কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে পরিদর্শনে গিয়ে পাসপোর্ট তৈরি, নবায়ন ও সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তির কথা শোনেন তিনি।
এ সময় সেবাপ্রার্থীরা পাসপোর্ট তৈরি, নবায়ন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির অভিযোগ তুলে ধরেন। বিষয়গুলো তাৎক্ষণিকভাবে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. নুরুল হাফিজকে মুঠোফোনে জানান সংসদ সদস্য। পাশাপাশি ভোগান্তি নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। এ সময় দ্রুত পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলি। কিন্তু বাস্তবে তাঁদের মতো অত্যাচারিত মানুষ আর কেউ নেই। প্রতিটি সেক্টরে তাঁরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পাসপোর্ট অফিস, এনআইডি অফিস, জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে বিমানবন্দর—এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে তাঁরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন না।’
পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল প্রবাসীর একমাত্র ছেলের!

তিনি বলেন, সবকিছুই সরকারি দপ্তর। তাহলে প্রবাসীদের কেন এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হবে? কেন তাঁরা একটি জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন না? দেশে এসে পাসপোর্ট নবায়ন ও সংশোধন করতে গিয়েও প্রবাসীদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তাঁদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলা হলেও বাস্তবে তাঁরাই বেশি অপমানিত হচ্ছেন।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদানে দেশের অর্থনীতি গতিশীল হচ্ছে। বর্তমান সরকার গণমানুষের সরকার এবং প্রবাসীদের কল্যাণে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বিমানবন্দরে হয়রানি আগের তুলনায় কমেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, একসময় তা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. নুরুল হাফিজের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তিনি সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিক। আগামী রোববার থেকে হয়রানি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, বড় জেলা হিসেবে কুমিল্লার উত্তর ও দক্ষিণ অংশে দুটি পাসপোর্ট সাব-অফিস চালুর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এতে সাধারণ মানুষ সহজে পাসপোর্ট সেবা নিতে পারবেন। পাশাপাশি কুমিল্লায় একটি বিভাগীয় কার্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। উপযুক্ত স্থানে এ কার্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পাসপোর্ট অফিসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান সংসদ সদস্য। এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। পুলিশ সুপার পাসপোর্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পুলিশ মোতায়েনের আশ্বাস দিয়েছেন।

















