‘দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেড’-এর সভাপতি ও তার কতিপয় অনুসারীর সিদ্ধান্তে বাদ দেওয়া নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ সদস্য এস এম জমির উদ্দিনের সদস্যপদ বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এস এম জমির উদ্দিনকে সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা এবং উপ-আইনভুক্ত সভাসমূহে অংশগ্রহণে বাধা না দিতে এবং উপ-আইনের অধীনে সদস্য হিসেবে সোসাইটির কার্যালয়ে প্রবেশ ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে কোনো প্রকার বাধা প্রদান না করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সংগঠন ও সমবায়ের উপ-আইনবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে গত ৮ অক্টোবর ৫ম সিনিয়র সিভিল জজ আবুল হায়াত মুহাম্মদ তারেক আজমের আদালতে মামলা দায়ের করেন সদস্য এস এম জমির উদ্দিন। শুনানি শেষে বিচারক পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানান।
ফেনীতে মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের জেলা কমিটির সাধারণ সভা

মামলার আর্জিতে বলা হয়, সোসাইটির নির্বাচিত সদস্য এস এম জমির উদ্দিন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সভাপতি ও অন্য কারও যেকোনো ধরনের বেআইনি কাজের প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোসাইটির সভাপতি, ব্যবস্থাপক এবং তাদের কয়েকজন অনুসারী মিলে বিভিন্ন সময় সদস্য জমির উদ্দিনকে অপসারণের জন্য নানা চক্রান্ত করতে থাকেন। তারই অংশ হিসেবে তারা নিজেদের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে মো. জোবায়ের নামের এক সদস্যকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করে কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম জমির উদ্দিনের বিরুদ্ধে সভাপতির মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা কমিটি বরাবর একটি দরখাস্ত করান।
উক্ত দরখাস্তের ভিত্তিতে সোসাইটির সভাপতি সম্পূর্ণ একক সিদ্ধান্তে এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অমান্য করে ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে সদস্য এস এম জমির উদ্দিনকে একটি নোটিশ পাঠান। প্রসঙ্গত, সভাপতি ও তার সহযোগীরা ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছেও একটি চিঠি দেন। ওই চিঠির জবাবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের সম্মানিত গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত এবং ব্যক্তিগত তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।
তা সত্ত্বেও সভাপতির নেতৃত্বাধীন চক্রান্তকারীরা কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম জমির উদ্দিনকে কয়েকটি সভায় অনুপস্থিত থাকার মতো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে এবং একটি ভুয়া সভার ছবি উপস্থাপন করে তার সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে জানিয়ে কার্যালয় থেকে চলে যেতে বলে। একই সাথে কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম জমির উদ্দিনকে তারা নানা প্রকার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এসব বিষয়ে জমির উদ্দিন গত ৪ অক্টোবর পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) দায়ের করেন।
সমিতির নির্বাচিত কোনো সদস্যকে অপসারণের বিষয়ে সোসাইটির উপ-আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অমান্য করে সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে এবং স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে মর্মে অভিযোগ এনে প্রতিকার চেয়ে তিনি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালতের আদেশে কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম জমির উদ্দিনের সদস্যপদ বহাল রেখে তার স্থলে অন্য কাউকে দিয়ে কোনো সভা ও কার্যক্রম না করানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়।
















