ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করতে গেলেই প্রায়ই চোখে পড়ে নানা পাটেকরের বিভিন্ন সিনেমার দৃশ্য। কখনো হাসির দৃশ্য, কখনো রাগী মুখভঙ্গি, আবার কখনো মজার সংলাপ—বছরের পর বছর ধরে এসব দৃশ্যই মিম ও ফানি কনটেন্টের জনপ্রিয় উপকরণ হয়ে আছে। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে নানা পাটেকর যেন হয়ে উঠেছেন অঘোষিত ‘মিম কিং’।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে গোয়ার মনিপাল হাসপাতালে মারা গেছেন বলিউডের শক্তিশালী এই অভিনেতা। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোক নেমে আসে ভক্তদের মধ্যে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরে আসে তার অভিনীত বিভিন্ন জনপ্রিয় চরিত্র ও দৃশ্য। যে মানুষটির অভিনয়ে দর্শক কখনো হেসেছেন, সেই দৃশ্যগুলোই এখন তাকে স্মরণ করার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
নানা পাটেকরের মিম-জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ তার অভিনীত ‘ওয়েলকাম’ সিনেমার উদয় শেঠি চরিত্র। সিনেমাটির বেশ কিছু দৃশ্য ও সংলাপ পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়। চা খেতে খেতে তার অট্টহাসির দৃশ্যটি এখনো বিভিন্ন ফানি কনটেন্টে নিয়মিত ব্যবহার করা হয়।
দেব-শুভশ্রীর ‘দেশু ৭’-এর যে দৃশ্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা!


একই সিনেমার ‘যা পুচকে আ’ সংলাপটিও ব্যাপক জনপ্রিয়। দৃশ্যে এক সহকারী উচ্ছ্বাস নিয়ে প্রশ্ন করলে তাকে ইয়ট থেকে পানিতে ফেলে দিয়ে উদয়ের সেই সংলাপ—‘যা পুছকে আ’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলাদা এক মিম টেমপ্লেটে পরিণত হয়েছে।
‘কন্ট্রোল উদয়, কন্ট্রোল’—নানা পাটেকরের আরেকটি জনপ্রিয় সংলাপ। নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা উদয় শেঠির এই দৃশ্যও অসংখ্য মিম ও ফানি ভিডিওতে ব্যবহৃত হয়েছে। একই সিনেমার ‘আলু লে লো’ দৃশ্যটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ পরিচিত।

তবে শুধু ‘ওয়েলকাম’ নয়, নানা পাটেকরের আরও অনেক সিনেমার দৃশ্য মিম-সংস্কৃতিতে জায়গা করে নিয়েছে। ‘ক্রান্তিবীর’ সিনেমায় মাচায় শুয়ে তার সেই অট্টহাসির দৃশ্য এখনো বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয়।
‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ সিনেমায় সমুদ্রসৈকতে আনন্দ নিয়ে দৌড়ানোর দৃশ্যটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল ব্যবহৃত। দীর্ঘদিন পর ছুটি পাওয়া কিংবা কোনো আনন্দের মুহূর্ত প্রকাশ করতে অনেক মিমে ব্যবহার করা হয় দৃশ্যটি।

অন্যদিকে ‘ওয়াজুদ’ সিনেমায় স্যান্ডো গেঞ্জি, শর্টপ্যান্ট ও কাঁধে গামছা নিয়ে ঘরের কাজ করার দৃশ্যটিও বেশ জনপ্রিয়। ঝাড়ু দেওয়া থেকে রান্না—একাই ঘরের কাজ করা নানা পাটেকরের এই দৃশ্য ব্যাচেলর বা একাকী জীবনের নানা মজার পরিস্থিতি বোঝাতে মিমে ব্যবহার করা হয়।
অভিনয়ের বৈচিত্র্য ও শক্তিশালী চরিত্রের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের কাছে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন নানা পাটেকর। সিরিয়াস ও প্রতিবাদী চরিত্রের পাশাপাশি কমেডিতেও তার অভিনয় দর্শকদের হাসিয়েছে। সেই অভিনীত দৃশ্যগুলোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে নতুনভাবে জনপ্রিয় হয়ে তাকে মিম-সংস্কৃতির অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত করেছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়লে নানা পাটেকরকে গোয়ার মনিপাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার মৃত্যুতে বলিউড হারাল এক বহুমাত্রিক ও স্মরণীয় অভিনেতাকে।
















