বলিউড তারকা শাহরুখ খানের জীবনের কঠিন এক সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন প্রয়াত অভিনেতা নানা পাটেকর। নব্বইয়ের দশকে এক সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে বিপাকে পড়েছিলেন শাহরুখ। সেই সময় জামিন পেতে তাকে সহায়তা করেছিলেন নানা পাটেকর। সম্প্রতি নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর শাহরুখের পুরোনো স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে বন্ধুত্ব, ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং বিপদে পাশে দাঁড়ানোর এই ঘটনা।
বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে। সহকর্মী ও ভক্তরা স্মরণ করছেন তার অভিনয়জীবন, ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের প্রতি সহযোগিতার নানা দিক। এরই মধ্যে শাহরুখ খানের সঙ্গে তার সম্পর্কের একটি পুরোনো ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গত ৮ অক্টোবর, ৭৫ বছর বয়সে গোয়ায় নিজের বাড়িতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নানা পাটেকর। পর্দায় শক্তিশালী অভিনয় এবং ব্যক্তিজীবনে স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য পরিচিত এই অভিনেতার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন শাহরুখ খানও। নিজের শোকবার্তায় নানা পাটেকরকে পরামর্শদাতা, শিক্ষক, সমালোচক ও বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ওমরাহ পালন করে আবেগঘন বার্তা দিলেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল!

শাহরুখ স্মরণ করেন, নানা পাটেকরের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার সময় তিনি বেশ নার্ভাস ছিলেন। বারবার চুল ঠিক করছিলেন। বিষয়টি লক্ষ করে নানা তার হাত সরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘নায়কের মতো চুল সাজিও না, তুমি একজন অভিনেতা।’ সেই পরামর্শ শাহরুখের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।
যে ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন শাহরুখ
২০১২ সালে একটি অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের এক বিব্রতকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন শাহরুখ খান। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে গৌরী খানের সঙ্গে বিয়ের কিছুদিন পর একটি সাময়িকীতে তার এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি গৌরীকে কষ্ট দেয়। স্ত্রীর মন খারাপের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই প্রতিবেদনের সাংবাদিকের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শাহরুখ।
শাহরুখের বর্ণনা অনুযায়ী, সাংবাদিককে ফোন করে কথা বলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি ওই সাংবাদিকের বাড়িতে যান। সঙ্গে ছিল তার সেনা কর্মকর্তা শ্বশুরের দেওয়া একটি কুকরি। সেখানে সাংবাদিকের মা-বাবার সামনেই এক তরুণকে হুমকি দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে নিজের সেই আচরণকে ভুল বলেও স্বীকার করেন এই বলিউড তারকা।
শাহরুখ ভেবেছিলেন, ঘটনাটি সেখানেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পরদিন সন্ধ্যায় ‘কাভি হাঁ, কাভি না’ ছবির শুটিং চলাকালে পুলিশ হাজির হয়। প্রথমে পুলিশ সদস্যরা তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন এবং ছবি তোলেন। পরে জানান, একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তার সঙ্গে কথা বলতে চান।
এরপর সন্ধ্যা ৬টার পর শাহরুখকে আটক করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে জামিনও পাননি তিনি। লকআপ থেকে একবার ফোন করার সুযোগ পেয়ে পরিবার, বন্ধু কিংবা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ না করে সেই সাংবাদিককেই ফোন করেন। এমনকি ফোনে তাকে আবারও হুমকি দেন শাহরুখ।
পরে ঘটনাটি স্মরণ করে মজার ছলে শাহরুখ বলেছিলেন, এই ঘটনা যেন প্রমাণ করে তিনি হিন্দি সিনেমার নায়ক হওয়ার জন্যই তৈরি। তবে দ্রুতই নিজের পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করেন তিনি। থানায় আঙুলের ছাপ দেওয়ার সময় গভীর বিব্রতবোধ করেন। একই সঙ্গে গৌরীর মানসিক অবস্থাও তাকে নাড়া দেয়। শাহরুখের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘটনা নিজের আচরণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে তাকে প্রভাবিত করেছিল।
জামিন পেতে যেভাবে পাশে দাঁড়ান নানা পাটেকর
সেই কঠিন পরিস্থিতিতে শাহরুখের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নানা পাটেকর। জামিনের প্রসঙ্গ স্মরণ করে শাহরুখ বলেছিলেন, ‘শেষ পর্যন্ত নানা পাটেকরই আমাকে জেল থেকে বের হতে সাহায্য করেছিলেন। তিনি খুব ভালো ব্যবহার করেছিলেন। সপ্তাহান্তে একটি সান্ধ্য আদালত বসত, যেখানে জামিন দেওয়া হতো।’
শাহরুখের এই স্মৃতিচারণ থেকে বোঝা যায়, জীবনের কঠিন সময়ে নানা পাটেকরের সহযোগিতা তার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পর্দার বাইরেও যে তাদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক ছিল, পুরোনো এই ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।
১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রাজু বান গয়া জেন্টলম্যান’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন শাহরুখ খান ও নানা পাটেকর। অভিনয়ের সূত্রে গড়ে ওঠা সেই পরিচয় পরবর্তী সময়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে রূপ নেয়। জীবনের এক কঠিন সময়ে শাহরুখের পাশে দাঁড়িয়ে নানা যে সহযোগিতা করেছিলেন, তার স্মৃতি আজও অমলিন।
সূত্র: ইন্ডালজ এক্সপ্রেস
















