাভানি। তার ভাষায়, শত্রুপক্ষের হিসাব-নিকাশ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বরং বিশ্বের অনেকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ইরান এখন আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
জাভানি আরও দাবি করেন, সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর শত্রুপক্ষ কৌশল পরিবর্তন করেছে। এখন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি, সমুদ্র ও আকাশপথে বিধিনিষেধ আরোপ এবং সাধারণ মানুষের মনোবল দুর্বল করার মতো নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ বা মিশ্র কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র গত চার দশক ধরে ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে আসছে। তবে এসব চাপ ইরানি জনগণের দৃঢ়তা ও অবস্থানকে দুর্বল করতে পারেনি।
জাভানি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের চাপের মুখেও ইরানি জাতি অবিচল ও দৃঢ় রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ মোকাবিলার মধ্য দিয়েই ইরান নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।
তবে আইআরজিসির এই বক্তব্য ইরানের পক্ষের দাবি হিসেবেই এসেছে। বক্তব্যে তিনি যে ‘কৌশলগত জয়’ এবং শত্রুপক্ষের ব্যর্থতার কথা বলেছেন, সেগুলোর বিস্তারিত স্বাধীন মূল্যায়ন বা যুদ্ধের নির্দিষ্ট ফলাফল এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
















