দেশের বাজারে আবারও বাড়ল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির দাম। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রোববার বিকেলে অক্টোবর মাসের জন্য নতুন এই দাম ঘোষণা করা হয়, যা একই দিন থেকে কার্যকর হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তার আগে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। ফলে সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত দামের তুলনায় অক্টোবর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ২৫২ টাকা।
এদিকে দাম বাড়ানোর ঘোষণার আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে এলপিজির সংকট ও বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বরের পর বাজারে এলপিজির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারিত থাকা ১২ কেজি সিলিন্ডার কোথাও কোথাও আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
৭০ বছর পর আসাম থেকে নৌপথে বাংলাদেশে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু!

এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কয়েকটি অপারেটর বড় ধরনের মুনাফা করার চেষ্টা করছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানো হলে শনিবার সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানিমন্ত্রী। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দেশের এলপিজি মজুত পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, দেশের চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। তাহলে বাজারে সংকট কেন তৈরি হয়েছে এবং কেনই বা গ্রাহকদের কাছ থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে—এ বিষয়ে লোটাব নেতাদের কাছে জবাব চাওয়া হয়।
তবে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লোটাব নেতারা। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশের বাজারে দাম বাড়ানো হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।
এলপিজির সংকটের পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলপিজি আমদানির খরচ কিছুটা বেড়েছে। এর সুযোগে কিছু অপারেটর এলপিজি মজুত করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি এলপিজি অপারেটর আগেভাগেই তাদের ট্যাংকারে এলপিজি মজুত করেছে। আবার কেউ কেউ ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বঙ্গোপসাগরের সীমার কাছাকাছি এলপিজিবাহী জাহাজ অবস্থান করিয়ে রেখেছিল বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।
বাজারে সংকট, নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির এমন পরিস্থিতির মধ্যেই অক্টোবর মাসের জন্য এলপিজির দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিল বিইআরসি। ফলে নতুন নির্ধারিত দামে এখন থেকে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হবে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

















