কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগের পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করতে গিয়ে কুমারখালী থানায় ১৭ নেতাকর্মীকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ করেছে এনসিপি। দলটির দাবি, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার আশপাশ ঘিরে রাখায় তারা সেখানে আটকা পড়েছিলেন। তবে বিএনপি, ছাত্রদল ও পুলিশ—তিন পক্ষই অবরুদ্ধ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এজাহার দিতে কুমারখালী থানায় যান এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি, সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহাসহ ১৭ নেতাকর্মী।
জান্নাতুল ফেরদৌস টনি অভিযোগ করেন, রাত হয়ে যাওয়ায় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ থাকায় তারা এজাহারের কাগজ প্রস্তুত করতে পারছিলেন না। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতা চাইলে তিনি থানার কম্পিউটারে এজাহার লিখে দেওয়ার কথা বলেন। তবে পরবর্তী সময়ে নানা টালবাহানা করে শেষ পর্যন্ত এজাহার লিখে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

টনির অভিযোগ, একপর্যায়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা থানার আশপাশ ঘিরে ফেলেন। এতে এনসিপির নেতাকর্মীরা থানার ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে রাত ১টার দিকে পুলিশি পাহারায় তাদের কুষ্টিয়া শহরে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় তাদের ওপর মব হামলার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহাও মামলা নিতে পুলিশ নানা অজুহাত দেখিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, প্রথমে মামলা লিখে দেওয়ার কথা বলা হলেও রাত ১২টার দিকে জানানো হয়, থানায় মামলা লেখা সম্ভব নয়। এরপর বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের থানার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
থানার ভেতরে দুই শতাধিক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ঢুকে তাদের উদ্দেশে স্লোগান দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তালহা। তিনি এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বলেন, হামলায় কারা জড়িত ছিলেন, তা ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যাবে।
তবে এনসিপির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথাকাটাকাটির জেরে সেখানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
থানায় এনসিপির নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনও। তিনি বলেন, থানার ভেতরে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীরা ছিলেন। তবে কাউকে অবরুদ্ধ করা হয়নি।
এনসিপির মামলা না নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন ওসি। তাঁর ভাষ্য, এনসিপির নেতাকর্মীরা লিখিত এজাহার নিয়ে এলে তিনি মামলা নিতেন। কিন্তু তারা লিখিত এজাহার নিয়ে আসেননি। থানার কম্পিউটারে এজাহার লিখে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। হামলার ধরন বা কারা হামলা করেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত না থাকায় নিজের পক্ষ থেকে এজাহার লিখে দেওয়ার সুযোগ নেই।
তবে এনসিপির নেতাকর্মীদের পুলিশি পাহারায় কুষ্টিয়া শহর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ওসি। তিনি বলেন, তারা নিরাপত্তাহীনতার কথা জানালে পুলিশ প্রটোকল দিয়ে তাদের কুষ্টিয়া শহর পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ি থেকে গান শুনে বের হওয়ার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাঁর গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কাচ ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশি পাহারায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মাজার এলাকা থেকে বের করে আনা হয়। এরপর তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন বলে জানা গেছে। হামলার ঘটনায় পরবর্তী সময়ে মামলা ও তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

















