বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে নতুন সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঢাকায় বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার, রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং ব্যবসা-বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন ব্যবসায়ী নেতা, অর্থনীতিবিদ ও শিল্প খাতের প্রতিনিধিরা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার ক্রিস্টাল বলরুমে ‘দ্য নিউ ডায়নামিকস অব বাংলাদেশ-ইউএস ট্রেড’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর ট্রেড অ্যান্ড ইমার্জিং বিজনেস সাবকমিটি এ আয়োজন করে।
গত ৫ থেকে ৭ নভেম্বর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ‘৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে সেমিনারটির আয়োজন করা হয়। অ্যামচেম ও ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে এ বাণিজ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্য, সেবা ও উদ্ভাবন তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগগুলোও উপস্থাপন করা হয়।
জিয়াউর রহমানের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়তে হবে: কৃষি মন্ত্রী

সেমিনারে পারস্পরিক বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় তৈরি হওয়া নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্প খাতে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়েও মতামত তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন অ্যামচেমের সহসভাপতি ও মেটলাইফ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কের পরিবর্তিত পরিস্থিতি তুলে ধরে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব-উর রহমানের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ফ্ল্যাক্সারের প্রেসিডেন্ট ও অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ, শাশা ডেনিমস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ এবং কটন ইউএসএর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলী আরসালান।
আলোচনায় বক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা এবং সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে পারস্পরিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রভাব এবং দেশীয় শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।
বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা, বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা এবং স্থিতিশীল বাণিজ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্প ও রপ্তানি খাতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
















