ভারতের পাঞ্জাবে এক ধর্মীয় নেতাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। বাড়িতে স্থাপন করা গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বিছানার তোশকের নিচে হেরোইনের প্যাকেট রাখতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশের অভিযানে ঠিক সেই জায়গা থেকেই মাদক উদ্ধারের দাবি করা হয়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত এএসআইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার হওয়া ধর্মীয় নেতা মহন্ত কাশ্মীর গিরিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার খান্না শহরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত এএসআই সুখদেব সিং খান্না পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখায় (সিআইএ) কর্মরত ছিলেন। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের অভিযান ও মাদক উদ্ধারের প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এ ঘটনায় খান্নার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার (এসএসপি) ড. দর্পণ আহলুওয়ালিয়া অভিযুক্ত এএসআই সুখদেব সিংকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। একই সঙ্গে তাকে তদন্তসংশ্লিষ্ট দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন অভিনেতা ইমরান খান!

ঘটনার সূত্রপাত মহন্ত কাশ্মীর গিরির বাড়িতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে। পুলিশের দাবি, গিরির গাড়িচালক গুরজন্ত সিং ওরফে জন্তাকে ৭ দশমিক ৫ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মহন্তের মাদক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ।

এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে মহন্ত কাশ্মীর গিরির বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশের একটি দল। অভিযানের সময় বিছানার গদির নিচ থেকে প্রায় ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ। এ ঘটনায় মাদক পাচারের অভিযোগে মহন্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে বাড়ির পরিবারের সদস্যদের স্থাপন করা গোপন ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশের দেওয়া মাদক উদ্ধারের বর্ণনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের দল বাড়িতে পৌঁছানোর আগেই সাধারণ পোশাকে একটি কক্ষে প্রবেশ করছেন এএসআই সুখদেব সিং। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় তিনি বিছানার গদির নিচে একটি প্যাকেট রেখে যান।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কিছুক্ষণ পর মহন্ত কাশ্মীর গিরিকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের অন্য সদস্যরা ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর তল্লাশির একপর্যায়ে পুলিশ বিছানার গদির নিচ থেকে হেরোইন উদ্ধারের দাবি করে। যে জায়গা থেকে মাদক উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে, তার আগেই সেখানে এএসআইকে প্যাকেট রাখতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে পুরো অভিযান নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা, এএসআই সুখদেব সিংয়ের কথিত ভূমিকা, মাদক উদ্ধারের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং অভিযানে অন্য কোনো পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত দলটি।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবের ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলো। রাজ্যের আকালি দলের প্রধান সুখবীর সিং বাদল মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এএপির আইনশৃঙ্খলার মডেলে আপনাকে স্বাগতম! খান্না পুলিশের এএসআই সরাসরি সিসিটিভিতে ধরা পড়েছেন, যিনি ঘরে ঢুকে তোশকের নিচে মাদকের প্যাকেট লুকিয়ে রাখছিলেন। এএপি তো সেবা হোম ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সাধারণ মানুষকে ফাঁসাতে যে পুলিশ নিজেই ঘরে মাদক পৌঁছে দেবে, তা কে জানত?’
সব মিলিয়ে, গোপন ক্যামেরার ভিডিওকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাব পুলিশের অভিযান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এমন গুরুতর অভিযোগের সত্যতা উদ্ঘাটনে এখন বিশেষ তদন্ত দলের প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: এনডিটিভি
















