ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ তাদের কেউ ‘সুপ্ত’ কিংবা ‘গুপ্ত’ বলতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিগত সময়ে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা, নির্যাতন ও রক্তাক্ত হওয়ার পরও রাজপথে তাদের অবস্থান থেকে সরে যায়নি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন-সংলগ্ন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অডিটোরিয়ামে ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবরার ফাহাদের বাবা মো. রহমত উল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
আলোচনা সভায় আবরার ফাহাদ হত্যার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আবরার ফাহাদ আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন। তৎকালীন সরকারের সময়ে দেশের মানুষের ক্ষোভ যখন অবরুদ্ধ ছিল, তখন আবরার ফেসবুকে জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ ভাষায় প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। সেই কারণেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে আবরার ফাহাদের শাহাদতের যোগসূত্র টেনে রিজভী বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে বিদ্রোহের যে স্রোত রয়েছে, তা গুম, খুন ও নির্যাতনের মাধ্যমে স্তব্ধ করা সম্ভব হয়নি। আবরারের আত্মদানের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই ও ৫ আগস্ট সেই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের মাটি ও স্বার্থের প্রশ্নে আবরার ফাহাদ ছিলেন আপসহীন লড়াইয়ের প্রতীক। গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেও কারও কাছে আত্মসমর্পণ করা হবে না।
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন, রক্তাক্ত হয়েছেন এবং মারধরের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তারা আত্মপ্রতারণার আশ্রয় নেননি। খালেদা জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়ে লড়াই করেছে বলেই আজ তাদের কেউ ‘সুপ্ত’ কিংবা ‘গুপ্ত’ বলতে পারে না।
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আবরার ফাহাদকে হত্যার মাধ্যমে তৎকালীন সরকার একটি বার্তা দিতে চেয়েছিল—সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যাবে না। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও দেশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুললে আবরারের মতো পরিণতি হতে পারে—এমন ভয় তৈরি করতে চেয়েছিল তারা। তবে সেই ঘটনা উল্টো ফল দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পেছনে যেসব ঘটনা ভূমিকা রেখেছিল, তার মধ্যে আবরার ফাহাদের শাহাদত অন্যতম। ওই নির্মম হত্যাকাণ্ড সাধারণ মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে অনুপ্রাণিত করেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আবরার ফাহাদ হত্যাসহ সব রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের বিচারের দাবি জানান ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম প্রতিবাদ করেছিল ছাত্রদল। বিগত সাড়ে ১৫ বছরে ছাত্রদলের শত শত নেতা-কর্মী গুম-খুনের শিকার হলেও তারা এক দিনের জন্যও রাজপথ ছাড়েনি।
ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার অঙ্গীকার করে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদ ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। ছাত্রদল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো আপসহীন পথেই রয়েছে। দেশে কোনো ধরনের ভারতীয় আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
















