ভারতের রাজধানী দিল্লির নিউ সিলামপুরে চারতলা একটি আবাসিক ভবন ধসে চারজন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও দুই থেকে তিনজন আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, এনডিআরএফসহ একাধিক সংস্থা অভিযান চালাচ্ছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আটজন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে নিউ সিলামপুরের ইদগাহ মাছলি মান্ডি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারতলা ভবনটি ধসে পাশের দুই থেকে তিনটি বাড়ির ওপর পড়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ) এবং মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অব দিল্লি (এমসিডি)সহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা।
দুর্ঘটনার পর প্রথমে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে প্রায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী, চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ২১ বছর বয়সী গুলাফসা এবং এক শিশু রয়েছেন। নিহতদের কয়েকজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ব্যর্থ, জ্ঞান ফিরেই যে প্রশ্ন করেন ক্রিস্টা পাইক!

এ ঘটনায় আটজনকে জীবিত উদ্ধার করে রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ৫৬ বছর বয়সী মোমিন মির্জা, তিন বছর বয়সী এক শিশু, ২৮ বছর বয়সী আবদুল রহমান ও দেবরুদ্দিন রয়েছেন।
শাহদারা পুলিশের উপকমিশনার রাজেন্দ্র প্রসাদ মীনা জানান, প্রায় ২৫ বর্গগজ জায়গার ওপর ভবনটি নির্মিত হয়েছিল। দুর্ঘটনার সময় ভবনের ভেতরে সাত থেকে আটজন ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আটজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব দিল্লির জেলা প্রশাসক অজয় কুমার জানান, ভবনটির পাশের একটি স্থাপনা ভাঙার কাজ চলছিল। ওই কাজের সময় যন্ত্রের কম্পনের কারণে চারতলা ভবনটি ধসে পড়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
তিনি জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো দুই থেকে তিনজন আটকে থাকতে পারেন। তাদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় জনবল মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, এমসিডি, ডিডিএমএ, ক্যাটস ও এনডিআরএফের সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ভবন ধসে সাতজন নিহত হয়েছিলেন। এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবারও ভবনধসের ঘটনায় প্রাণহানিতে দিল্লিতে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
















