দেশ ও মানুষের কল্যাণে এবং সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত সেবামূলক অরাজনৈতিক সংগঠন “সেবক”-এর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য সড়ক ও যানবাহন ব্যবহার সম্পর্কিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ১৩ নম্বর রোডের এ ব্লকে অবস্থিত ফোকাস স্কুল প্রাঙ্গণে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মনসুর আহমেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার মো. আব্দুল বারী, ফোকাস স্কুল ঢাকার সিইও নূরজাহান মুক্তা, হেড অব স্কুল জাহানারা বেগম এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক (ভাইস প্রিন্সিপাল) মুন মুন শিরিয়া।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সেবক সংগঠনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও টিআইবি সদস্য ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা এবং শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সেবক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক খান মো. বাবুল।
ইফার মউশিক প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, “এই ধরনের প্রশিক্ষণ বাংলাদেশের প্রতিটি স্কুলে করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারি-বেসরকারিভাবে এ পর্যন্ত যতগুলো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে সেবকের এই স্কুল কর্মসূচিটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর বলে আমি মনে করি। সেবক যে ২২টি বিষয়ের ওপর ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে, এই বিষয়গুলো সবার জানা থাকলে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ার আর কোনো আশঙ্কা থাকবে না বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। ওরাই আগামী দিনে গাড়ির মালিক হবে, যাত্রী, পথচারী অথবা চালক হবে। ওরাই গড়বে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটমুক্ত নতুন বাংলাদেশ।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. আব্দুল বারী বলেন, “সেবক সংগঠন তার নিজস্ব অর্থায়নে যে প্রকল্প চালু করেছে, তা অতি দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া তাদের পক্ষে কঠিন এবং এতে অনেক সময় লাগবে। সেবকের এই কর্মসূচিটি যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়, ততই আমাদের দেশের জন্য মঙ্গল। সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ সঠিকভাবে সড়ক ও যানবাহনের ব্যবহার না জানা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বিষয়ে আমরা অজ্ঞ। তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কর্মসূচিটি দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।”
বিশেষ অতিথি নূরজাহান মুক্তা বলেন, “সেবক সংগঠন আজ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। সেবক যে বিষয়গুলো আমাদের বাচ্চাদের শেখাল, তার অনেকগুলোই আমরা জানতাম, তবে বিস্তারিত জানতাম না; অনেক কিছুই আমাদের অজানা ছিল। আজ আমরা বুঝতে পারলাম, দামি গাড়ি কেনার আগে গাড়ি ও সড়কের সঠিক ব্যবহার জানা জরুরি। বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকে সড়ক ও যানবাহনের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে শিক্ষা দিতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে। আমাদের সন্তানেরা সড়কে নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে চলাচল করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
ফোকাস স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক মুন মুন শিরিয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কর্মশালার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী বিপুল বলেন, “আমি সেবক সংগঠনের জন্মলগ্ন থেকে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। রোড সেফটি নিয়ে সেবকের কার্যক্রমগুলো আমাকে মুগ্ধ করেছে। সেবক সদস্যদের মধ্যে আন্তরিকতা ও সততার কোনো ঘাটতি নেই। সেবক সদস্যরা তাদের নিজস্ব অর্থায়নে এ পর্যন্ত ৯ হাজার মোটরগাড়ি চালককে বিনামূল্যে ‘ডিফেনসিভ ড্রাইভিং’ প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাদের মধ্যে দুর্ঘটনার হার শূন্য। করোনা মহামারি, বন্যা ও গণঅভ্যুত্থানে সেবকের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। আমি মনে করি, সেবক সংগঠনের পরিকল্পনা ও মডিউল অনুযায়ী ডিফেনসিভ ড্রাইভিং এবং জুনিয়র রোড সেফটি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব।”
এই সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সার্বিক সহযোগিতা করেছে এ. এইচ. খান অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড এবং নাইশা এন্টারপ্রাইজ।

















