ফুটবল মাঠে মারামারির জেরে এক ম্যাচেই ৫৩ জনকে লাল কার্ড দেখিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে ব্রাজিল। দেশটির অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলের একটি ম্যাচে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষের পর এই ঘটনা ঘটে। এর আগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৬টি লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড ছিল আর্জেন্টিনার দখলে।
রোববার ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস অঞ্চলে অনুষ্ঠিত মামোরে ও উবেরলান্দিয়ার মধ্যকার সেমিফাইনালের প্রথম লেগে এ ঘটনা ঘটে। ম্যাচে মামোরে ৩-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ম্যাচ রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় পরবর্তী সময়ে ৪০ জন খেলোয়াড় ও আটজন কর্মকর্তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। এর আগে ম্যাচ চলাকালেই আরও তিনজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছিলেন। এছাড়া উবেরলান্দিয়ার পরিচালনা পর্ষদের দুই সদস্যকেও বহিষ্কার করা হয়। সব মিলিয়ে বহিষ্কারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৩।
রাফিনিয়ার জোড়া গোলে অ্যাস্টন ভিলাকে উড়িয়ে বার্সেলোনার দাপুটে জয়!


দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে প্রায় ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন রেফারি।
ম্যাচ শেষে দুই দলের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, উবেরলান্দিয়ার কর্মকর্তারা মামোরের সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। অন্যদিকে মামোরের দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে স্বাগতিক দলের ড্রেসিংরুমে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
রেফারির প্রতিবেদনে সংঘর্ষের সূত্রপাত সম্পর্কে বলা হয়, মামোরের তৃতীয় গোল উদ্যাপনের সময় প্রতিপক্ষের ডাগআউটের দিকে বিদ্রূপাত্মক অঙ্গভঙ্গি করেন মামোরের ফুটবলার দাভি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উবেরলান্দিয়ার গোলরক্ষক কোচ পাওলো সার্জিও দিয়াস দোস সান্তোস তাকে মোকাবিলা করতে মাঠে ঢুকে পড়েন। এরপরই দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
রেফারি আরও জানান, সংঘর্ষের সময় বিভিন্ন ব্যক্তি হত্যাসহ নানা ধরনের সহিংসতার হুমকি দেন। এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে পুলিশের কাছেও অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

এর আগে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের ম্যাচে অ্যাতলেটিকো ক্লায়পোলে ও ভিক্তোরিয়ানো আরেনাসের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৩৬ জনকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। এতদিন এটিই ছিল এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড।
















