জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালী ইউনিয়নের উপর শিয়ালা গ্রামে সংবাদ সংগ্রহকালে বাধা এবং সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাংবাদিক জামাল উদ্দিনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি দৈনিক অপরাধ দমনের ক্রাইম রিপোর্টার, দৈনিক দেশেরপত্র-এর ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি।
জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর (বুধবার) বিকেল ৩টার দিকে উপর শিয়ালা গ্রামে সাবেক ইউপি সদস্য মাহমুদার বাড়ির আঙিনায় হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বৈঠকটি আয়োজনের আগে স্থানীয় কয়েকটি মাদ্রাসার কিছু ব্যক্তি গ্রামে একত্রিত হয়ে হেযবুত তওহীদ সম্পর্কে বিভিন্ন নেতিবাচক ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। এ সময় হেযবুত তওহীদকে ‘ঈমান-আকিদা নষ্টকারী দল’, ‘ইহুদি দালাল’, ‘খ্রিষ্টান’ ও ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়ে ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বাধার মুখে হেযবুত তওহীদের নির্ধারিত উঠান বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায়। এ ঘটনায় ওই গ্রামের স্থানীয় সাবেক পুলিশ সদস্য আশরাফুল ইসলাম নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে সাংবাদিকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, বাসাজ’র তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

পরবর্তীতে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আশরাফুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। হেযবুত তওহীদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তাদের গ্রামে হেযবুত তওহীদের কোনো ধরনের কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না।
সংগঠনটি সরকারিভাবে নিষিদ্ধ কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, হেযবুত তওহীদ নিষিদ্ধ হোক বা না হোক, তারা সংগঠনটি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনার পর ‘আক্কেলপুরে হেযবুত তওহীদের অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা, গ্রামজুড়ে আতঙ্ক’ শিরোনামে একটি সংবাদ একাধিক প্রিন্ট ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংবাদটি প্রকাশের পর মুঠোফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘Ashraful Islam’ নামের একটি আইডি থেকে সাংবাদিক জামাল উদ্দিনকে উদ্দেশ করে বলা হয়, ‘তোর কপাল খারাপ আছে।’ এ ছাড়া সংবাদে বাধা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, ‘আরে শালা, বাধা দিলে তো আমি দিয়েছি, তো আমার নামে কিছু লিখলে না কেন?’
পাশাপাশি ওই গ্রামে সাংবাদিককে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক জামাল উদ্দিন।
এ ঘটনায় সাংবাদিক জামাল উদ্দিন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
















