ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বিধবা নারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ছবি ও টিপসই নেওয়ার পর তার নামে ভুয়া কাবিননামা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই কাবিননামা দেখিয়ে ওই নারীকে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার করা হয়। ঘটনায় সামাজিকভাবে হেয় ও সম্মানহানির শিকার হয়ে বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগী নারী।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামে। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী প্রায় এক যুগ আগে মারা যান। প্রায় চার বছর আগে তার দ্বিতীয় ছেলের বিয়ের সময় স্থানীয় আব্দুল কুদ্দুছকে উকিল শ্বশুর করা হয়। সেই সূত্রে ওই পরিবারের সঙ্গে কুদ্দুছের পরিচয় ও যাতায়াত ছিল। স্থানীয় আব্দুস ছাত্তারের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে প্রতিবারই তিনি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রায় দেড় মাস আগে আব্দুস ছাত্তার তাকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলেন। এ কথা বলে কৌশলে তাকে নিজের দোকানে নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নেন। কয়েকদিন পর ফোন করে আবার দোকানে নিয়ে একটি খাতায় তার কাছ থেকে দুটি টিপসই নেওয়া হয়।
ওসিকে হুমকি দেয়া সেই বিএনপি নেতা সাগর বহিষ্কার

এর কিছুদিন পর আব্দুল কুদ্দুছের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ের একটি এফিডেভিট ও কাবিননামার কাগজ গ্রামের মানুষের কাছে দেখিয়ে প্রচার করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও সভাপতির কাছে বিচার দেন।
গত সোমবার সন্ধ্যায় পাটুলী গ্রামে এ নিয়ে শালিস বসে। সেখানে ভুক্তভোগী নারী তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন। তবে অভিযুক্ত আব্দুস ছাত্তার শালিসে উপস্থিত না থাকায় আগামী বুধবার আবারও শালিস বসার কথা রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কাবিননামাটিতে দেনমোহর ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৫০ হাজার টাকা আদায়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। এতে পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী অফিসের সীল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে আব্দুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম থাকলেও তারা বিয়ের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।
নাম উল্লেখ থাকা ওই দুই সাক্ষীর দাবি, আব্দুস ছাত্তার টাকার বিনিময়ে এ কাজ করেছেন এবং তার সঙ্গে আব্দুল হেকিম মাস্টার নামে আরও একজন জড়িত রয়েছেন।
তবে পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, কাবিননামায় তার সীল ও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। ওই কাবিননামা তৈরির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, ছবি ও টিপসই নেওয়া হয়েছিল। এখন এলাকায় তাকে আব্দুল কুদ্দুছের স্ত্রী হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এতে তিনি সামাজিকভাবে বিব্রত ও সম্মানহানির শিকার হয়েছেন। পাঁচ সন্তান ও নাতনি থাকা এই নারী ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক বলেন, বিএনপির কেউ ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছে—এমন কোনো ঘটনার সত্যতা তিনি পাননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ ভুক্তভোগীকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
















