যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে দুবার চেষ্টা করা হলেও বেঁচে গেছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইক। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন দেওয়ার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। কয়েক দিন পর জ্ঞান ফিরলে তার প্রথম প্রশ্ন ছিল—‘আমি কোথায়?’ এরপর তিনি জানতে চান, ‘আপনি কে?’
পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি জানান, জ্ঞান ফেরার পর তাকে রাগান্বিত ও বিভ্রান্ত মনে হচ্ছিল। তার দুই হাত ফুলে গেছে এবং এক হাতে রক্ত জমাট বেঁধেছে। এ ছাড়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তিনি খাবার গিলতেও পারছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।
১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপও জড়িত ছিলেন। শিপের বয়স তখন ১৭ বছর হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
জাপানে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে জোড়া ভূমিকম্প, নেই সুনামির শঙ্কা!

গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে পেন্টোবারবিটাল ইনজেকশন দেওয়া হয়। তবে প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন ধরে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং তাকে মস্তিষ্কের দিক থেকে মৃত বলে ধারণা করা হয়েছিল। এমনকি কৃত্রিম জীবনধারণ ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল।
তবে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে। হঠাৎ করে কথা বলতে শুরু করেন পাইক। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্ঞান ফেরার পর তিনি নিজের আশপাশ সম্পর্কে জানতে চান।
ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) এক জরুরি শুনানিতে আদালত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ইনজেকশনের নল, সিরিঞ্জ, প্যাকেট, নির্দেশনাপত্র ও লেবেল রয়েছে। পাশাপাশি পাইকের মানসিক অবস্থা-সংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন এবং এই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে পাইকের আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালে তার সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তাকে হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে শিকল দিয়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পাইকের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা এবং ভবিষ্যৎ আইনি প্রক্রিয়া এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। আদালতের নির্দেশিত তদন্তে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ঠিক কী ঘটেছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
















