কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অভিনেত্রী পরীমনির আপত্তিকর বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর চ্যানেল কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করলেও তাতে সন্তুষ্ট নন এই অভিনেত্রী। তার অভিযোগ, এ ঘটনার কারণে নিজের স্বাভাবিক জীবন, কাজ ও মানসিক শান্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি তার সন্তানদের ছবি ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে। তাই শুধু দুঃখ প্রকাশ নয়, ঘটনার দায় নিয়ে জবাবদিহি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা চান পরীমনি।
সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম পেজে দুই তারকা অভিনেত্রীর আপত্তিকর ও বিকৃত ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজটি হ্যাক হয়েছিল এবং হ্যাকাররা ওই ভিডিওগুলো প্রকাশ করেছে। এ ঘটনায় দুঃখও প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন ভিডিওর শিকার হওয়া অভিনেত্রী পরীমনি। তার দাবি, ভিডিওটি আগে তৈরি হয়ে থাকলেও মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম পেজের মাধ্যমে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে।
চমক-শুভর ছবি ঘিরে রহস্য, সত্যিই কি বিয়ে করলেন অভিনেত্রী?

গতকাল শুক্রবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে এ ঘটনায় নিজের ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমার এই অভিনেত্রী। কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে চলা নেতিবাচক আলোচনা, কটূক্তি এবং ভিডিওটি নিয়ে মানুষের আচরণের প্রতিবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
লাইভে পরীমনি বলেন, ‘ওরা এত বড় পাওয়ারফুল একটা মিডিয়া, ১১ ঘণ্টা তো ঝুলেই ছিল। তো প্রমাণ করতে পারল না? নিজেদের কন্ট্রোলে নিতে পারল না? আইন, এত প্রশাসন এগুলো দিয়ে কি সম্ভব ছিল না? এর বিপরীতে আপনি মোটেও বলতে পারেন না, পেজ হ্যাক হয়েছে। তাহলে আমিও বলি, আমার পেজ হ্যাক হয়েছে!’
ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা অতিরিক্ত মাতামাতি করেছেন, তাদের প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরীমনি। ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ‘তোমরা যখন ভিডিওটি নিয়ে এত মাতামাতি করছিলে, তখন আমার ইচ্ছে হচ্ছিল একটি খোলামেলা ফটোশুট করে ফেলি।’
অভিনেত্রীর মতে, অনেকেই বিষয়টির সত্যতা যাচাই না করে কিংবা এর পেছনের বাস্তবতা বিবেচনা না করেই নেতিবাচক আলোচনা চালিয়ে গেছেন। অথচ যাদের মধ্যে বোধবুদ্ধি রয়েছে, তারা ভিডিওটি দেখেও বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, “দিনশেষে ভিডিওটা আমিও দেখলাম, সবাই দেখল। দেখার পর যারা এভয়েড করার দরকার, তারা স্কিপ করেছে। আর যারা এই ভিডিওকে নিজেদের জীবন, যৌবন, নিঃশ্বাস বানিয়ে ফেলেছে, তারা অনলাইনে এসেই এটা নিয়ে কথা বলছে। দেখা গেল, কেউ হজের পোস্ট করল, তার কমেন্ট বক্সেও গিয়ে লিখেছে, ‘পরীমনির লিংক আছে আমার কাছে’। মানে, তার জীবনের অর্জন যেন এটুকুই। ভুয়া একটা জিনিস নিয়ে তোমার এই অবস্থা, আসল হলে কী করতে!”
ফেসবুক লাইভে আরও নানা বিষয়ে কথা বলেন পরীমনি। পরে অবশ্য নিজের পেজ থেকে লাইভটি সরিয়ে নেন তিনি। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি অভিনেত্রী। শনিবার দুপুরে মাছরাঙা টেলিভিশনকে উদ্দেশ করে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে এ ঘটনার কারণে তার ব্যক্তিগত জীবন, কাজ এবং মানসিক শান্তির ওপর পড়া প্রভাবের কথা তুলে ধরেন।
পোস্টে পরীমনি লেখেন, ‘ডিয়ার মাছরাঙা টেলিভিশন, আপনাদের এই জাস্ট একটা ফটো কার্ডের দুঃখ প্রকাশ কোনো কাজে দিচ্ছে না একদমই। এই যে আমার স্বাভাবিক জীবনটা এইভাবে আবার দুর্বিষহ করে দিয়েছেন এর সম্পূর্ণ দায়ভার আপনাদের। আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো রকম কোনো পোস্ট করতে পারছি না (হোক সেটা আমার কাজের বা আমার ব্যক্তিগত)। এমনকি আমার বাচ্চাদের ছবিও বাদ যাচ্ছে না হাজার হাজার হেটিং কমেন্টস থেকে। কি করব বলেন এবার। আমার জীবনের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দিলেন! আমার কাজ নষ্ট করে দিলেন। এরপর কি বাকি থাকল আর। আপনারা বলেছেন অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন। আর কবে আনবেন সেটা। আমার কাছে অপরাধী তো এখন আপনারা।’
পোস্টে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি দাবি করে পরীমনি বলেন, অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তার অভিযোগ, একটি বিকৃত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে। এমনকি তার সন্তানদের ছবিও এ ধরনের মন্তব্য থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
পরীমনির বক্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি তার কাছে শুধু একটি ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নয়; বরং এর জেরে ব্যক্তিগত মর্যাদা, পারিবারিক জীবন ও পেশাগত কাজের ওপর পড়া প্রভাবও বড় উদ্বেগের কারণ। তাই দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ঘটনার দায় নির্ধারণ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান তিনি।

















