রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা নয়, আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান বলেন, রাড্ডা ক্লিনিক দখলের ঘটনায় সরকার ও সরকারি দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। তবে তার মতে, এত বড় ঘটনার ক্ষেত্রে শুধু সাংগঠনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশবাসী দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য আইনি পদক্ষেপ দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের দায়িত্ব সরকারকে নেওয়ারও দাবি জানান শফিকুর রহমান। এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পুনর্নির্মাণে জামায়াতের দলীয় তহবিল থেকে ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনও জরুরি: ববি হাজ্জাজ

এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। এর আগে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মধ্যে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং নিশ্চিত করে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তাধীন এবং তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা ঘিরে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়েও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতার মধ্যেই মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া এবং পরে তার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।


















