জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে নির্ধারিত একটি জনসচেতনতামূলক উঠান বৈঠক স্থানীয় উগ্র গোষ্ঠীর বাধার মুখে স্থগিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘তৌহিদী জনতা’র পরিচয়ে লোকজন জড়ো করে এই বাধা দেওয়া হয় এবং সংবাদ সংগ্রহে গেলে সাংবাদিকদের হেনস্তার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় উপজেলার রায়কালী ইউনিয়নের উপর শিয়ালা গ্রামে সাবেক ইউপি সদস্য মাহমুদার বাড়ির উঠানে ওই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, মব সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠককে কেন্দ্র করে ‘তৌহিদী জনতা’র পরিচয়ে স্থানীয় কয়েকজন ও মাদ্রাসার ছাত্র সেখানে জড়ো হন। এ সময় হেযবুত তওহীদের কার্যক্রমের বিরোধিতা করে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় নির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করা হয় বলে জানা গেছে।
জামায়াত-শিবিরের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ছাত্রশক্তি নেতা তোফাজ্জল বহিষ্কার

ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গেও উপস্থিত কয়েকজনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকরা ঘটনাটি ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে হেযবুত তওহীদ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ কি না, এমন প্রশ্ন করা হলে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিকদের ‘হেযবুত তওহীদের দালাল’ ও ‘হলুদ মিডিয়া’ বলে আখ্যা দেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা আক্কেলপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) স্বপন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তিনি উপস্থিত লোকজনকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
বৈঠকের জন্য স্থান নির্ধারণ করা সাবেক ইউপি সদস্য মাহমুদা বলেন, হেযবুত তওহীদের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী উগ্রবাদ, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও ধর্মের প্রকৃত আদর্শ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যেই তার বাড়ির উঠানে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা ছিল।
মাহমুদা বলেন, স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসার কিছু লোক আমার বাড়ির সামনে রাস্তায় এসে জড়ো হতে থাকেন। কেন তারা একত্রিত হচ্ছেন, তা আমি জানি না। তারা নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার স্লোগানও দিতে থাকেন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা নিউজ ধারণ করতে এসেছেন, তারা কী অপরাধ করেছেন? তাদের হুমকি দেওয়া বা হেনস্তার চেষ্টা করা হলে এটা কেমন ধর্মচর্চা?
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, হেযবুত তওহীদের বক্তব্য শুনতে আগ্রহী এমন লোকজনও সেখানে ছিলেন। তার দাবি, নির্ধারিত কর্মসূচির সময়ের আগেই বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন এবং হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে ‘নাস্তিক’, ‘কাফের’, ‘মুরতাদ’ ও ‘ইসলামের দুশমন’, এ ধরনের মন্তব্য করা হয়।
মাহমুদার দাবি, হেযবুত তওহীদের সদস্যরা অনুষ্ঠানস্থলে আসার আগেই কর্মসূচি বন্ধের চেষ্টা করা হয়। তিনি বিষয়টিকে হতাশাজনক ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে হেযবুত তওহীদের জয়পুরহাট জেলা সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতা করে আসছে। তার দাবি, হেযবুত তওহীদ ধর্মের নামে ব্যবসার বিরোধিতা করে এবং দেশের প্রচলিত আইন মেনে সভা, সেমিনার, পথসভা ও হ্যান্ডবিল বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি উগ্র গোষ্ঠী তাদের কর্মসূচির বিরুদ্ধে লোকজন জড়ো করে সাধারণ মানুষকে তাদের বক্তব্য শুনতে দিচ্ছে না। তার ভাষ্য, কোনো সংগঠনের বক্তব্য জনগণ গ্রহণ করবে কি না, সেটি জনগণের বিষয়, তবে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ সবার থাকা উচিত।
মাসুদ রানা বলেন, আমাদের কথা মানুষ শুনবে, এরপর আমাদের বক্তব্য গ্রহণ করবে কি না, সেটা জনগণের সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমাদের কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।
এ বিষয়ে মিছিলকারীদের বক্তব্য নিতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের হেনস্তা করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, মুঠোফোনে স্থানীয় লোকজন আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। আমি পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই পুলিশ পাঠিয়েছি।
















