জন্ম থেকেই দুই হাত নেই, তবু থেমে নেই শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়ার জীবনসংগ্রাম। পা দিয়ে ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে শিশুদের পাঠদান করে চলেছেন তিনি। এবার তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ের নিবন্ধন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা এলাকার ‘প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন’ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। এ সময় তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক জানান, সম্প্রতি দেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে দুই হাতবিহীন শিক্ষক দুখু মিয়ার পাঠদান নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যালয়টির নিবন্ধন ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বাবা নেই, মায়ের স্বপ্ন পূরণে ১৩ মাসে হাফেজ হলেন নাঈম!

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন দুখু মিয়া বলেন, “বর্তমান সরকারপ্রধান আমার বিদ্যালয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, সেটা জেনে আমি আনন্দিত। আমার স্বপ্ন হচ্ছে এটিকে উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা। আশা করছি, সরকার ও প্রশাসনের সহায়তায় প্রতিভা দুখু মিয়া বিদ্যালয়টি সমৃদ্ধ হবে।”
১৯৬২ সালে জন্ম নেওয়া দুখু মিয়া জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। শৈশবেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন তিনি। তাঁর বাবা পাতিলের কালি ও পানি মিশিয়ে কঞ্চি ও কলাপাতায় লেখার মাধ্যমে তাঁকে পা দিয়ে লেখা শেখান। সেই অভ্যাসকে সঙ্গী করেই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি।
শিক্ষাজীবন শেষে চাকরির আশায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরেছেন দুখু মিয়া। কিন্তু হতাশ হয়ে থেমে না গিয়ে নিজের উদ্যোগে কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। বাবার দেওয়া জমি বিক্রির টাকা যোগ করে ২০০৭ সালে নিজের পৈতৃক জমিতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন’।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। নিজের দুই হাত না থাকলেও পা দিয়েই প্রতিদিন শিশুদের পাঠদান করছেন দুখু মিয়া। তাঁর স্বপ্ন, বিদ্যালয়টি একদিন উচ্চ বিদ্যালয়ে রূপ নেবে এবং আরও বেশি শিক্ষার্থীর শিক্ষার সুযোগ তৈরি করবে।

















