চট্টগ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াত নেতা মোহাম্মদ ইসমাইলকে সাংগঠনিক চারটি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে ইসমাইল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মহানগর সংগঠন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারীর প্রবাসী স্বামী অভিযোগ করেছেন, ইসমাইলকে কেন্দ্র করে বাড়াবাড়ি করা হলে তাঁর স্ত্রীকে ব্যবহার করে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে একাধিক বৈঠকও হয়।
‘আওয়ামী লীগের নির্দোষ কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বাধা নেই’: শফিকুর রহমান

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসমাইলের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি ওই নারী স্বীকার করেছিলেন। প্রাণভয়ের কারণে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়।
জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ওই স্বামী তাঁর স্ত্রীর ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস নজরদারিতে রেখেছিলেন। পরে নারীর আত্মীয়স্বজনেরা ইসমাইলের সঙ্গে তাঁর কথিত সম্পর্কের বিষয়ে বিভিন্ন প্রমাণ মহানগর জামায়াতের কাছে জমা দেন।
অভিযোগ তদন্তে জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ অক্টোবর ইসমাইলকে চান্দগাঁও থানা আমিরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন ৮ অক্টোবর অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে মোহাম্মদ ইসমাইল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

















