মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার ঢাকায় এসেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের (ফিফা) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ভুটান সফর শেষে দোহাগামী ফ্লাইট ধরতে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেন তিনি। মাত্র আধঘণ্টার এই বিরতিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা করেন ফিফা সভাপতি।
বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিমের মতে, ফিফা সভাপতির এই সফর বাংলাদেশের ফুটবলের গুরুত্ব ও সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার বড় সুযোগ। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ইনফান্তিনো। এ সময় তাঁকে স্বাগত জানান ফাহাদ করিম, সাব্বির আহমেদ আরেফসহ বাফুফের কর্মকর্তারা।
ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান হিসেবে ইনফান্তিনোর পক্ষে চার বছরে সব দেশ সফর করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে ফাহাদ করিম বলেন, তাঁকে নিজেদের দেশে নিয়ে আসতে বিভিন্ন দেশ প্রতিযোগিতা করে। সেখানে মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার তাঁর সান্নিধ্য পাওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে লিটনকে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ!

ফাহাদ করিম বলেন, ‘ফিফার সভাপতি যখন যে দেশে থাকেন, ফুটবল বিশ্বের রাজধানী তখন সেই দেশটিই হয়ে যায়। সেই হিসাবে এই অল্প সময়ের জন্য হলেও ফুটবল বিশ্বের রাজধানী ছিল ঢাকা, বাংলাদেশ। এটি আমাদের দেশের ফুটবলের জন্য এবং পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেক গর্বের বিষয়।’
বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে ইনফান্তিনো ও তাঁর সফরসঙ্গীদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে সময় কাটান বাফুফের কর্মকর্তারা। এ সময় ফুল দিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হলে রসিকতা করে ফিফা সভাপতি বলেন, এক-দুদিন আগেই তাঁকে ফুল দেওয়া হয়েছে। জবাবে ফাহাদ করিম বলেন, বাংলাদেশ আতিথেয়তার দেশ; তিনি যতবার আসবেন, ততবারই তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করা হবে।
এদিন ইনফান্তিনোর হাতে তুলে দেওয়া হয় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন হোম জার্সি। জার্সিতে ছিল তাঁর পছন্দের ৯ নম্বর। বিষয়টি তাঁকে অবাক করে। ফাহাদ করিম জানান, গুগলে ইনফান্তিনোর ছবি খুঁজে তাঁর পছন্দের জার্সি নম্বরটি বের করেছিলেন তাঁরা। ফিফা সভাপতির তিন সফরসঙ্গীকেও বাংলাদেশের নতুন জার্সি উপহার দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিমানবাহিনীর রেফারি জসিম তাঁকে একটি ক্যাপ ও টি-শার্ট উপহার দেন।
আড্ডায় উঠে আসে ইনফান্তিনোর ভুটান সফরের প্রসঙ্গও। সেখানে দেশটির ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেছিলেন তিনি। এ অভিজ্ঞতার কথা শুনে ফাহাদ করিম তাঁকে পরেরবার বাংলাদেশে এলে পাঞ্জাবি পরানোর প্রস্তাব দেন।
তবে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও উপহার বিনিময়ের পাশাপাশি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়ন। ঘরোয়া লিগ ও ফুটবলের কাঠামোগত উন্নয়নে বাফুফের কার্যক্রমের কথা শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেন ইনফান্তিনো। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের বিকাশে আঞ্চলিক পর্যায়ে ক্লাবভিত্তিক টুর্নামেন্ট বা কর্মসূচি আয়োজনের পরামর্শ দেন তিনি।
ফাহাদ করিম বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ক্লাবগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চমৎকার ও স্বাস্থ্যকর বলে মনে করেন ফিফা সভাপতি। তাই এ অঞ্চলে ক্লাবভিত্তিক টুর্নামেন্ট বা কর্মসূচি আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ফাহাদ করিমের বিশ্বাস, ফিফা সভাপতির এই সফর বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্ব এবং বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় আগামী দিনে ফিফার কাছ থেকে আরও সুযোগ-সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। এতে দেশের ফুটবলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতে পারে।
এ ছাড়া ফিফা ও ইনফান্তিনোর নিজস্ব যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় বাংলাদেশকে নিয়ে প্রকাশিত রিলস ও সংবাদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন বাফুফের এই সহসভাপতি।
















