এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সরকার সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তাঁর দাবি, প্রস্তাবিত দামের চেয়েও বেশি দাম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার কিনবেন, যা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করবে। গ্যাসসহ জ্বালানি পণ্যের দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে ২৯ দিনের মধ্যে দুই দফায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, সরকার এমন সময়ে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যখন মানুষের পক্ষে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানানো কঠিন হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও রাত ১২টায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
‘সামনে আর কী কী বাড়বে, বিএনপি সরকার আগেভাগেই প্ল্যানটা জানিয়ে দিক’: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আসিফ মাহমুদ বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৬০ টাকা। সর্বশেষ দাম বাড়ানোর পর তা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকায়। অর্থাৎ প্রায় নয় মাসে দাম বেড়েছে ৭০০ টাকা।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থাকলেও বাজারে একটি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহকদের ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এখন নির্ধারিত দাম ২ হাজার ৬০ টাকা হওয়ায় বাজারে সিলিন্ডারের অনানুষ্ঠানিক দাম ৩ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে উল্লেখ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রভাব অন্যান্য পণ্যের বাজারেও পড়বে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে। মানুষের আয় ও বেতন না বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এ পরিস্থিতিতে সামনের দিনগুলোতে বিভিন্ন খাতে আরও অসন্তোষ দেখা দিতে পারে।
এ সময় আগামী চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ, একদিকে এলপিজির দাম বাড়ানো হচ্ছে, অন্যদিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণায় যেসব পরিবার পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহার করে, তারাও সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হতে পারেন। এতে এলপিজি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট লাভবান হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, গ্যাসের প্রস্তাবিত দামের চেয়েও বেশি বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের কমিশন ও মুনাফা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকার ও এলপিজি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভবিষ্যতে আরও বড় কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্যাসের দাম যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডারসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যথায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন এনসিপির এই নেতা। সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বানও জানান তিনি।
















