স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ দিলদার হাসান দিলু এবং কোষাধ্যক্ষ মোঃ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে ফেডারেশনের তহবিল থেকে ১৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৮০ টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়কে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রশ্ন তুলেছেন খোদ ফেডারেশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম। সভাপতি ও কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন ছাড়া অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলু ও কোষাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দেন তিনি। বিগত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিগত ০৭/১০/২০২৬ ইং তারিখে এ নোটিশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপিকে বিজয়ী করতে হবে: আসিফ মাহমুদ!

শোকজের চিঠিতে ফেডারেশনের তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। সভাপতি সাইফুল ইসলামের দাবি, ব্যাংক হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্বাক্ষর পদ্ধতি অনুসরণ করা হলেও অর্থ উত্তোলনের জন্য যথাযথ অনুমোদন থাকা প্রয়োজন। সভাপতি কিংবা কার্যনির্বাহী কমিটির সম্মতি ছাড়া এভাবে অর্থ উত্তোলন সঠিক প্রক্রিয়া নয় বলেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে।
তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তারা জবাব দেননি বলে উশ্মা প্রকাশ করেন সভাপতি। যদিও পরবর্তীতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অভিযুক্তরা। নোটিশ পাঠানোর ১০ দিন পর, গত ১৮ অক্টোবর ‘সরি’ বলে জবাব দিয়েছেন অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা।
উক্ত নোটিশে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশন পরিচালিত সোনালী ব্যাংক স্টেডিয়াম শাখা এর হিসাবে ১৮/০৭/২০২৬ ইং তারিখ হইতে ০৩/১০/২০২৬ ইং তারিখ পর্যন্ত মোট ১৭,১৬,৩৮০/- (সতেরো লক্ষ ষোল হাজার তিন শত আশি) টাকা সঞ্চিতো ছিল। এই টাকা কার্যনির্বাহী কমিটি কিংবা সভাপতির অনুমতি না নিয়ে সাধারণ সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষ নিজের ইচ্ছাধীন ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে খরচ করেছেন।
এ বিষয়ে সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তারা দুটি ভুল কাজ করেছে। প্রথমত ব্যাংক থেকে চেক নিয়ে এসেছে এবং সেই চেক দিয়ে অর্থ উত্তোলন করেছে আমাদের অগোচরে। দ্বিতীয়ত, সেই খরচের কোনো অনুমোদন নেয়নি।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলুর বক্তব্য ভিন্ন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর এক সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হলে সেখানে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও তাঁকে শোকজ করা হয়েছে।’
অর্থ উত্তোলন নিয়ে আপত্তি তোলার পাশাপাশি এবার খরচের পূর্ণাঙ্গ হিসাব চাইছেন সভাপতি। সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘১৭ লাখ টাকার এই অঙ্ক আমাদের জন্য অনেক বড় বিষয়। তাই খুব শিগগিরই সভায় বসব। সেখানেই এই পরিমাণ অর্থ খরচের হিসাব চাওয়া হবে। এরপর অভ্যন্তরীণ অডিট করব। তারা খরচের সন্তোষজনক হিসাব দিতে না পারলে তাদের কাছ থেকে অর্থ চাওয়া হবে।’
ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ এই বিরোধের গুরুত্ব বেড়েছে শোকজের চিঠির অনুলিপি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) চেয়ারম্যান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব, এনএসসির নির্বাহী পরিচালক ও এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) কেও পাঠানোর ঘটনায়। এতে ফেডারেশনের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

















